আজ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নওগাঁর মহাদেবপুর-শিবগঞ্জ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা – কর্তৃপক্ষ নীরব

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন



নাদিম আহমেদ অনিক:

উত্তরাঞ্চলের চালের রাজ্য হিসেবে পরিচিত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তা-ঘাঠে এখনোও স্পর্শ করেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। বছরের পর বছর সংস্কার না করায় বেহাল দশায় রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ মহাদেবপুর-শিবগঞ্জ সড়ক। কার্পেটিং, ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা তবুও জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলছে পথচারী। কোথাও কোথাও সড়কের দুধার ভেঙ্গে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাগবে সড়কটি সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর।

প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটির দুই প্রান্তে দুটি বড় হাট-বাজার ‘মহাদেবপুর ও শিবগঞ্জ’। এ দুটি বাজারে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনে একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটি দিয়ে উপজেলার উত্তরগ্রাম, সফাপুর ও সদর ইউনিয়ন এবং মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০হাজার মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করলেও সেটি সংস্কারে তেমন কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। রাস্তার কোথাও কোথাও ইট খোয়ার টুকরো পড়ে রয়েছে। পায়ে হেঁটে চলাচলের অযোগ্য। তারপরও লক্কর-ঝক্কর এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তাটি পাকা ছিল। এলাকাবাসী জানান, ২০০১-২০০২ সালের দিকে সড়কটি পাকা করা হয়। এরপর একবার সংস্কার হয়েছে। সংস্কারের কয়েক বছর পর থেকেই খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বেহাল দশায় পড়ে সড়কটি। তবে গত ৭-৮ বছরে আর কোন সংস্কার করা হয়নি। গত কয়েক বছর থেকে মহাদেবপুর বালুমহালের শিবগঞ্জ থেকে পাঠাকাঠা বাজার পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে বালু তোলা হয়। বড় বড় ট্রাক ও অবৈধ ট্রাক্টরে করে ওই সড়ক দিয়ে মাটি-বালু আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে সড়কটি আরও বেহাল হতে শুরু করে।

ইজিবাইক চালক আকরাম হোসেন, মকবুল হোসেনসহ অনেকেই বলেন, আমরা গরিব মানুষ, ইজিবাইক চালিয়ে রোজগার করে খাই। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রী পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং গাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে হয়। ফলে যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

দোহালী গ্রামের বাসিন্দা ওমল চন্দ্র বর্মণ, পল্লব কুমার হালদারসহ অনেকেই বলেন, সড়কের দুই মাথায় দুটি বড় হাট-বাজার মহাদেবপুর ও শিবগঞ্জ বাজারে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। সংস্কার না করায় ব্যস্ততম এই সড়কটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি। এই এলাকায় প্রচুর ধান-সবজি উৎপাদন হয়। কৃষকেরা ধান ও সবজি হাট-বাজারে নিতে বিভিন্ন গাড়ি ভাড়া করে। এই সড়কে যাতায়াত করলে গাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এই রাস্তা দিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা বড় বড় ট্রাকে করে বালু ও মাটি পরিবহন করায় নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই ধার ভেঙ্গে গিয়েছে। বেহাল এই রাস্তা দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সাজিদ বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সড়কটি সংস্কারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন