1. admin@thepeoplesnews24.com : admin :
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৮ অপরাহ্ন

ইছামতি নদীর উপরে একটি ব্রীজের অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ।

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৯ বার দেখা হয়েছে

রাব্বি হাসান হৃদয়ঃস্টাফ রিপোর্টার
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের সরাইচন্ডিতে ইছামতি নদীর উপর একটি ব্রীজের অভাবে অর্ধশত বছর যাবত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ও শিয়ালকোল ইউপির প্রায় ২৫-৩০ গ্রামের মানুষের। কৃষি পণ্য ধান, পাট ও সবজি পরিবহনে ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পারাপারের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে ভুগতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। ৫০ বছরের জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ও বহুলী ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ইছামতী নদী। জনসাধারনের নদী পারাপারের পয়েন্ট একমাত্র সরাইচন্ডি ঘাট। ঘাটটিতে ব্রীজ না থাকায় দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষকে অর্ধশত বছর যাবত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে যখন পানি কম থাকে তখন গ্রামবাসী বাঁশের সাকো নির্মাণ করে জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হয়। অনেক সময় সাকো পার হতে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। আর বর্ষায় সাকো তলিয়ে যাওয়ায় পারাপার হতে না পারায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভ্ক্তুভোগীরা বলছে, ব্রীজটির অভাবে ২৫টি গ্রামের কৃষক কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে পারছে না। নদীর পুর্বপাড়ে স্কুল-কলেজ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে কলেজে যেতে না পাড়ায় অকালে শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়ছে। গর্ভবতীসহ মুমুর্ষ রোগীকে সময়তো হাসপাতালে নিতে না পারায় অনেকে মারা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ২০ বছর যাবত নির্বাচনের আগে নেতারা ইছামতি নদীর উপর সরাইচন্ডি ঘাটে ব্রীজ নির্মানে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কোন সাড়া পাওয়া যায় না। ব্রীজটি নির্মাণ হলে ২৫ গ্রামের মানুষের ভাগ্য খুলে যাবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমানোসহ কৃষিপণ্যসহ বাজারজাতকরনে দ্রুত ব্রীজটি নির্মানের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, ২৫টি গ্রামে ধান, পাট, শাক-সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু নদী পার হতে না পারায় ন্যায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। দেখা যায়, ৪০ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে নিয়ে যে দামে বিক্রি করতে তা লোকসান গুনতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, ২৫টি গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের হাইস্কুল নদীর পুর্বপাড়ে অবস্থিত। যখন অল্প পানি থাকে তখন ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুকি নিয়ে বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপার হয়। আর যখন ভরামৌসুম তখন কেউ স্কুলে যেতে পারে না। এতে পড়াশোনার চরম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি জানান, পারাপারের অসুবিধার কারনে অনেক মেয়ের ভালো বিয়েও হচ্ছে না।
স্থানীয় মুরুববীরা বলছেন,বিএনপি নেতারা ব্রীজ নির্মানের আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ব্রীজ নির্মাণ করছে না। সব দলের নেতারা আসে আর আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ব্রীজ নির্মাণ হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ ও লোকমান জানান, ব্রীজটি নির্মাণ হলে এলাকার কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার উন্নতি ঘটবে। পণ্য পরিবহন সুবিধা হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ব্রীজটির জন্য মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, নদীটি ক্রমশ পার ভেঙ্গে প্রস্থ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রীজ নির্মানের সময়ক্ষেপন হয়েছে। তবে সম্প্রতি ব্রীজের ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই টেন্ডার আহবান করে ব্রীজটি নির্মাণ করা হবে।

দয়া করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
©২০১৫ ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized BY Limon Kabir