আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খানসামায় রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষক

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন

মোঃ নুরনবী ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
সাদা সোনা নামে খ্যাত রসুন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃষকরা। চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণে রসুুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উপজেলার প্রতিটি মাঠে জুড়ে চলছে রসুনের চাষ। বর্তমানে বাজারে রসুনের দাম ভালো পাওয়া ও ফলন বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে রসুন চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২৬০০ হেক্টর জমিতে রসুন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে রসুুন রোপন হবে। এখনও ১০-১৫ দিন চলবে এই রসুন রোপনের কার্যক্রম।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে উপজেলার জুগীরঘোপা, কায়েমপুর, জোয়ার, কাচিনীয়া, রামনগর, গোয়ালডিহি গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে কৃষক-কৃষাণীরা দল বেঁধে বিনা চাষে রসুুন রোপন করছে। কেউ জমি প্রস্তুত করছে। আবার কেউ রসুন রোপন করছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি একর জমিতে রসুন চাষে শ্রমিক ও চাষ বাবদ খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। আর বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ বাবদ খরচ হয় আরও ৩০ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি একরে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে একর প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ মণ রসুন পাওয়া যায়। গড়ে প্রতি মণ রসুন আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা করে হলে দাম পাওয়া যায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মতো। রসুন ঘরে তোলা, বাছাই ও বাজারজাতকরণে আরও প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ বাদ দিলেও লাভ থাকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে এই দামে রসুন বিক্রি করতে হলে মৌসুমের শুরুতেই নয়, একটু অপেক্ষা করতে হয়।

কায়েমপুর গ্রামের রসুন চাষি নাজমুল হক বলেন, তিনি এ বছর দুই বিঘা জমি ২২ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে রসুুন চাষ করছেন। স্বল্প সময় ও অন্য ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে অধিক ফলন হওয়ায় এবং বর্তমানে রসুনের দাম ভালো হওয়ায় তিনি রসুুন চাষ করছেন।

কাচিনীয়া গ্রামের কৃষক মজনু আলী বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে বীজ, সার ও শ্রমিক দিয়ে মোট ২০ হাজার টাকা খরচ করে রসুন রোপন করেন। রসুন ঘরে তোলা পর্যন্ত আরো ৫-৭ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০-৩৫ মণ রসুুন পাওয়া যাবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে রসুনে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। কোনো প্রকার জমি চাষ ছাড়া স্বল্প পুজি ও কম পরিশ্রমে ফলন ভালো হওয়ায় তিনি রসুন চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, রসুন মসলাজাত অর্থকরী ফসল। খরচ কম ও অধিক লাভ হওয়ায় বর্তমানে এই ফসলের ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। রসুন চাষে কৃষককে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উপ-সহাকারী কর্মকর্তারা। আগামীতে এই ফসলের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন