সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কে আছো হে মুমিন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের চাইতেও উত্তম আমল করতে চাও!!

রির্পোটারের নাম
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০
  • ৯৭ জন দেখেছেন
হাজী আব্দুস সালাম শেখ-
বিসমিল্লাহীর রাহমানির রাহীম।সকল প্রশংসা সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তায়ালার। সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা দিন গণনার পরিক্রমায় আরবি জিলহাজ মাস শুরু হলো। আমরা প্রায় সকলেই জানি এ মাসের আমলের কথা। আমি আল্লাহর দাসানুদাস, আমি তো আল্লাহর গোলাম। এ গোলাম আর কতোটুকুই বা জানে!!তারপরেও এ মাসের প্রথম দশদিনের আমলের সম্পর্কে কিছু কথা বলবার প্রয়াসে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস ১২টি; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস, এটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)
আল্লাহ আরো বলেন আর আমি হজরত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে ৩০ রাতের অঙ্গীকার করেছি এবং তা পূর্ণ করেছি আরো ১০ দ্বারা। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪১)।মুফাসসিরদের মতে, সেই ১০ দিন ছিল জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও না? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও না। তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া, যে তার সর্বস্ব নিয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করল এবং কিছুই নিয়ে ফিরতে পারেনি। (বুখারি)
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে একজন মুমিনের কর্তব্য হলো, পুণ্য কাজের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ১০ দিন অতিবাহিত করা।
ইমাম নববী (রা.) বলেন, এ মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। বিশেষ করে, যে ব্যক্তি হজে যায়নি তার জন্য আরাফার দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুবকের অভ্যাস ছিল, সে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা দিলেই রোজা রাখত। মহানবী (সা.) তা জানতে পেরে যুবককে জিজ্ঞেস করেন, হে যুবক! তুমি কেন এ দিনগুলোতে রোজা রাখো? সে প্রত্যুত্তরে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, এ দিবসসমূহ পবিত্র হজের প্রতীক ও হজ আদায়ের মুবারক সময়। হজ আদায়কারীর সঙ্গে আমিও নেক আমলের আশায় অংশীদার হই, তার সঙ্গে আমার দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেবেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমার একেকটি রোজার বিনিময়ে ১০০ দাস আজাদ করার, ১০০ উট দান করার এবং জিহাদের সাজে সজ্জিত একটি ঘোড়া জিহাদের জন্য দান করার সওয়াব হবে। আরাফাতের দিন তথা জিলহজের রোজার বিনিময়ে দুই হাজার দাস মুক্ত করার, দুই হাজার উট দান করার, জিহাদে সজ্জিত দুই হাজার ঘোড়া দান করার পুণ্যপ্রাপ্ত হবে। (মুকাশাফাতুল কুলুব, ইমাম গাজ্জালি)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, আরাফাতের দিন তথা ৯ জিলহজের রোজা দুই বছর রোজা রাখার সমতুল্য আর আশুরার রোজা এক বছর রোজা রাখার সমতুল্য।
দেখুন সম্মানিত মূসল্লীগণ আমলের কথা আমরা সবাই অনেক জেনেছি, অনেক শুনি কিন্ত করতে পারি কি!! আমি আমার কথাই বলছি। সমাজ, সংসার, জীবন জীবিকা, কতো ব্যস্ততায় নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। আহারে,কখন যেনো মালাকুল মাউত এসে দরজায় দাঁড়াবে। কি নিয়ে যাবো ওপারে!! কি আমার সম্বল।ভাবতেই চোখের কোনে পানি চলে আসে।জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় আজ আমার খেয়াল হচ্ছে, আফসোস হচ্ছে। আগে কেনো করি নি, এ আমল!!
হে আমার প্রিয়, ভাই বোন, বন্ধু আত্নীয় পরিজন, প্রতিবেশী সমাজের মানুষ , সময়ের এই ক্রান্তিলগ্নে, আসুন না  আমল শুরু করি। ঈমানী জিন্দেগি কাটাই। জান্নাতের সওদা কিনি, অন্ধকার কবরের আলো কিনি। আল্লাহ্‌ যেনো আমাদের সকল কে আমল করার তৌফিক দেন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
লেখক-
ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ টেক্সজেন গ্রুপ লিমিটেড।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন
© All rights reserved 2015- 2020 thepeoplesnews24

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়ম মেনে নিবন্ধনের আবেদন কৃত।

Design & Developed By: Limon Kabir
freelancerzone