শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ১০:০৩
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর, ২, ২০১৯, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
  • 19 বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:

অযোধ্যার বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে দেশটির প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ আপিল করেন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদি।

রিভিউ আপিলে রাশিদি বলেন, রায়ে কিছু আইনি সমস্যা রয়েছে। তবে পুরো রায় চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

রাশিদি বলেছেন, এই মামলার প্রধান বিতর্কের বিষয় ছিল—মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ বানানো হয়েছে। আদালত বলেছেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ বানানোর কোনো প্রমাণ নেই। তাই মুসলমানদের দাবি প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায় দেওয়া হয়েছে উল্টো।

গত ৯ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতকির্ত জমি নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেন। ওই রায়ে আদালত ঘোষণা দেন, অযোধ্যার মূল বিতকির্ত জমিতে রামমন্দির বানানোর কোনো বাধা নেই। আদালতের রায়ে পুরো ২ দশমিক ৭৭ একর জমি রামমন্দির বানাতে দেওয়া হয়। তবে অযোধ্যাতেই একটি মসজিদ তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯২ সালে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে কয়েক শতক আগে নির্মিত বাবরি মসজিদে হামলা চালিয়ে একাংশ ধ্বংস করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। এতে ভারতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবি, বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির ছিল। রামমন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

জমির উপর নিজেদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অধিকারের লড়াই চলে যায় আদালতে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত জমির তিন ভাগের দুই ভাগ দেয় রামমন্দিরের পক্ষের দাবিদারদের, আর এক ভাগ বাবরি মসজিদ পক্ষকে। কোনো পক্ষই রায়ে সন্তুষ্ট না হলে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায় মামলা। এক দশক পর গত ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক রায়টি দেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ে রামমন্দিরের পক্ষের সংগঠনগুলো খুশি হলেও, বাবরি মসজিদ পক্ষ নাখোশ হয়।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন জানিয়েছিল, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করবে। এর আগে সর্বভারতীয় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ডিসেম্বরের মধ্যে তারা রায় চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন