উল্লাপাড়ায় যোগাযোগ খাতে নব দিগন্তের সুচনা ৮২ কোটি টাকা ব্যায়ে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শুক্রবার

১৩ জুন, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

ছবি নিজস্ব

জয়নাল আবেদীন জয়ঃ
উল্লাপাড়ার গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে।   উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলক্রসিংএ আগামীকাল শুক্রবার ওভারপাস  নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে।  উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন ।   স্বাধীনতাপর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ক্রসিং এর উপর একটি ওভারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।  গণমানুষের দীর্ঘদিনের সেই দাবীটি বাস্তবে রুপ দিতে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগ প্রণিত এসংক্রান্ত একটি প্রকল্পে একনেক থেকে ৮১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী বাসযাত্রীরা জানান, এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আন্তনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন মিলে মোট ৩০টি ট্রেন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে থাকে।  সেই সাথে উক্ত লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করে কথিত মহাসড়ক দিয়ে দিন রাত মিলে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা,  রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৫ শতাধিক বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে থাকে।  এসব যানবাহন এই রেলক্রসিং অতিক্রমকালে দিন রাত মিলে রেল কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে ৩০ বার সিগন্যাল ফেলতে হয়। এসময় রাস্তার দুথপাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার করে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। ট্রেন অতিক্রম করার পর উভয় পাশের গাড়িগুলোতে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় ও দুরপাল্লার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহনকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। কয়েকজন যাত্রী জানান, প্রতিবার সিগন্যালে গড়ে ১০ মিনিট করে সময় ধরলে দিনরাত মিলে এখানে সবমিলিয়ে কমপক্ষে ৩০০ মিনিট গাড়িগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে গাড়িগুলো যেমন বিলম্বিত হয় তেমনি এর যাত্রীদেরকে পোহাতে হয় চরম বিড়ম্বনা।  আর এজন্য এই রেলক্রসিং এর উপর একটি ওভারপাস নির্মাণ খুব জরুরী হয়ে পড়ে।

উল্লাপাড়ার উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্বা গোলাম মোস্তফা জানান, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসন ও জনদাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম ও উল্লাপাড়ার (সিরাজগঞ্জ-৪) সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ রেল ও মহাসড়কের ক্রসিংএ ওভারপাস নির্মাণের জন্য প্রায় ৮২ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এই ওভারপাস নির্মাণ কাজ শেষ হলে  এখানে যানবাহনের বিলম্ব,  দুর্ঘটনা রোধ ও যাত্রীদের দুভোর্গ বহুলাংশে লাঘব হবে।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক জানান, ২৬৬.৫৭ মিটার রেলওয়ে ওভারপাসের সঙ্গে দুইপাশে ১০০ মিটার লম্বা দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৪.৫২ কিলোমিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক এবং ১.৮৭ কিলোমিটার এ্যাপ্রোচ সড়কের নিচে পার্শ^ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে এখানে ড্রেন নির্মাণ, সাইন, সিগন্যাল ও লাইটিং এর ব্যবস্থা থাকবে। এই ওভারপাস নির্মাণ করতে সময়  লাগবে প্রায় দুথবছর। এটি নির্মাণ শেষ হলে এই রেল ক্রসিংয়ে  আর সাধারন মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা থাকতে হবে না।

এদিকে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের পরিকল্পিত ধারাবাহিক উন্নয়নে উল্লাপাড়ার যোগাযোগ খাতে নব দিগন্তের সুচনা হয়েছে। তিনি গত সংসদ মেয়াদে এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার নানা ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। যার সিংহভাগই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হয়েছে। তানভীর ইমামের সু-পরিকল্পনায় চলতি সংসদ মেয়াদেও উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা নগরী ক্ষ্যত উপজেলার প্রতিটি গ্রামের যোগাযোগ সমস্য স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত করে রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ কালভাট নির্মাণ হওয়ায় দ্রুতই চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। দৃষ্টি নন্দন নতুন নতুন পাকা রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ কালভাট নির্মিত হওয়ায় উপজেলার দূর্গম এলাকা থেকেও আধুনিক সব যানবাহনে চড়ে মানুষ নির্বিগ্নে শহরে আসতে পারছে। কিছুদিন আগেও যা ছিল মানুষের কাছে স্বপ্নের মত। চলবিল অধ্যুষিত এই উপজেলার বন্য কবলিত দূর্গম এসব এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে ফসলী মাঠের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে আধুনিক পাকা সাবমার্জ রাস্তা-ব্রীজ কালভাট। এসব রাস্তা ঘাট, ব্রীজ-কালভাট নির্মাণ হওয়ায় বিল অঞ্চলের মানুষের জীবনে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এক সময় তাদের জীবন ছিল কষ্টের,অভিশাফের। এক সময় যে পথ ঘন্টার পর ঘন্টা পায়ে হেটে পাড়ি দিতে হত। সেই পথে সাবমার্জ রাস্তা,ব্রীজ-কালভাট নির্মাণের ফলে  দূর্গম বিল এলাকাতে এখন চলছে নিত্য নতুন সব আধুনিক যানবাহন। মানুষ এখন বাড়ি থেকে আধুনিক সব যানবাহনে চড়ে অল্প সময়ে শহরে আসতে পারছে। একই সাথে যে কোন মালামালও পরিবহন করতে পারছে। কিছুদিন আগেও এসব এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে রাস্তা ঘাট না থাকার দরুন হাসপাতালে আনতে পারতো না। ফলে গর্ভবতী মা সহ রোগাক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা অভাবেই মারা যেত। এখন কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত তাকে যে কোন যানবাহনে করে হাসপাতালে আনা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে বিনা চিকিৎসায় আর কেউ মারা যায় না। এসব সম্ভব হয়েছে সময় উপযোগী পরিকল্পিত এই রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ- কালভাট নির্মাণের ফলে। এভাবে পরিকল্পিতভাবে উল্লাপাড়া উপজেলার প্রতিটি গ্রামের যোগাযোগ  সমস্য চিহ্নত করে নির্মাণ করা হচ্ছে একের পর এক রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভাট। একই সাথে সংসদ সদস্য তানভীর ইমামে প্রচেষ্টায় এ উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চৈত্রহাটি এলাকায় একটি বিমানবন্দন নির্মাণের উ˜েদ্যাগ নেয়া হয়েছে। যা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সেটি নির্মাণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। এটি নির্মাণের উ˜েদ্যাগ দ্রুত এগিয়ে চলছে। উল্লাপাড়ায় একটি ষ্টেডিয়াম নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে সমান তালে। ফলে যোগাযোগ সমৃদ্ব এ উপজেলায় এখন শিল্প কারখানা স্থাপনের গুরুত্ব বাড়ছে।

চলতি বছরে এ উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে একাধিক রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ কালভাট নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম উল্লাপাড়া-উধুনিয়া সড়কটি প্রশস্ত করন সহ নতুন করে নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যায়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নির্মাণ শেষ হলে উল্লাপাড়ার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের আর যাতায়েতের কোন সমস্যই থাকবে না। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে এই রাস্তার উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আরেকটি  অংশ ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। এই রাস্তাটি নির্মাণের ফলে পাবনার ভাংগুড়া ও চাটমোহর উপজেলার সাথে উল্লাপাড়ার যোগাযোগ সহজতর ও দ্রুত হবে। উল্লাপাড়া উপজেলার ভদ্রকোল থেকে গয়হাট্রা পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে রাস্তা প্রশস্ত করন ও মেরামত ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

উপজেলার বড়হর বাজারের পাশে ফুলজোড় নদীর উপর ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি বড় ব্রীজ নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এটি নির্মাণ শেষ হলে এলাকার অন্তত ২০ টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের নৌকায় নদী পারা পারের সমস্য চিরতরে সমাধান হবে। একই সাথে কামারখন্দ উপজেলার সাথে উল্লাপাড়া উপজেলার আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজতর হবে। একই ইউনিয়নের বড়হর বাজার থেকে পাঁচিলা পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ চলছে। এতে হাটিকুমরুল ও বড়হর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়েত সমস্য  সমাধান হবে।
উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের তেতুলিয়া নদীর উপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ব্রীজ নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। বাড়ইয়া খালের উপর ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে ব্রীজ নির্মাণ শুরু হচ্ছে।
ইতিমধ্যে উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল বনপাড়া মহা সড়কে ২২কোটি টাকা ব্যায়ে প্রায় ১৬কিঃমিঃ রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।  উল্লাপাড়ার শ্রীকোলা থেকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহা সড়কের শাহজাদপুর পর্যন্ত ১৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ১০কিঃমিঃ রাস্তা মেরামত চলছে। এছাড়াও পুরো উপজেলায় একাধিক ছোট বড় রাস্তা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন চলছে। এর বাইরে শিঘ্রই আরো একাধিক বৃহৎ রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি ও সওজ বিভাগ।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান,উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা উল্লাপাড়া উপজেলায় যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলার প্রতিটি গ্রামের যোগাযোগ সমস্য চিহ্নিত করে তিনি সেগুলো বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি ইতিমধ্যে এ উপজেলার বন্যা কবলিত তিনটি ইউনিয়ন উধুনিয়া,বড় পাঙ্গাসী ও লাহিড়ী মোহনপুর এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভাট নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প দিয়েছেন। যেগুলো শিঘ্রই বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এসব ইউনিয়নের চেহারাই পাল্টে যাবে।
এদিকে একই ভাবে উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর রাস্তা ঘাট ব্রীজ কালভাট উন্নয়নেও ৫০কোটি টাকার আরেকটি বিশেষ প্রকল্প দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরো একাধিক প্রকল্প দেয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য মহোদয়ের নির্দেশে আমরা উল্লাপাড়া উপজেলাকে যোগাযোগ সমৃদ্ব  একটি আধুনিক ডিজিটাল উপজেলা গড়তে কাজ করছি।






নামাজের সময়সূচি

বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩