1. admin@thepeoplesnews24.com : admin :
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

রাঙামাটিতে সরকারি নির্দেশনা পালন না করায় ৯৫৪ মামলা, ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৪ শত টাকা অর্থদন্ড

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে



নির্মল বড়ুয়া মিলন, রাঙামাটি প্রতিনিধি :: করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রথম পর্যায়ে ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে গত ৭ জুলাই বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২য় পর্যায়ে ৭ জুলাই মধ্যরাত হতে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২ টা পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা পর পবিত্র ঈদুল আযাহা উদ্যাপন, জনসাধারনের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববতী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত ১৪ জুলাই বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ শিথিল রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা হয়। তবে এ সময়ে সর্ববস্থায় জনসাধারনকে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা ২১টি শর্ত দিয়ে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯)-এর বিস্তার রোধকল্পে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।
২৫ জুলাই থেকে ৩য় বারে সরকার ঘোষিত ১০ দিনের কঠোর লকডাউন চলমান রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা শহরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল সরকারি অফিস খোলা রয়েছে।

তবে চলমান কঠোর লকডাউনের ৯ম দিনে রাঙামাটি শহরের বনরুপা, তবলছড়ি ও রিজার্ভবাজার এলাকায় জনসমাগম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপেক্ষা করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। কঠোর লকডাউন চলাকালিন প্রজ্ঞাপনে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে কিন্তু এ বিধি মানা হচ্ছে না।
রাঙামাটি জেলা শহর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ জেলার সাথে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নৌপথে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
রাঙামাটিতে সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল-মোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ আছে।

বিধি-নিষেধ প্রজ্ঞাপনে সর্ববস্থায় জনসাধারনকে সর্তকাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এবিষয়টি প্রথমদিন কার্যকর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করতে দেখা গেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ঘোষিত ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে কঠোর লকডাউন চলাকালিন ১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে গত ৩১ জুলাই শনিবার পর্যন্ত একমাসে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় মোট ২১১ টা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সরকারি নির্দেশনা পালন না করায় ও মাস্ক পরিধান না করায় ৮১১ টি মামলা, ৮৩০ জনকে ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৭ শত টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এছাড়া চলমান লকডাউনে গত ১ আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় মোট ৩১ টা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় সরকারি নির্দেশনা পালন না করায় ও মাস্ক পরিধান না করায় ১৪৩ টি মামলা, ১৪৫ জনকে ৪৪ হাজার ৭ শত টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

জেলা সদরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কাউখালী, রাজস্থলী, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শোয়েব।

এদিকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলা সমুহের সাথে ভারতের সিমান্ত এলাকা থাকায় ভারতের ডেন্টা ভেরিয়েন্ট করোনা ভাইরাস জেলায় ছড়িয়ে পড়ার আশংকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইতোমধ্যে বরকল ও বাঘাইছড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম গুলিতে প্রতি ঘরে-ঘরে সর্দি জ¦র, কাশী ও মাথা ব্যথায় শত-শত লোক অসুস্থ কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়াতে এসব এলাকার লোকজন করোনা নমুনা পরিক্ষা করাতে পারছেন না। তাছাড়া প্রচারনার অভাবে এসকল এলাকার বাসিন্দারা জেলা শহরে এসে রাঙামাটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরিক্ষা করাতে আগ্রহী নয়।

মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে জেলার বরকল উপজেলার ৫ নং বড়হরিনার শ্রীনগর বাজারের বাসিন্দা শোভা চাকমা (৪৫) জানান, শ্রীনগর বাজার, রাঙ্গাপানিছড়া, উলুছড়ি, তৈবাং ও মারিশ্যাছড়া গ্রামসহ তাদের আশে-পাশের আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন দীর্ঘ কয়েক সাপ্তহ ধরে সর্দি জ¦র, কাশী, মাথা ব্যথা করোনা উপসর্গ জনিত রোগে ভুগছেন।
শোভা চাকমা আরো বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবরের সকলেই অদ্যবধি অসুস্থ রয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন এখনো সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত বলে তিনি জানান। বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) চলাকালিন সংক্রমন থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোকজনদের বাঁচাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা বৃন্দ এবং সরকারের নীতি নির্ধারক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিনীত আবেদন জানান পাহাড়ি নারী শোভা চাকমা।

এদিকে গত ২ আগস্ট থেকে ঢাকা থেকে করোনা ভ্যাক্সিন সরবরাহ না থাকায় রাঙামাটিতে ৪টি কেন্দ্রের করোনা টিকা প্রদান বন্ধ আছে। এছাড়া করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমনের বর্তমান পরিস্থিতি চলাকালিন ৩ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত রাঙামাটি পিসিআর ল্যাবে মোট নমুনা পরিক্ষা ১৭২৮০ জন, মোট রোগী সনাক্ত ৩০৫১ জন, মোট মৃত্যু ২৭ জন, ১ম ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে ৫৪০৮১ জনকে, ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে ১৯১৩৭ জনকে। সদর উপজেলা-২৮জন, কাপ্তাই উপজেলা-১৭, কাউখালী উপজেলা-৪, লংগদু উপজেলা-৩, বাঘাইছড়ি উপজেলা-২, বিলাইছড়ি উপজেলা-১, মোট-৫৫ জন নতুন করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমিত বর্তমানে মোট ৮১০ জন চিকিৎসাধীন আছে। রাঙামাটি সরকারি কলেজ নতুন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা রোগী ভর্তি আছে ৮জন। রাঙামাটিতে করোনা সনাক্তের হার ৩০.৮৬%।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা ফোকাল পার্সন ডা. মো. মোস্তাফা কামাল।
উল্লেখ্য, রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় করোনা (ভ্যাক্সিন) টিকা গ্রহনের আগ্রহ বেশী কিন্তু জনসংখ্যা হারে ঢাকা থেকে টিকা সরবরাহ নীতি পরিবর্তন করে টিকা চাহিদার অনুকুলে করোনা (ভ্যাক্সিন) টিকা সরবরাহের দাবি স্থানীয় জনসাধারনের।

দয়া করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
©২০১৫ ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized BY Limon Kabir