'আশ্রয়' উপন্যাসে সমাজকে ধাক্কা দিয়েছি: নির্জন

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

ছবি নিজস্ব

বর্তমান সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল ও জনপ্রিয় তরুণ লেখক ফরিদুল ইসলাম নির্জন। অমর একুশে গ্রন্থমেলা - ২০১৯ আসছে তার চতুর্থ গ্রন্থ ও দ্বিতীয় উপন্যাস 'আশ্রয়'।   বইটি বেশ আলোচনায় চলে আসেছে। বই ও লেখালেখি নিয়ে হাজির হয়েছেন দ্য পিপলস নিউজ ২৪ডটকম অনলাইনের নিজস্ব প্রতিবেদক নাসিম আহমেদ রিয়াদের সাথে। ফরিদুল ইসলাম নির্জনেরর সাথে একান্ত আলাপচারিতা।

* শুরুতেই আপনার উপন্যাস সম্পর্কে কিছু বলুন?

'আশ্রয়' উপন্যাস আমার চতুর্থ গ্রন্থ ও দ্বিতীয় উপন্যাস। আশ্রয় একটি সমাজ বিপ্লবের উপন্যাস। একটি সামাজিক আখ্যান। আপনি হয়তো জানেন হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে নারীদের সম্পত্তি শর্ত মাফিক ভোগ করতে পারবেন। বিক্রি করতে পারবেন না। তার ছেলে বা ভাই বা অন্য কোন পুরুষ আত্মীয় পাবে। যার স্বামী মারা যায় তার যদি কোন ছেলে না থাকে, থাকে মেয়ে। সেক্ষেত্রে তার স্বামীর জমির ভোগ করতে পারবে। বিক্রি বা মালিক হতে পারবে না। কতৃত্ব করবে তার দেবর বা অন্য পুরুষ। সেক্ষেত্রে একজন নারীর আশ্রয় কোথায়? একজন ডিভোর্সী নারী সমাজে আশ্রয় গ্রহণে কতোটা দুঃসময় পার করতে হয় তা তুলে ধরা হয়েছে?
এক্ষেত্রে একজন নারীর কি হতে পারে। সে কতোটা শোষিত বা বঞ্চিত বা লাঞ্চিত হচ্ছে সমাজে কাছের মানুষ থেকেই। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশ্রয় উপন্যাস।

* 'আশ্রয়' উপন্যাস একটি সমাজ বদলের উপন্যাস। এমন ভাবনা কিভাবে এলো?

আমি বর্তমান অনেক তরুণ লেখকের বই পড়ি। বর্তমান তরুণরা বেশিরভাগ বইয়ের প্লট দাঁড় করিয়ে ফেলছে প্রেম বা রোমান্টিক কাহিনী নিয়ে।  অামি চেয়েছি এই চিন্তা ধারার বাইরে কিছু করতে। সমাজকে একটু ধাক্কা দিতে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে। আমি তরুণ লেখক হলেও মনে করি সমাজের কাছে আমার কিছু দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতা থেকে আশ্রয় লিখেছি। সেই ভাবনার ফসল আশ্রয়।

* আপনি বলছেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লিখেছেন। সেক্ষেত্রে সমাজে কতোটা এই উপন্যাস প্রভাব ফেলবে?

সমাজ প্রভাব ফেলবে সেটা নির্ধারন করবে সমাজ কর্তারা। আমি শুধু সমাজের মানুষের কথা বলেছি। হিন্দু নারীরা কতোটা লাঞ্চিত বা বঞ্চিত হয় তা তুলে ধরেছি। আপনার যদি নারীদের শোষিত বা লাঞ্চিত হতে দেখতে ভালো লাগে সে দায় আমার।  সেটা আপনার ব্যথর্তা মনে করবো। আপনি জানেন ভারত, নেপালে হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার আইন পাশ হয়েছে।  আমাদের দেশে পাশ করলে সমস্যা কথায়। তাছাড়া আপনি দেখেন সতী দাহ প্রথা বিলুপ্তি হয়েছে, বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়েছে অথচ আমাদের দেশে হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার আইন পাশ হয় না। এখন চেষ্টা করেছি সমাজে একটা প্রভাব ফেলতে। বাকীটা আপনারা দেখবেন। মোটকথা আমি আশ্রয় উপন্যাসে সমাজকে ধাক্কা দিয়েছি।

* লেখালেখি ভাবনাটা কিভাবে এলো?
ছোটবেলা থেকেই পড়ার প্রতি ছিলো তুমুল আগ্রহ। যে বই দেখতাম সে বই পড়তে ভালো লাগতো। গল্প, কবিতা,  ছড়া পুরাতন পত্রিকা। সব বই পড়তেই ভালো লাগতো। পড়তে পড়তেই লেখার ভাবনা হয়। তখনতো চক শ্লেটে কবিতা আকতাম। পড়ে খাতা কলমে লিখতে থাকি। প্রথম প্রথম কবিতা লিখলেও এখন কথাসাহিত্য নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। কথাসাহিত্য নিয়ে কাজ করতেই ভালো লাগে।

* লেখালেখির ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রেরণা দাতা কে?

লেখালেখিতে সবচেয়ে প্রেরণা দিতেন আমার মা। তিনি আজ বেঁচে নেই। তিনি না ফেরার দেশে। বাবাও দিতেন। তবে ভয় পেতেন। মধ্যবৃত্ত পরিবার লেখালেখি থেকে দূরে থাকলে ছেলেটার জন্য মঙ্গল হবে। বাবার ধারণা ছিলো বেশি বই পড়লে পাগল হয়ে যায়। পরে যখন বই পড়ার প্রতি তুমুল ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বাবা আমাকে পাগল বলতেন।  মা বলতেন আমার পাগল সন্তানই ভালো। এখন বাবা বেশ উৎসাহিত করেন। বিয়ের পর সবচেয়ে সাপোর্ট পাচ্ছি আমার বউয়ের। সে কখনো বিরক্তি হয়নি। আশ্রয় বইটি লেখার পিছনে সে অনেক শ্রম দিচ্ছে। তাছাড়া বোন ও শুভকাঙ্খীদের ব্যাপক প্রেরণা আছে।

* আপনার ভবিষ্যৎ ইচ্ছে কী?

ইচ্ছে আমার অনেক। আমি সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। আমার লেখনী দিয়ে সমাজের মানুষকে কিছু দিতে চাই। সে ব্যাপারে আমি প্রতিশ্রুতিশীল।

* আপনার প্রত্যাশা পূরণ হোক। ধন্যবাদ আপনাকে।

নাসিম আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।






নামাজের সময়সূচি

সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩