আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বেলকুচিতে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ১৫

নিউজ টি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন


সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বর্ধিত সভা চলাকালীন শনিবার দুপুরে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের সমর্থক সাবেক যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজা বাহিনীর লোকজন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও তার সহধর্মিনী পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাসের সমর্থক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

পুলিশ-প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় বেলকুচি উপজেলার চালা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সহধর্মিনী বেলকুচি পৌরসভার মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আশানুর বিশ্বাস মিছিলসহ বর্ধিত সভায় অংশগ্রহনের দলীয় কার্যালয়ে সামনে আসেন। কার্যালয়ে ঢোকার আগেই পুলিশ বাঁধা দেয়ায় মেয়র আশানুর বিশ্বাস একাই বর্ধিত সভায় অংশগ্রহনের কার্যালয়ে যান। এসময় লতিফ বিশ্বাস ও তার সহধর্মিনীর সমর্থকরা রাস্তার উপর নানা শ্লোগান দিতে থাকে। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন সদস্য না হলেও একই স্থানে পুর্বে থেকে সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের সমর্থক যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার বাহিনীর লোকজন অবস্থান নিয়ে সেখানে তারা যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার নামে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে রেজার বাহিনী লতিফ বিশ্বাসের সমর্থক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়।

বেলকুচি পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাস জানান, বর্ধিত সভায় সাজ্জাদুলের অংশগ্রহনের সুযোগ না থাকলেও আমাদেরকে মারপিট ও লাঞ্চিত করার জন্য সংসদ সদস্যের পক্ষ নিয়ে সে এবং তার লোকজন দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে ও ছাদের উপরে ঢিল ও লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা যখন মিছিলসহ ঢুকে পড়ে তখনই বিভিন্ন দিক রেজা রেজা বলে শ্লোগান দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং ঢিল ছুড়তে থাকে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, আমি নিজেই ঢিলের আঘাত পেয়েছি। সংসদ সদস্যের মদদে রেজার বাহিনী পরিকল্পিভাবে মিছিলে হামলা চালিয়েছে এবং আওয়ামীলীগের সাধারন নেতাকর্মীকে মারপিট করেছে। এতে তাদের ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সাবেক যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজা জানান, সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডনের সাথে গিয়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে সামনে ছিল। এসময় পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাসের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ে ঢোকার চেস্টা করে। এক পর্যায়ে সেখানে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারপিট করে। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ৭জন আহত হয়েছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহিনুর কবির জানান, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় চলাকালীন পৌর মেয়র আশানুর বিশ্বাস ও যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার লোকজন মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসে। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন