বাংলাদেশের ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

১৯ মে, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত ছবি

 অনলাইন ডেস্ক:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনবাংলাদেশের মহান স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমররূপকার।  বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজনখাঁটি মুসলমান।  বঙ্গবন্ধুর পূর্ব পুরুষ শেখ আউয়াল ইসলামপ্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত বায়জিদ বোস্তামী (রা.) এর শিষ্যত্বগ্রহণ করে তাঁর  সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে আসেন প্রথম। পরবর্তীতে তারই উত্তরপুরুষেরা বর্তমান গোপালগঞ্জজেলার টুঙ্গিপাড়ায় বসতি স্থাপন করেন।  জাতির পিতাবঙ্গবন্ধু হচ্ছেন ইসলাম প্রচারক শেখ আউয়ালের সপ্তমবংশধর।  বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেনএকজন সুফি চরিত্রের অধিকারী অন্যতম ধর্মপ্রাণমুসলমান ও ইসলামের প্রচার ও প্রসারের অন্যতম একজনধারক।

বঙ্গবন্ধু কখনও ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারকরেননি।  বাংলাদেশকে সকল ধর্মের সকল মানুষের জন্যশান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত শাসনামলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারেযে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা মুসলিম বিশ্বে বিরল।তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি,তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামেরপ্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি।

ইসলাম প্রচার-প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদানসমূহের একটিসংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো:

১) ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা: স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুবাংলাদশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে এক দিকে যেমনযুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দিলেন অন্য দিকেসহী ইসলাম প্রচার, প্রসার এবং গবেষণার জন্যসরকারিভাবে 'ইসলামিক ফাউন্ডেশন' প্রতিষ্ঠা করেন।বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারিঅর্থে পরিচালিত অন্যতম একটি বৃহৎ ইসলামিক সংস্থা।১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনেরপ্রকাশনা বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভাবেও স্বীকৃতি পাচ্ছে।

২) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন: ইসলামীআকিদাভিত্তিক জীবন গঠন ও দ্বীনি শিক্ষা সম্প্রসারণেরলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন।বঙ্গবন্ধুই প্রথম মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে স্বায়ত্তশাসন দিয়েএর নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।’জাগতিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় সাধনেরমাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকীকরণের পাশাপাশিমাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার দ্বার উন্মুক্তকরা এবং মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারিচাকরির নিশ্চয়তা ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করেছিলেন।

৩) টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার স্থান বরাদ্দ: বিশ্ব ইজতেমাশান্তিপূর্ণভাবে পালন  করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমান সর্বপ্রথম স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদীরতীরবর্তী জায়গাটি প্রদান করেন। সে হতে অদ্যাবধিতাবলিগ জামাত ওই স্থানে বিশ্ব ইজতেমা পালন করেআসছে। টঙ্গীতে বঙ্গবন্ধু এই স্থান বরাদ্দের বদৌলতেইবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ  মুসলিম এখানে সমবেতহয়ে ইসলামের  দ্বিতীয় বৃহৎ সম্মেলন করে যাচ্ছেন। এছাড়াতাবলিগ জামাতের কেন্দ্র নামে পরিচিত কাকরাইলমসজিদের সম্প্রসারণের দরকার হলে তখন রাষ্ট্রপ্রধানহিসেবে বঙ্গবন্ধু নির্দ্বিধায় কাকরাইল মসজিদকে সরকারিজায়গা বরাদ্দ দিয়ে এর সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করে দেন।

৪) হজ পালনের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা:পাকিস্তান আমলে হজযাত্রীদের জন্য কোনো সরকারিঅনুদানের ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা-উত্তরবাংলাদেশে প্রথম হজযাত্রীদের জন্য সরকারি তহবিলথেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেন। ফলে হজ পালনকারীদেরআর্থিক সাশ্রয় হয়। বঙ্গবন্ধু শাহাদাত লাভের পর যারাক্ষমতায় ছিলেন, তারা কথায় কথায় নিজেদের ইসলামেরসেবক দাবি করলেও তাদের আমলে সরকারি অনুদান বন্ধকরে দেয়া হয়েছিল।

৫) সীরাত মজলিশ প্রতিষ্ঠা: বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা ওপৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় সীরাত মজলিশ নামে একটিপ্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সীরাত মজলিশ ১৯৭৩ ও ১৯৭৪সালে রবিউল আউয়াল মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলউদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকারপ্রধান হিসেবেবঙ্গবন্ধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভউদ্বোধন করেছিলেন।

৬) বেতার-টেলিভিশনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচার: বঙ্গবন্ধুরশাসনামলে তারই নির্দেশে সর্বপ্রথম বেতার ও টেলিভিশনেগুরুত্বের সঙ্গে পবিত্র কোরআন ও তার তাফসীর এবংঅন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচার করার সুব্যবস্থা করেন।

৭) ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ), শবেকদর, শবেবরাতউপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা: ধর্মীয় দিবসসমূহযথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুই প্রথমবাংলাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন এবং উল্লিখিতদিবসসমূহের পবিত্রতা রক্ষার্থে সিনেমা হল বন্ধ রাখারনির্দেশনা দেন।

৮) মদ জুয়া নিষিদ্ধকরণ ও শাস্তির বিধান: ইসলামে মদজুয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইসলামের এই বিধানের প্রতিসম্মান প্রদর্শন করে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারীভাবেআইন করে এসব অপকর্ম নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং শাস্তিরবিধান জারি করেছিলেন।

৯) রাশিয়াতে প্রথম তাবলীগ জামাত প্রেরণের ব্যবস্থা:রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নে বিদেশ থেকে কেউ গিয়েইসলাম প্রচারের সুযোগ পেত না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুবাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়েইসলাম প্রচারের জন্য সর্বপ্রথম তাবলীগ জামাতের একটিদল রাশিয়াতে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।

এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বের সঙ্গেসুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে লাহোরেঅনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অধিবেশনেযোগদান করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এইসংস্থার অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়েই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহরমাঝে বাংলাদেশের স্থান করে দেন। ইসলামের প্রচার ওপ্রসারের ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমানের যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশেরইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।






নামাজের সময়সূচি

সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩