আজ ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কাজিপুরে যমুনার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভবনা

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন


মোঃ শফিকুল ইসলাম, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা যমুনা নদী দ্বারা বিভক্ত চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়ন মনসুরনগর, খাসরাজবাড়ি, চরগিরিশ, নাটোয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিতপুরে, প্রতিবছর বন্যায় উজান থেকে নেমে আসে পলি মাটি, উর্বর কৃষি জমিতে ভুট্টা চাষে, ফলন বেশি, অন্য ফসলের তুলনায় লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় চাষিদ্রর ভাগ্য দ্রুত বদলে যাওয়ার সম্ভবনা।
কম খরচে, কম পরিশ্রমে,অধিক লাভজনক ভুট্টা, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে গমের স্থানকে দখল করে নিয়েছে।কৃষকের হাতের স্পর্শে সোনা ফলা সবুজের সমারোহে দিগন্ত মেতে ওঠা চরকে চর দেখা যায় অধিকাংশ ভুট্টার আবাদ।চরাঞ্চলের কৃষকরা ব্যস্ত এখন ভুট্টা চাষে এবং বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভবনায় কৃষকের মুখে হাসি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও নদীর পশ্চিম পাড়ে সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা, মাইজবাড়ী, শুভগাছা, কাজিপুর সদর ইউনিয়নের কিছু কিছু জায়গায় ভুট্টার চাষাবাদ করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম বলেন, চরাঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে সচেতন। সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে কৃষক যেন, অধিক লাভবান হয়, সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।আশার কথা, কাজিপুর উপজেলায় খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় কাজিপুরে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে, এবারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৮৬৪৩০মেট্রিক টন।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মাহামুদুল হাসান জানান, ভুট্টা চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে সময় মতো সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, জমি তৈরি, সেচ এবং বালাই দমনে সঠিক কিটনাশন প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টা বিঘা প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মন উৎপাদন হয়। চরগিরিশ ইউনিয়নের কৃষক শাহ জামাল (৬০) জানান, কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এবং কৃষি অফিসের প্রণোদনায় তার ২৫ বিঘা জমিতে সুপার সাইন ২৭৫৫ জাতের ভুট্টা চাষ করেছি, আশা করি, এবছর ভাল ফসল পাব। এছাড়াও এবছর ১৮ প্রকার জাতের মধ্যে ৯০০ এম গোল্ড, মিরাকেল,কাবেরী৫০, এনএইচ-৭৭২০ উচ্চফলনশীল ভুট্টা চাষ হচ্ছে।
ভুট্টার সবুজ পাতা গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং গাছ লাকড়ি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবরূত হয়।

পরিসংখ্যানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভুট্টার উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেলে ও দো- আশ মাটি চাষের জন্য উপযোগী। বাংলাদেশের আবহাওয়া সারা বছর ধরেই জন্মানো সম্ভব।
ভুট্টা যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যকর। ইহাতে আছে ভিটামিন এ, সি, ও লাইকোপেন এবং প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট। শুধু মানুষের খাবার নয় ভুট্টা, গবাদি পশু, হাঁসমুরগি এবং মাছের খাবার উৎকৃষ্ট মানের প্রমানিত।

ইতিমধ্যে শুধু চরাঞ্চলে নয়, লাভজনক হওয়ায় কাজিপুরের ১২ টি ইউনিয়নে কৃষকেরা ভুট্টা চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন