শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ১০:৩৮
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর, ৩০, ২০১৯, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
  • 221 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাট বেতকান্দি গ্রামের রাস্তার পাশেই ছিল মানুষিক ভারসাম্যহীন খলিলের ভাঙা নড়বড়ে ঝুপড়ী ঘর ।শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী বুলি ও মেয়ে মিলি (১০) -কে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটাত পরিবারটি।

তাঁদের পাশেই ঘুমাত গৃহপালিত প্রাণী। ঘরের চারদিকে শীত নিবারণে দেওয়া ছিল পুরনো ছিদ্র টিন ও ছেড়া চট । বর্ষার সময় থাকে না কষ্টের সীমা। চালের ফুটো ও চারদিক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে পড়ত।

বেতকান্দি গ্রামের মকুল ও লিটনের মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারের করুণ কাহিনি শুনে মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন ছুটে যান অসহায় খলিলের অবস্থা সরেজমিন দেখতে।

মামুন বিশ্বাস উদ্যোগ নেন একটি নতুন ঘর ও প্রয়োজনী জিনিষ দেওয়ার জন্য খলিলের বিস্তারিত ঘটনা ও ছবি ফেসবুকে পোষ্ট দেন। ফেসবুকে পোষ্ট দেখে সাব্বির ৩৫ হাজার টাকা ও একজন প্রবাসী ৫ হাজার ১০০ টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে খুব দ্রুত ৮ ফুট ১৪ টিনের ঘর তৈরি করার ব্যবস্থা করেন।

খলিল নতুন ঘর পেয়ে অনেক অবাক হয়েছেন। কারন এতদিন কষ্ট করেছি। আমাদের কেউ কোন কিছু দেয় নাই।

আনন্দ খুশীতে আত্মহারা বুলি বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছিলাম এখন একটা মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। আপনাদের আন্তরিকতার কথা কখনো ভুলব না। আপনাদের জন্য মন থেকে দোয়া করবো।

খলিলের ছোট মেয়ে মিলি জানান,আমাদের এখন নতুন ঘর,টয়লেট, লেপ-তোশক পেয়েছি আমরা অনেক ভাল ভাবে ঘুমাতে পারবো।

স্থানীয় মুকুল হোসেন জানান, খলিল ঘর পাওয়ার যোগ্য, ঘর সহ সব কিছু দেওয়াতে এই এলাকায় একজন অসহায় মানুষ মাথা গোঁজার ঠাই হলো। ধন্যবাদ জানান মামুন বিশ্বাস কে, এই কাজে মুকুল নিজেও অনেক সহযোগিতা করেছেন।

মামুন বিশ্বাস জানান , সরেজমিনে ঘরটি দেখে নিজেদের খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। বর্তমান যুগে এ ধরনের ঘর থাকতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব। তাই উদ্যোগ নিয়ে ফেসবুকে কল্যাণে সংগ্রহীত টাকা দিয়ে খুব দ্রুত ঘর নির্মাণকাজ শেষ করেছি। আসলে আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি তাইলে আমাদের সমাজে অবহেলিত কোন মানুষ থাকবে না। আমাদের সবাইকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা দরকার।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন