তারাবির নামাজ আট নাকি বিশ রাকাআত?

০৭ মে, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত

প্রশ্ন- রমাজানে ও অন্যান্য সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি রাত্রি জেগে ইবাদাত করতেন?

 

উত্তর- আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রাযি.) হতে বর্ণিত- তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমজান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) এগার রাকাআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না।

তিনি চার রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাকাআত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন।

‘আয়শাহ্ (রাযি.) বলেন, (একদা) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতরের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেন- আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। (২০১৩, ৩৫৬৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ১০৭৬)

সম্মানিত মুসলিম ভাই! উক্ত হাদিসটির ক্ষেত্রেও ১৩ রাকাআতের মত ব্যখ্য নিতে হবে কারণ উক্ত হাদিসটির শব্দের প্রতি লক্ষ্য করে দেখুন আয়শাহ (রা.) কে রমাজানের সলাত সম্পার্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি অন্য সমায়ের কথা উল্লেখ করেন অর্থাৎ ১২ মাস তাহাজ্জুদ ৪+৪+৩ = ১১ দ্বারা মাযহাবীদের ৩ রাকাআত বেতের প্রমাণিত হয়। সেটা আবার আমাদে লা-মাযহাবী ভাইগণ মানতে চান না। তাহলে?

সর্বোপরি উক্ত হাদীসে যে চার রাকাআতের সুন্দর্যতা ও দীর্ঘতা যা উম্মুল মুমিনিন বর্ণনা করেছেন এমন দু’রাকাআত সলাত জামাআত সহকারে ভারতবর্ষের ৩ দিনে, ৫দিনে খতমে উভয় দলের কেউ পড়েছে বলে মনে হয় না! তবে একাকী এখনো কেউ পড়ে থাকবে বা পড়ে।

এ সালাতের আরও দীর্ঘ সেজদার কথা যা পরবর্তী হাদিসটিতে উল্লেখ করা হয়েছে ৮/২০ এর বিতর্ক প্রিয় উভয় দলের কেউ উক্ত সুন্নাতের উপর জামাআতবদ্ধভাবে কোন দিন আমল করেছে বলে কোনো প্রমাণ আছে বলে আমার জানা নেই। কেন এটা কি সহীহ বুখারীর সহীহ হাদীস নয়? এসকল সহীহ সুন্নাহ বাদ দিয়ে ৮/২০ এর অহেতুক বিতর্ক কেন? যেখানে কম বেশির কথা সুন্নাহ দ্বারা স্বীকৃত।

১১২৩. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আয়শাহ্ (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদে) এগার রাকাআত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তার (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সেজদাহ এত পরিমাণ করতেন যে, তোমাদের কেউ (সেজদাহ হতে) তাঁর মাথা তোলার পূর্বে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফারয) সালাতের পূর্বে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ডান কাতে শুতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুয়াজ্জিন আসত। (৬২৬) (আধুনিক প্রকাশনী : ১০৫২)

১৯/৫. তাহাজ্জুদ ও নফল ইবাদতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ দান করা, অবশ্য তিনি তা আবশ্যক করেননি। '' তার মানে এটা ফরজ নয় বরং নফল। তাহলে বুঝা যাচ্ছে নফল বিষয়ে লড়ালড়ি করে মসজিদ ভাগাভাগি ঐক্য (ফরজ) নষ্ট করা কোন ভালো কর্ম বলে মনে হয় না।

১১২৯. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়শাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করলেন এবং লোক আরও বেড়ে গেল।

অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেন- তোমরা যা করেছ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এ আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে। এটা ছিল রমজান মাসের ঘটনা। (৭২৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ১০৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৬২)

১৯/৯. তাহাজ্জুদের সলাত দীর্ঘ করা।

১১৩৫. ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করেছিলাম। (আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন) আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী ইচ্ছে করেছিলেন? তিনি বললেন, ইচ্ছে করেছিলাম, বসে পড়ি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইক্তিদা ছেড়ে দেই। (মুসলিম ৬/২৭, হা- ৭৭৩, আহমাদ ৪১৯৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ১০৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

১৯/৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাহাজ্জুদের সলাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর ফলে তাঁর উভয় পা ফুলে যেতো।

وَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَ يَقُومُ حَتَّى تَفَطَّرَ قَدَمَاهُ وَالْفُطُورُ الشُّقُوقُ انْفَطَرَتْ انْشَقَّتْ.

‘আয়শাহ্ (রাযি.) বলেছেন, এমনকি তাঁর পদদ্বয় ফেটে যেতো। وَالْفُطُورُ অর্থ ‘ফেটে যাওয়া’ انْفَطَرَتْ ‘ফেটে গেল’।

১১৩০. মুগীরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত আদায় করতেন; এমনকি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’ পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হলে তিনি বলতেন, আমি কি একজন শুকরিয়া আদায়কারী বান্দাহ হব না? (৪৮৩৬, ৬৪৭১; মুসলিম ৫০/১৮, হাঃ ২৮১৯, আহমাদ ১৮২৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৬৩)

সম্মানিত মুসলিম ভাই বোনেরা! বলুন যারা আমরা তারাবি/তাহাজ্জুদ/কিয়ামুল লাইলের আৎ নাকি বিশ নিয়ে এত বিতর্ক করি কিন্তু একটু বুকে হাত দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে বলুনতো আমাদের তিন দিনে, পাঁচ দিনে, দশ দিনে, বিশ দিনে, খতম তারাবির দুদলের সলাতের সঙ্গে উল্লিখিত সহীহ হাদীসের রসূলের (সা.) পায়ের গোছা ফোলার সাথে কোন মিল আছে কি?

এভাবে সলাত আদায় করা কি সুন্নাত নয়? তাহলে মাযহাবী লা-মাযহাবী উক্ত সুন্নত প্রতিষ্ঠার জন্য কেন আমরা সচেষ্ট নই? আসলে কি আমরা সহীহ হাদীসকে ভালোবাসি মুখে মুখে বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই!

পরিশেষে আরজ করতে চাই ৮/২০ নফলের বিতর্ক ছাড়ুন। রাকাআত প্রলম্বিত না করে বরং রুকু সিজদা সলাত প্রলম্বিত করুন। মহান আল্লাহ আমাদের বিতর্ক পরিহার রমাজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তের রহমাত, বরাকাত, মাগফেরাতের মূল্যায়ন করে তা হাসীল করার তাওফীক দান করুন। আমিন।

চলবে...

লেখক : মুরাদ বিন আমজাদ, প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ মুসলিম উম্মা ফাউন্ডেশন।






নামাজের সময়সূচি

শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩