আজ ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নতুন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের নামে আবার নতুন করে লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সাথে নির্ধারণ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ) থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার বেঁধে দেয়ার আগে এনজিওরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ইচ্ছে মাফিক সুদ আদায় করত। গ্রাহকদের কাছ থেকে কী পরিমাণ সুদ আদায় করা হয় তার ওপর এমআরআর একটি জরিপ কার্যক্রম চালায়। এতে এনজিওরা তাদের বিতরণকৃত ক্ষুদ্র ঋণের ওপর গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত সুদ আরোপ করার প্রমাণ পায়। গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮৫ শতাংশ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরও বেশি সুদ আদায় করার প্রমাণ পায় এমআরএ। বিতরণকৃত ক্ষুদ্র ঋণের ওপর ২০ শতাংশ সুদ আরোপ করলেও যে প্রক্রিয়ায় কিস্তি আদায় করা হয় তাতে বছর শেষে সুদ তিন গুণে অর্থাৎ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চলে যায়। যেমন, ১০০ টাকার ঋণ বিতরণ করলে ২০ শতাংশ হারে বছর শেষে ১২০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু ১২০ টাকাকে ৫২ সপ্তাহ দিয়ে ভাগ করে যে দিন ঋণ বিতরণ করে ওই সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকের কাছ থেকে সম হারে কিস্তি আদায় করতে থাকে। এতে বছর শেষে প্রকৃত সুদহার পড়ে ৬০ শতাংশ।



এমআরএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুদহার নিয়ে এ জালিয়াতি বন্ধে এবং ক্ষুদ্র ঋণের সুদহার নির্ধারণের জন্য মাঠ পর্যায়ের এনজিওদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর এর ওপর একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করে তার ওপর মতামত নিতে একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সুদের হার চূড়ান্ত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন দেয়ার পর ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদের হারে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ২৭ শতাংশ, পরে ২৪ শতাংশ এবং সর্বশেষ ১৮ শতাংশ সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দেয়া হয়।



সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এমআরএ পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন করে লাইসেন্স দেয়া ও সর্বোচ্চ সুদহার হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে লাইসেন্সে দেয়ার প্রক্রিয়া ও সুদহার হালনাগাদ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এজন্য ১০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এমআরএ সূত্র জানায়, এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো। এর আগে আর দুই দফায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই দফায় লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের চরাঞ্চল, সীমান্ত অঞ্চল ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।



আবেদন দেয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে ওই সূত্র জানিয়েছে, আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশে প্রচলিত সোসাইটি অ্যাক্ট, ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ভলান্টারি সোসাইটি ওয়েলফেয়ার অধ্যাদেশ বা কোম্পানি আইনের যেকোনো একটিতে নিবন্ধিত হতে হবে। এসব আইনের আওতায় সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের স্থিতি থাকতে হবে। এসব যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হলে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হবে। অনুমোদন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে ন্যূনতম ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ১ হাজার এবং ঋণের স্থিতি কমপক্ষে এক কোটি টাকা হতে হবে। তাহলে ওই প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত সনদ লাভের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে। এ শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সাময়িক লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনজিওদের একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার জন্য প্রথমে ২০০০ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে মাইক্রোফাইন্যান্স রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স ইউনিট (এমআরআরইউ) গঠন করে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার গত ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি আইন ২০০৬ প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি নামে একটি পৃথক সংস্থা গঠন করা হয়। এর পর থেকে ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনা করতে তাদের লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রথম দফায় ২০০৬-০৭ অর্থবছরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে ৪ হাজার ২৪৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে লাইসেন্স প্রদান করা হয় ৭৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে। ২০১১-১২ অর্থবছরে দ্বিতীয় দফায় আবেদন করে ১ হাজার ২১২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লাইসেন্স প্রদান করা হয় ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে। দুই দফায় মোট ৮৮০টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন