শ্লীলতাহানির শিকার শিক্ষিকাকে অপসারণে মাঠে নেমেছে নিজ স্কুলের একটি চক্র

১৭ জুলাই, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

ছবি নিজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার পর এবার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি প্রভাবশালী চক্র আক্রান্ত শিক্ষিকাকেই অপসারণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ফৌজিয়া আলম বাবলী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, নিজ কর্মস্থল মিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপরে অনুমোদন নিয়ে আমি পাবনার টিটিসিতে উন্মুক্ত এম,এড কোর্স ভর্তি হয়ে কাস করছি। এ জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ছাত্রীনিবাসে রাত্রীযাপন ও শুক্রবারে কাস শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরতে হয় আমাকে।

গত ১১ জুলাই রাতে আমি টিটিসির ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা জরুরী কথা বলার জন্য আমাকে টিটিসির গেষ্ট রুমে ডেকে নেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা টিটিসির গেষ্টরুমের বাইরে তালা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলাকে আটকিয়ে রেখে পুলিশে সংবাদ দেয়। এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা’র বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করি। পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়। এ অবস্থায় আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি এবং আমার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপরে সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তবে তারা আমার ফোন রিসিভ করেননি। শনিবার যথারীতি কর্মস্থলে গিয়ে হাজির হয়ে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করি। এ অবস্থায় কতিপয় শিক্ষকের উস্কানীতে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী পাবনার বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় বিদ্যালয় ত্যাগ করি।
এ অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি আমাকে কোন প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গত ১৬ জুলাই শোকজ ও সাময়িক বরখাস্তের দুটি চিঠি পাঠায়। পরদিন ১৭ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে আমাকে অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করায় প্রভাবশালী ওই মহলটি।

সংবাদ সম্মেলনে ফৌজিয়া আলম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, যেখানে আমি নিজেই মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। সেখানে কোন প্রকার সহযোগীতা না করে বিদ্যালয় ও ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় ব্যক্তি আমাকে অপসারনের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। একদিকে তারা আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে। অপরদিকে পাবনা টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে আমাকে মোবাইল করে চাপ প্রয়োগ করছেন। এসব নিয়ে আমি ও আমার পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষিকা ফৌজিয়া আলমের বাবা বদরুল আলম বাবু আক্ষেপের সাথে বলেন, আমার মেয়ে ও আমাদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা হতাশ। যে পরিস্থিতিতে আমাদের দিন কাটছে তাতে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা কার কথায় মানববন্ধন করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্বান্ত মোতাবেক বিধান মেনেই শোকজ ও সাময়িক বরখাস্তের ২টি চিঠি এক সাথে পাঠানো হয়েছে।






নামাজের সময়সূচি

সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩