আজ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জের বনবাড়ীয়া এতিমের সম্পত্তি জোরপুর্বক দখল করেছে ভুমিদস্যু জিন্নাহ

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরবনবাড়িয়া গ্রামে এতিমের সম্পত্তি জোরপুর্বক দখল করার অভিযোগ ওঠেছে একই গ্রামের ভুমিদস্যু জিন্নাহ সরকারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দেন-দরবার ও মামলা হলেও কোন কিছু তোয়াক্কা না করছে না ভুমিদস্যু জিন্নাহ। কয়েকদিন যাবত জমিতে জোরপুর্বক মাটি ফেলে ভরাট কররছে।

জানা যায়, ১৯৪৫ সালে হরি দাসিসাহী এবং কৃষ্ণবালা সাহার নিকট থেকে চর-বনবাড়ীয়া গ্রামের মৃত হেলাল সরকারের বাবা দিঘলকান্দি গ্রামে ২৮ডিসিমাল জমি ক্রয় করেন। জমিটি হেলাল সরকারের নামে সিএস এবং আরএস রেকর্ড রয়েছে। পৌত্রিক সুত্রে মৃত হেলাল সরকারের ছেলে মিল্টন সরকার ওই জমির মালিক। মিল্টন সরকারের পরিবার ওই জমি চাষাবাদ করছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে ভুমিদস্যু জিন্নাহ সরকার জমিটি নিজের বলে দাবী করে জোরপুর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এনিয়ে এলাকায় একাধিবার শালিসী বেঠক হয়। বৈঠকে জিন্নাহ সরকার কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বৈঠকে আমাদের পক্ষে রায় হয়। কিন্তু সে রায় না মেনে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এসময় বাঁধা দিলে মিল্টন সরকার ও তার মাকে মারধর করে। এ ঘটনায় মামলা হলে ভুমিদস্যু জিন্নাহর দুই বছরের সাজা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে আবারো জমি দখল করে মাটি ভরাট করছে।

মৃত হেলাল সরকারের ছেলে মিল্টন সরকার জানান, গ্রামের বৈঠক না মানায় থানাতেই বৈঠক করা হয়। কিন্তু জিন্নাহ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেখানে আমাদের পক্ষে রায় হয়। কিন্তু গায়ের জোরে ভুমিদস্যু জিন্নাহ আবারো জমি দখল করে মাটি ভরাট করছে। পুনরায় থানা ও এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বরদের অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। উল্টো জিন্নাহ ও তার দুই ছেলে সুবজ সরকার, ইমরান সরকার এবং ভাগ্নে সুরুজ আমাদেরকে হুমকি ও আমাদের কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে। এ অবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চরবনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, জিন্নাহ একজন ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ এবং অন্যের জমি দখল করে বেচাকেনা করে এ বিষয়ে সকলেই জানে। মিলটন সরকারের কাছে প্রথমে চাঁদা দাবি করেছিল কিন্তু চাঁদা না পেয়ে সে তার জমিতে জোর পুর্বক দখল করে বালি ফেলছেন।

এ বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, মিলটন সরকার ও জিন্নাহ সরকারের মধ্যে দিঘলকান্দি গ্রামের ২৮ ডিসিমাল জমির বিরোধ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে। কিন্তু জিন্নাহ সরকার কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিল্টনের পক্ষে রায় হয়েছে। কিন্ত ভুমিদস্যু জিন্নাহ রায় না মেনে বারবার জমিটি দখল করছে। এটা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এসময় তিনি ভুমিদস্যু জিন্নাহর কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন