বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, দুপুর ১:৫৪
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর, ২৯, ২০১৯, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
  • 28 বার দেখা হয়েছে

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:
চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম কমছে না। তবে পেঁয়াজের সংকট ও চাহিদার সামাল দিতে সরকারের অনুরোধে সাড়া দেওয়া বড় শিল্পগ্রুপগুলোর আমদানি করা পেঁয়াজ ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে জাহাজে দেশে আসতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ঢাকার মেঘনা গ্রুপের ৮০০ টন ও চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের ৭০০ টন পেঁয়াজে এসে পৌঁছেছে। এছাড়াও অন্য ছোট আমদানিকারকদের পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে আরও একাধিক জাহাজ।

অন্য শিল্পগ্রুপগুলোর মধ্যে সিটি গ্রুপের পেঁয়াজ আসতে আরও দুই দিন সময় লাগবে, এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ দেশে আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে দিয়ে ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত পেঁয়াজ আসা শুরু হবে।

চট্টগ্রাম দিয়ে প্রথমবার পেঁয়াজের বড় চালান আমদানির পর গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে কিছু হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। আর চীনের পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় দরে বিক্রি হয়েছে।

চট্টগ্রামভিত্তিক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, আমরা সাধারণত পেঁয়াজ আমদানি করি না। সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পেঁয়াজ এনেছি। বৃহস্পতিবার রাতে বন্দর থেকে ছাড় নিয়ে ২০০ টন পেঁয়াজ ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) আরও ৫০০ টন পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন বাজের পৌঁছাবে। এছাড়া আরও পেঁয়াজ আসার পথে রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ দিতে গিয়ে মনে হয়েছে দেশে পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে অনেক ফাঁরাক। আমার বিশ্বাস ছোট থেকে বড় আমদানিকারকরা মিলে যদি নিয়মিত সরবরাহ বাড়ায় তাহলেই পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে বাধ্য হবে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, দেশের বড় শিল্পগ্রুপগুলোর পেঁয়াজ আসায় বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে পুরোপুরি প্রভাব পড়েনি বলেও জানান তিনি। মিসর ও অন্যান্য দেশের পেঁয়াজ আসলে বাজারে প্রভাব পড়বে, পাশাপাশি দামও কমবে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং চীনের পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

জানা যায়, দেশের পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বড় শিল্পগ্রুপগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেয় এস আলম গ্রুপ। গ্রুপটি ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে। সিটি গ্রুপ আড়াই হাজার টন এবং মেঘনা গ্রুপও আড়াই হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেসব পেঁয়াজ আসতে দেরি হওয়ায় সরকার আকাশপথে বিমানে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। উড়োজাহাজে এস আলম গ্রুপ প্রতিদিন ১০০ টন করে পেঁয়াজ দেশে আনছে। যা রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে দুটি জাহাজ একটি হচ্ছে ‘মাউন্ট কেলেট’, আরেকটি হচ্ছে ‘ওইএল স্ট্রেইট’। দুটি জাহাজেই ৭৭৪ টন পেঁয়াজ আছে। আর বুধবার জেটিতে ভিড়া জাহাজ থেকে ৯০০ টন পেঁয়াজ নামানো হয়েছে। এসব পেঁয়াজ এসেছে তুরস্ক, মিসর ও চীন থেকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর এসে পৌঁছেছে। এসব জাহাজেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ রয়েছে। তবে পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন