আজ ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টাঙ্গাইলের মেয়ে অর্পিতা কর্মকারের নতুন উদ্যোক্তা হয়ে সফল পথচলা

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন


রবিন তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

উদ্যোক্তা অর্পিতা কর্মকার। অর্পিতা কর্মকারের নতুন উদ্যোক্তা হয়ে সফল পথচলার কথা জানতে চাইলে অর্পিতা বলেন, আমি একজন নতুন উদ্যোক্তা এবং আমার সাথে আছেন আমার স্বামী চিরঞ্জিত কর্মকার, যিনি শুরু থেকেই আমার সাথে এবং পাশে ছিলেন। আমরা মূলত দু’জনে মিলেই অনলাইন ব্যবসায়ের কাজ শুরু করি। আমাদের উদ্যোগের নাম রঙ-বেরঙ।

ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিলো নিজে কিছু করার, নিজের পায়ে দাঁড়াবার। আমি সবসময় চেয়েছি নিজের একটা পরিচিতি গড়তে। সেই থেকেই মূলত অনলাইন ব্যবসায় জগতে আসা।
আমরা মূলত বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, থ্রী পিস ও গহনা নিয়ে কাজ করি। এরই মধ্যে আমরা মসলিন ও কাতান শাড়ি, তাঁতের থ্রী পিস এবং এ্যাণ্টিকের গহনায় অনেক সাড়া পেয়েছি। বর্তমানে মানুষ চায় ভিন্নতা। তাই সব সময়ই চেষ্টা করি সবাইকে ভিন্ন কিছু উপহার দিতে, যা গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করবে।

আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা টাংগাইলেই। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ অনার্স চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত আছি। করোনা সংকটের কারণে পরীক্ষা স্থগিত অবস্থায় আছে। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি আমার অনলাইন ব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করতে চাই। আমার অনলাইন জগতে পদার্পণ ২০২০ সালের ১৪ আগস্ট। এর আগে থেকেই ইচ্ছা থাকলেও আসোলে হয়ে ওঠেনি কখনো। গত এই আট মাসেই বুঝতে পেরেছি, “ব্যবসায়ের মূলমন্ত্র আসোলে সততা, ধৈর্য্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি”। এই তিনটে থাকলে কাউকে দমিয়ে রাখা যায় নাহ, সম্ভব না সেটা।

ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখেছি অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিচিত আর প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে। তাই আমি এক্ষেত্রে আমার বাবাকেই আদর্শ হিসেবে দেখি। আর মায়ের অবদানও বলে শেষ করা সম্ভব নয়। মোট কথা, শুরু থেকেই আমি আমার মা-বাবাসহ পুরো পরিবারকে পাশে পেয়েছি, সাথে পাশে পেয়েছি আমার কিছু বন্ধুবান্ধব আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের, যাদের কথা না বললেই নয়। তবে এক্ষেত্রে এমন অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতাও হয়েছে যা আমাকে ভেতর থেকে আরও শক্ত হতে সাহায্য করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে, কেউ কেউ আমাদের পেছন থেকে টেনে ধরে রাখতে চাইছে, তবুও আমরা হাল ছাড়িনি। শুধু মনে হয়েছে আমাদের নিজেদের দায় শুধু আমাদের নিজেদেরই।

অনলাইন ব্যবসা করতে গিয়ে প্রত্যেক দিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। সব সময় চেষ্টা করেছি সেগুলো ঠান্ডা মাথায় সামাল দিতে, যা আমাকে অনেক বড় সাহায্য করেছে।
আসলে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ক্রেতা-সন্তুষ্টি, যা আমরা শুরু থেকেই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সবসময় চেয়েছি পণ্যের মান ঠিক রাখতে। এটাই আমাদেরকে সবথেকে বেশি সহযোগিতা করেছে বলে মনে করি। ভবিষ্যতের কথা বলতে গেলে, ইচ্ছে আছে আমাদের এই উদ্যোগকে দেশের সাথে সাথে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে। ইতোমধ্যে আমরা তা করতে কিছুটা সক্ষমও হয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের পণ্য সুদূর আমেরিকা ও স্পেন গিয়েছে, এবং ক্রেতারা আমাদের পণ্য খুব সাদরেই গ্রহণ করেছেন। এটাই প্রাপ্তি আমার।
করোনা মহামারীর এই সময়ে যখন মানুষ ঘর থেকেই বের হতে পারছে না, তখন আসোলে অনলাইন ব্যবসায়ই ভরসা। আর এই ভয়াবহ সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতেও যেনো অনলাইন ব্যবসায়ের জুড়ি নেই। বিশ্ব যতো বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবে, অনলাইন ব্যবসায়েরও ততো প্রসার ঘটবে বলেই আমার মনে হয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ক্রেতাদের সতর্কতা অনেক জরুরী।

কে আসল বিক্রেতা, কে নকল, সেটা ক্রেতাকেই বুঝে নিতে হবে। বর্তমানে নকল বিক্রেতা যে হারে বেড়ে গিয়েছে, তাতে ক্রেতারাও কিছুটা বিভ্রান্তিতে ভুগছেন, যা কখনোই কাম্য নয়। তাই সবার উদ্দেশ্যেই বলতে চাই, যার যার নিজের সতর্কতায় কেনাকাটা করুন, এবং অবশ্যই বিশ্বস্ত বিক্রেতা, বিশ্বস্ত অনলাইন পেইজ থেকে কেনাকাটা করুন। আর অবশ্যই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং আপনজনকে সুস্থ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন