সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক যোগদানে বাঁধা সভাপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৪৩ জন দেখেছেন


হাইকোর্টের রায়-রাজশাহী মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের আদেশ উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের বিধিমতে বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়োগে বাঁধা দিচ্ছেন একই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজসে সভাপতি এহসানুল হাসান সন্টু স্কুলের ভবন বিক্রি ও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার ভয়ে যোগদানে বাঁধা দেয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে।

জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রীর একান্ত একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরালকে কেন্দ্র করে কোন কারন দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ২০১৭ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চুড়ান্ত বরখাস্ত না করা, পদ শুন্য ঘোষনা না করা এবং শিক্ষাবোর্ডকে না জানিয়ে বিধিমালা লঙ্ঘন করে ম্যানেজিং কমিটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক রকিবুলকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর সভাপতি কৌশলে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজসে স্কুলের ভবন বিক্রি, ভর্তি বাণিজ্য, মাটি ভরাটের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ মহামান্য হাইকোর্টে রিটপিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৪ জুন দ্বৈত বেঞ্চে শুনানী শেষে আপিল আর বেট্টিশন বোর্ডে দুই পক্ষের শুনানী অন্তে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড দুপক্ষের শুনানী শেষে চলতি বছরের ৩০জুন আব্দুল মজিদ স্কুলের বৈধ প্রধান শিক্ষক হিসাবে বহাল রহিয়াছেন এবং তার প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালনে কোন বাধা নেই। তাহাকে বকেয়া বেতন ভাতাদিসহ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্কুলের সভাপতিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু সভাপতি চিঠি গ্রহন না করে উল্টো নানা ষড়যন্ত্র করেন। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ যেন যোগদান করতে না পারেন এ জন্য বর্তমান প্রধান শিক্ষক রকিবুলের সাথে যোগসাজসে লোক ভাড়া করে করোনার মধ্যে স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেন। হাইকোর্ট এবং শিক্ষা বোর্ডের আদের্শ অমান্য করে স্কুলে যোগদানে বাধা দেয়ার জন্য মানববন্ধন করায় স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষকের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্কুল ছাত্রী খাদিজা খাতুন নানী জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এহসানুল হক সন্টু ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক রকিবুলের নানা অনিয়মের কারনে স্কুলের পড়াশোনার মান একেবারে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে স্কুলটি শিক্ষার মানের দিক দিয়ে রাজশাহী বিভাগের সেরা দশে ছিল এবং জেলার মধ্য প্রথম ছিল সেখানে মাত্র দুই বছরে শিক্ষার মান তলানীতে পৌছেছে। আমরা অভিভাবকরা দেখেও ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন ভাল শিক্ষক প্রয়োজন। তাদের দুর্নীতি ঢাকতেই একজন ভালমানের প্রতিষ্ঠাতাকালীন প্রধান শিক্ষককে যোগদানে বাঁধা দিচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাল শিক্ষক যোগদান না করলে অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

অভিভাবক আব্দুল মোতালেব জানান, বর্তমানে শিক্ষার মান এতটাই খারাপ যে মেয়েকে স্কুল থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলে বাঁচি। বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো প্রশাসনিক কোন দক্ষতা নেই। পড়াশোনা বাদ রেখে নিজেদের আখের গোচাতে ব্যস্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসে মেতে ওঠেছে চক্রটি।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানান, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সম্পুর্ন প্রভাব খাটিয়ে সভাপতি আমাকে যোগদান করতে দিচ্ছে না। সভাপতি তার দুর্নীীত-অপকর্ম ঢাকার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করতে আমাকে যোগদানে বাঁধা দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, আদেশটি স্থগিতের জন্য সভাপতি আদালতে গেলেও ভার্চুয়াল কোর্ট কোন আদেশ না দিলেও নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এঅবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সভাপতির অপসারনসহ যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এহসানুল হাসান সন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, হাইকোর্ট চার মাসের জন্য নিয়োগ স্থগিত করেছে। আর নিয়মিত কোর্টে শুনানীর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদেশের কপি দেখাতে পারেননি।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন
© All rights reserved 2015- 2020 thepeoplesnews24

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়ম মেনে নিবন্ধনের আবেদন কৃত।

Design & Developed By: Limon Kabir
freelancerzone