সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক আমাদের ঈদ

রির্পোটারের নাম
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৭৯ জন দেখেছেন

হাজী শেখ আব্দুস ছালাম-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সকল প্রশংসা সেই সুমহান স্রষ্টার শানে,যিনি আমাদের একমাত্র মাবুদ। বরাবরের ধারাবাহিকতায় আল্লাহর এই গোলাম, আপনাদের উদ্দেশ্যে আসন্ন কোরবানির ঈদ নিয়ে দু একটি কথা বলবার জন্য হাজির হলাম।

শুরুতেই একবার তাকবীরে তাশরিক পড়ে নিই আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। ’ জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

কোরবানি কি? কোরবানি কেনো এ আমরা সবাই জানি, এ নিয়ে নতুন করে বলবার কিছু নেই। কোরবানি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলছেন ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন ও কোরবানি করুন। ’ (সুরা আল-কাউসার, আয়াত: ০২)।

আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করবো বলেই এই কোরবানির বিধান। এ বছর ও সেই কোরবানীর দিন সমাগত প্রায়। কিন্ত অন্যান্য বছরের সাথে এ বছরের কোরবানী ঈদের বিস্তর ফারাক। সারা বিশ্ব তথা আমার সারা দেশ জুড়ে মহামারী কভিড ১৯, এর মধ্যেই উত্তরাঞ্চল সহ সারা দেশেই ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেও আমাদের আল্লাহর হুকুম কোরবানি পালন করতে হবে এবং আমরা করবো।

সম্মানিত মুমিন ভাই, বোন বন্ধু ও স্বজন, আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এ বছর গ্রামে যাচ্ছি না, শহরেই ঈদ উদযাপন করবো। এই যে যারা গ্রামে যাচ্ছি বা যাচ্ছি না, বিত্তবান, কোরবানি করবার সামর্থ্য আছে তাদের উদ্দেশ্যে দুটি কথা। চলুন আপনাদের একটু ভাবনার জগতে নিয়ে যাই। একবার ভাবুন তো, চার মাস আপনার আপন ভাইয়ের কোনো কর্ম নেই, কারখানা বন্ধ, কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে, এর মধ্যে এলো বন্যা। বন্যার পানি উঠান ছাড়িয়ে ঘর, ঘর ছাড়িয়ে চৌকির উপর ছুঁই ছুঁই, এর মধ্যেই দু তিনজন সন্তান নিয়ে মাচা করে ঘরে থাকছে, কোনো রকমে দু বেলা নুন পান্তা খেয়ে দিন পার করছে। এর মধ্যে ঈদ এলো যে ঈদে আপনি আমি কোরবানী করে গরুর মাংস দিয়ে পোলাও খাচ্ছি। আর, আমাদের সেই ভাই অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছে!! এ কি ভাবতে পারেন!! এ কি মানতে পারেন!! যদি কেউ ভাবতে পারেন, মানতে পারেন তার সাথে তর্কে যাবো না।।তবে আমি জানি আমরা কেউই আমাদের ভাইকে এ অবস্থায় ফেলে রাখবো না।

সুপ্রিয় ভাই বন্ধু স্বজন, কোরবানির রক্ত, গোশত, চামড়া কোনোটাই তো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। পৌঁছে শুধু আমাদের নিয়ত গুলো।।আমরা যারা সামর্থ্যবান তাদের কাছে আমার অনুরোধ,আপনি গ্রামে যেতে পারছেন না। গ্রামে সমাজের কাউকে দায়িত্ব দিন, সেখানে একটা কোরবানি করুন, সেই সব মানুষের কাছে কোরবানীর গোশত পৌঁছে দিন, যারা এর হকদার। আপনি গ্রামে গেছেন কোরবানী করলেন বন্যার পানির জন্য তেমন কোথাও গেলেন না, মাংস গরীব দুখী,নিজ আত্নীয় স্বজনদের দিলেন না। এ কি ঠিক হবে!! সে কুরবানির মাংস তো রোজ কেয়ামতের আপনার আমার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবেনা??সেদিন যদি আল্লাহর আদালতে পাকড়াও হই!! কসম আল্লাহর, আমাদের একজনেরও উপায় নাই, যে হিসাব দিয়ে পার হবো।

কোমর পানি ভেঙে, হাঁটু পানি ভেঙে যখন গরীব আত্নীয়, পড়শী,সমাজের মানুষ যারা কোরবানি দিতে পারে নি, তাদের কাছে যাবেন, মাংস পাঠাবেন, তারা যখন আপনার পাঠানো মাংসের ছোটো একটা ভাগ পাবে। তাদের ঠোঁটের কোনায় যে হাসি, মন থেকে যে দোয়া,বিশ্বাস করুন লক্ষ কোটি টাকা খরচ করলেও তা পাবেন না।

সবশেষে সবিনয় নিবেদন, আমরা যারা সামর্থ্যবান আসুন না এই ঈদে আর্তের পাশে দাঁড়াই, মানবতার হাত বাড়াই। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক আমাদের ঈদুল আযহা। আমরা আবারো প্রমাণ করি ইসলামই মানবতার সমাধান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমাদের কোরবানী কবুল করুন। আমাদের নিয়ত কবুল করুন।।আমাদের কে আরো বেশি থেকে নিয়ে বেশি আমল করবার তৌফিক দিন। আমীন।

লেখক-
ব্যাবস্থাপনা পরিচালক – টেক্সজেন গ্রুপ।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন
© All rights reserved 2015- 2020 thepeoplesnews24

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়ম মেনে নিবন্ধনের আবেদন কৃত।

Design & Developed By: Limon Kabir
freelancerzone