শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিবাদ-সমাবেশ প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ,ধর্ষক গ্রেফতার সাদুল্লাপুরে অতিরিক্ত দামে আলু বিক্রির দায়ে ৪ ব্যবসায়ির জরিমানা আদায় রায়গঞ্জে খাস জমি দখল করে রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় ২২ বছর পর ছয়জনের যাবজ্জীবন, ছয়জন খালাস চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাঘবে চর উন্নয়ন বোর্ড করা দরকার —ডেপুটি স্পীকার মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বস্ত লড়াকু নৈতিক- এস,এম কামাল কাজিপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৬৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ধ্বংস মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বস্ত লড়াকু নৈতিক- এস,এম কামাল নওগাঁয় ভিক্ষুকদের মাঝে লভ্যাংশের নগদ অর্থ বিতরন

সিরাজগঞ্জে গরু দিয়ে ঘানি টেনে খাঁটি সরিষা তেল উৎপাদন

আরিফ হোসেন , নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৯০ জন দেখেছেন



একটি বলদ গরু দিয়ে সরিষের তেল মাড়াই অনেক পুরোনো পদ্ধতি। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। ঘানি দিয়ে তেল উৎপাদন গ্রামেও এখন খুব একটা দেখা যায় না। তবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় শিয়ালকোল গ্রামে গরু দিয়ে ঘানি ভাঙা খাঁটি ও বিশুদ্ধ সরিষার তেল উৎপাদন করছে একটি পরিবার।

এতো ভেজালের ভিড়ে বিশুদ্ধ কোন কিছু পাওয়া সত্যিই কষ্টকর। তেমনি ‘খাঁটি সরিষার তেল’ এর উপর ভরসা রাখাটাও যেন বেশ কঠিন ব্যাপার।জেলার সদর উপজেলায় শিয়ালকোল ইউনিয়নে শুকুর প্রামানিকের ছেলে লোকমান প্রামানিক তার স্ত্রী সন্তান সহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে গরু দিয়ে ঘানি টেনে তেল উৎপাদন করছে।

বিভিন্ন বাজার থেকে বাছাইকৃত সরিষা ক্রয় করে সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত দুটি ঘানি থেকে ১০-১৫ কেজি তেল উৎপাদন করে বিক্রি করে সংসার চলে পরিবারটির।

লোকমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, বিগত বিশ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কাজ করছেন ঘানি ভাঙা সরিষার তেল উৎপাদনে। তার শশুর এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে স্বামী অসুস্থ থাকার কারণে সন্তানদের নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

দিনে এক মণ সরিষা থেকে ১০-১৫ কেজি তেল তৈরি হয়। কোন কেমিক্যাল না মেশানোর কারণে ঘানি টানা থেকে উৎপাদিত তেলের দাম একটু বেশি। প্রতি কেজি ২২০-২৫০ টাকা। দামটা চড়া হলেও, বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা থাকায় ক্রেতারা এখান থেকেই তেল ক্রয় করেন।

একটি বলদ গরুর কাঁধে জোয়াল দিয়ে চোখ বাঁধা হয়। চোখ বাঁধার কারণে কাঁধ থেকে গরুর আলাদা হওয়ার কোনো উপায় নেই। জোয়ালের ওপর আনুমানিক ৩৫ কেজি ওজনের পাথর চাপিয়ে দেওয়া হয়। গরুটি ঘুরে চক্রাকারে আর তাতেই ফোঁটা ফোঁটা তেল পড়ে। তেল তৈরির জন্য স্থানীয় প্রযুক্তিতে গাছের গুঁড়ির মাঝখানে গর্ত করে দেওয়া আছে। আর এই গর্তের মধ্যে সরিষের দানা ভিজিয়ে ভরা হয়। গরু ঘোরে আর ঘোরে। ঘুরে ঘুরে পিষে দেয় সরষের দানাগুলো। নিচে চিকন একটি ছিদ্র রয়েছে। টিনের তৈরি একটি নল দিয়ে টপ টপ করে তেলের ফোঁটা পড়ছে পাত্রে।

গরু যাতে আশপাশের কিছু দেখতে না পারে, সে জন্য তার চোখে কাপড় বাঁধা হয়। আর চোখ বাঁধা অবস্থায় দিনের পর দিন একটানা খাটছে গরুটি। তার খাটুনির বিনিময়ে ফোঁটা ফোঁটা করে তেল পড়ে। খাঁটি সরষের তেল।

তেল মাড়াইয়ের এই প্রাচীন পদ্ধতিটা নিষ্ঠুর বা কঠিন হলেও সবার কাছে এর চাহিদা দারুণ। ঘানিভাঙা তেলের ঘ্রাণ, স্বাদ খুব সহজে সবাইকে আকৃষ্ট করে। গায়ে মাখা, তরকারিতে ব্যবহার, যেকোনো ধরনের ভর্তা, মুড়ি মাখানো ও সালাদে এই তেল অতুলনীয়। তা ছাড়া সর্দি-কাশিরও বড় ওষুধ এই সরিষার তেল।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন
© All rights reserved 2015- 2020 thepeoplesnews24

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়ম মেনে নিবন্ধনের আবেদন কৃত।

Design & Developed By: Limon Kabir
freelancerzone