বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, দুপুর ১:৫৪
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর, ২৮, ২০১৯, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
  • 23 বার দেখা হয়েছে

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতের পরও আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা আমন ধান চাষিদের। পোকামাকড় ও রোগবালাই কম হওয়ায় নতুন জাতের আমন ধানে ফলন ভালো হয়েছে।

কৃষকরা জানান, যদি সরকার গত বছরের ন্যায় মাঠ থেকে ধান ক্রয় করে তাহলে তারা ভালো দাম পাবে। ইতোমধ্যে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটায়।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার আনোয়ারায় ৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। তার মধ্যে বৈরাগ ইউনিয়নে ৬৫০ হেক্টর, বারশত ইউনিয়নে ৭৩০ হেক্টর, রায়পুরে ২৮০ হেক্টর, বটতলীতে ৭৯০ হেক্টর, বরুমচড়ায় ৭৬৫ হেক্টর, বারখাইনে ১ হাজার ১০ হেক্টর, আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে ৪৮০ হেক্টর, চাতরীতে ৫৫৫ হেক্টর, পরৈকোড়ায় ৩৮০ হেক্টর, হাইলধরে ৮৫০ হেক্টর ও জুঁইদণ্ডীতে ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষা করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ বছর ব্রি-৭৮০ ও বিনা-১৭ নতুন জাতের ধানের আবাদে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এ ধানে অন্যান্য ধানের তুলনায় শতকরা ২৫ ভাগ বেশি ফলন হবে। গত বছরের মতো এবারও উপজেলায় প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আড়াই মেট্রিক টন। কিন্তু প্রদর্শনী প্লটগুলোর ফলনের হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, এবার প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদন হবে সাড়ে তিন মেট্রিক টন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার ব্রি-৩২, ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৯ ও ব্রি-৫২ জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন পাওয়া গেছে ব্রি-৩৯ ও ব্রি-৪৯ জাতের ধান থেকে। এবার পরিমাণ মতো বৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই, পোকামাকড় তেমন না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলও তেমন ক্ষতি করতে পারেনি।

উপজেলার বারখাইনের তৈলারদ্বীপ, শোলকাটা ও বরুমচড়া, বটতলী, বৈরাগ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে এসব গ্রামের চাষিরা ধান কাটা ও মাঠের পাশেই ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এখনও সব জমির ধান কাটা হয়নি।

উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের দিঘির পাড় এলাকার কৃষক ফজল করিম বলেন, ‘আমি জমিতে এবার ব্রি-৩৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ভালো ফসল পেয়েছি।

বটতলী এলাকার চাষি বাদশাহ মিয়া (৪৭) বলেন, ব্রি-৫২ জাতের ধান বেশি পানিতে চাষাবাদ করা গেলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্যান্য ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আনোয়ারার ১১ ইউনিয়নে এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর ব্রি-৭৮০ ও বিনা-১৭ ধানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধানে শতকরা ২৫ ভাগ উৎপাদন বাড়িয়ে দেবে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। আশা করি চাষিরা লাভবান হতে পারবেন। ইতোমধ্যে উপজেলাজুড়ে আমন কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ের ভয় থাকলেও তেমন ক্ষতি করতে পারেনি, আমনের ফলন ভালো হয়েছে।’

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন