আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টিকা কিনতে ৭৩৬ কোটি টাকা ছাড়

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন

করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে যে ‘অতিরিক্ত অর্থ’ দাবি করছিল, এর বেশির ভাগ বাদ দিয়ে গতকাল রবিবার ৭৩৬ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে টিকা কেনার অর্থের জন্য যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তা ‘অস্বাভাবিক’। কারণ কিছু খাতে ব্যয়ের কোনো প্রয়োজনই নেই। এর পরও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তাতে অর্থ দাবি করেছে। আবার কিছু খাতে অর্থ দাবি আমাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়েছে। আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করতে অনুমোদন দিয়েছি।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ টিকা কিনতে এক হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি করেছিল। এর মধ্যে করোনার টিকা কেনার জন্য যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের আপ্যায়ন ব্যয়ের বরাদ্দ চাওয়া হয় ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই টাকা চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ টিকার জন্য প্রচার ও বিজ্ঞাপন দিতে চায়। এ জন্য তারা ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা চেয়েছে। অর্থ বিভাগ এই খাতেও কোনো টাকা দেয়নি। পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় বাবদ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা চেয়েছিল। বিপরীতে অর্থ বিভাগ মাত্র দুই কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা অনুমোদন দিয়েছে। টিকা কিনতে ভ্রমণ ব্যয় বাবদ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ছয় কোটি ৭৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা চেয়েছে। অর্থ বিভাগ এই ক্ষেত্রে কোনো টাকা দেয়নি। স্বাস্থ্যবিধান সামগ্রী কিনতে তিন কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা চেয়েছিল বিভাগটি। কোনো টাকা দেয়নি অর্থ বিভাগ।

টিকা কিনতে জরিপ চালানোর জন্য ৯৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। অর্থ বিভাগ এতেও সম্মতি দেয়নি। এগুলো ছাড়াও অন্যান্য খাতেও অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, যার বেশির ভাগই কাটছাঁট করে ছাড় কিংবা সম্মতি দেয়নি অর্থ বিভাগ। সব মিলিয়ে অর্থ বিভাগ গতকাল ৭৩৫ কোটি ৭৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে।

সরকার দেশের মানুষকে টিকা দিতে এরই মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেলে তা বাংলাদেশের মানুষও পাবে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরামের উৎপাদিত ভ্যাকসিনের পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি ডোজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় পাঁচ মার্কিন ডলার। ভ্যাকসিনের আনুষঙ্গিক উপকরণের জন্য ব্যয় ১.২৫ ডলার ধার্য করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন বাবদ খরচ দাঁড়ায় ছয় ডলার ২৫ সেন্ট।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন