শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, রাত ৯:১৩
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর, ২৩, ২০১৯, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
  • 58 বার দেখা হয়েছে
আরিফা আলম পলি

কিছু দিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মহোদয় আমার একটি স্ট্যাটাসে কমেন্টস করেছিলেন। আমার খুব ভালো লেগেছিলো এই ভেবে যে, এতো বড় মাপের একজন মানুষ তিনি। তারপরও আমার মতো নগন্য একজন শিক্ষকের স্টেটাসে কমেন্টেস করেন! এই কমেন্টসটি প্রত্যক্ষভাবে আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে। অশেষ ধন্যবাদ স্যারকে। আমি স্যারের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে অবশ্যই প্রথম হাতিয়ার হলেন একজন শিক্ষক। যেখানে শিক্ষকদের কমেন্টসে তাদের নিজ উপজেলার বা জেলার কর্মকর্তাগণ লাইক পর্যন্ত করেন না তাদের আত্মমর্যাদা বোধনিয়ে দাম্ভিকতা করেন । একজন শিক্ষকের স্টেটাসে কমেন্টস করলে আমাদের কর্মকর্তাদের যেনো স্টেটাস লঙ্ঘন হয় ( এ সত্য কথাটা না বলে পারা গেলো না)। সেখানে দেশের সর্বময় ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিটির এহেন কর্ম অবশ্যই মহানুভবতা বলে আমি মনে করি। স্যার এটাই প্রমাণ করলেন যে, অধস্তন কর্মচারীদের প্রতি সহনশীল হলে বা তাদের উৎসাহ দিলে স্ট্যাটাস কমে না বরং উনার প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধটা বহুগুণ বেড়ে যায়। আত্মসম্মান বেড়ে যায়। অতি কষ্টে লালিত এ মর্যাদা এতোটা ঠুনকো নয় যে, অফিসার হয়ে শিক্ষকের স্ট্যাটাসে লাইক বা কমেন্টস করলে তাদের জায়গা নেমে যাবে।

আমি অভিভূত, বাকরুদ্ধ! কতোটা মহৎ হলে একজন মানুষ এটা করতে পারেন! আমাদের শিক্ষাবান্ধব সচিব মহোদয় যেভাবে আমাদের শিক্ষকদের মর্যাদা, স্বীকৃতি বা উৎসাহ দিচ্ছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। স্যারের এহেন কর্ম স্যারকে আরো সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

ফেসবুকের কল্যাণে শিক্ষকদের স্ট্যাটাসে স্যারের এমন অসংখ্য উদাহরণ আমরা দেখতে পেয়েছি। কয়েকদিন আগে জয়পুরহাটের সহকারি শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান চঞ্চল ভাই, জাকির ভাইসহ কয়েকজনের স্ট্যাটাসে স্যারের কমেন্টস পড়ে স্যারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেলো। আজ আমি এ স্ট্যাটাসটি না লিখে পারলাম না। অনেক দিন পরে হলেও লিখতে উৎসাহিত হলাম এই কারণে যে, না লিখলে আমাদের শিক্ষকদের প্রতি স্যারের উদার মানসিকতার পরিচয়কে উপেক্ষা করা হবে। আমাদের শিক্ষকদের প্রতি স্যার যে কতোটা মনোযোগী অথবা কাউকে তিনি খাটো করে দেখেন না – তার সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ স্যারের এসব কমেন্টস। স্যার মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে বদ্ধ পরিকর। আর শিক্ষকদের প্রতি তাঁর এমন আন্তরিকতা সেই পথ প্রশস্ত করবে বলে আমি আশাবাদী।

স্যার প্রাথমিক শিক্ষার কল্যাণে যা করছেন তা অতুলনীয়। উনার বদৌলতেই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা আজ বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে পাল্লা দিচ্ছে। আমূল বদলে যাচ্ছে এ দেশের প্রাথমিক শিক্ষা। বিদ্যালয়ের এমন কোন স্তর নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পরছে না। শুধুমাত্র স্যারের আন্তরিক কর্ম তৎপরতায় এ দেশের প্রাথমিক শিক্ষা আজ উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। এ সকল কৃতিত্ব কেবল স্যারেরই প্রাপ্য।

প্রাথমিক অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ তিনি। কোন অনিয়ম তিনি বরদাস্ত করেন না। আমার স্কুলের একজন শিক্ষকের ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সাথে সাথেই সমাধান পেয়েছি। নাহলে হয়তো আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা কিছু সুফল ভোগ থেকে বন্ঞ্চিত হতো। আমি স্যারের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ স্যারকে।

আমি স্যারের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করছি। স্যারের চলার পথ আরো প্রশস্ত হোক। স্যারের পরিবারের প্রতি আমার শুভ কামনা রইলো। স্যারের সুস্হতা কামনা করছি। তিনি অনন্তকাল যেনো আমাদের সকলের কাছে শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় হয়ে থাকেন – সেই কামনাও করছি। ধন্যবাদ।

লেখক: সহকারী শিক্ষক

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন