সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

প্রশিক্ষণের সময় বয়ে যায়

রির্পোটারের নাম
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ৯৪ জন দেখেছেন

হাজী শেখ আব্দুস ছালাম-
ফজরের নামাজ শেষ, আল্লাহর বেহেশতের দরজা খোলা হাওয়া বইতে শুরু করেছে, পুব দিকে সুর্য মাথা তুলতে শুরু করেছে মাত্র। গ্রামের মেঠোপথ, পথের দু পাশের বাড়ি থেকে ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েরা কাঠের তৈরি রিহাল সিনার সাথে লাগিয়ে, মসজিদের দিকে যাচ্ছে, মক্তব পড়তে। বয়সে ছোটোরা আমপারা, আর কিছুটা বড়োদের বুকের সাথে লাগানো পবিত্র কুরআন শরীফ। আহ কি দৃশ্য৷ কি অপরুপ এই প্রতিচ্ছবি। এ বাড়ি ও বাড়ির কাচারি ঘরে মুরুব্বীরা, যুবকেরা সুর করে পড়ছে কুরআন শরীফ৷ এ আমার নিজের চোখে দেখা সময়ের কথা বলছি। আপনাদের অনেকেই হয়তো এরকম দেখেছেন। এখন দেখেন কি!! সেই রকম দ্বীনি পরিবেশের দৃশ্য। উত্তর আসবে একটাই “না”।

এখন কি দেখেন। ঘরে ঘরে থেকে ভেসে আসছে নাটক সিরিয়ালের বাদ্য বাজনা, ছেলে মেয়েরা ঘুম থেকে উঠেছে ঠিক।তৈরি হচ্ছে স্কুলে যাবে। কিন্ত এই যে কুরআন শিক্ষা, নামাজের শিক্ষা তা কি হচ্ছে আদৌ? দ্বীনি শিক্ষা ছাড়া কি, প্রকৃত শিক্ষা হয়। একজন মানুষ কি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারে? এবারো উত্তর আসবে “না”।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা, প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন পড়া জানতে হবে। যে নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করবে তাকে অবশ্যই কুরআন শিক্ষা করতে হবে। কুরআন শিক্ষা করা এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আল্লাহ তা‘আলা কুরআন শিক্ষা করা ফরয করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’ [সূরা আলাক : ১]।

এবার আসুন আমরা নিজেরা কি করেছি? আর কিই বা করছি। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে আফসোস হয়, আহা সেই কিশোর বয়সে, যুবক বয়সে কোরান হাদীস এর চর্চা, জ্ঞানার্জন সেভাবে করতে পারি নি, যেভাবে করবার দরকার ছিলো। এখন ভুল বুঝতে পারছি, আল্লাহ মাফ করে দিন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের যে সন্তানেরা বেড়ে উঠছে তাদেরকেও কি এই ভুলের মধ্যে ফেলবো? তারাও কি একই দহনে জ্বলবে? অবশ্যই না..। আসুন না লক ডাউনের এই সময়টা কাজে লাগাই। কিভাবে কাজে লাগাতে পারি চলুন তার একটা রুপ রেখা দেখাই। তার আগে আবারো বলে নিতে চাই, আমি আল্লাহর একজন গোলাম হিসেবে, আপনাদের দ্বারে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো পৌঁছে দিতে চাই। এই অবসরে আপনাদের কাছে দোয়াও চেয়ে নিচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

লকডাউনে ঘরে বসে কি কি করতে পারি, যা আমাদের দুনিয়া আখিরাতের কল্যান হতে পারেঃ

১. স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরেই সালাত আদায় করুন। প্রতিটি ঘর এক একটি মসজিদ হয়ে যাক।

২. যারা আমরা কুরান পড়তে জানি কিন্ত কোনো কারণে ভুলে গেছি। তারা যারা জানে তাদের কাছে থেকে কুরানটা আবার শিখে নিই।

৩. আপনি অনেক ব্যস্ত থাকেন সারা দিন। ছেলে মেয়েকে সময় দিতে পারেন না। রুটি রুজির সন্ধানেই দিন কাটে। এখন তো ঘরে বসে। এখন নিজ বাচ্চাকে কোরান শিখান। নামাজ শিখান। হাদীসের তালিম দেন।

৪. ইউটিউব এ গান বাজনা না দেখে কোরান শিক্ষা বিষয়ক ভিডিও দেখতে পারেন কিন্ত।

৫. স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি সব বন্ধ।।এই সময়ে ছেলে হাত লাগাক বাবার কাজে, সেটা ব্যবসা বানিজ্য হোক, আর কৃষি হোক। মেয়ে হোক মায়ের কাজের সহায়তা কারী। পাশাপাশি ছেলে মেয়ে পাক ইসলামী শিক্ষা।

৬. সারা বাংলার জমিনে ১৩,৯০২ টি কওমী মাদ্রাসায় পড়ছে ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। তথ্য সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো। এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখন বাড়িতে, তাদের অনেকেই কোরানের হাফেজ। আবার৷ অনেকেই হাফেজ হবার পথে, তাদের থেকেও কোরানের তালিম নিতে পারেন।

অনুরোধের তালিকা আর না বাড়িয়ে একটি কথাই বলবো।।আল্লাহ এ দুনিয়ায় সবাইকে একটা জিম্মদারী দিয়ে পাঠিয়েছেন। আপনার আমার ছেলেমেয়ের জিম্মাদার আমরা। তাদের যদি সঠিক শিক্ষা দিতে না পারি। রোজ হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে আপনাকে আমাকে দাঁড়াতে হবে, জবাব দিতে হবে।

ভাবুন তো একবার, আমি আপনি মারা গেলাম।।আমাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সন্তানেরা কিছুই পড়তে পারলো না। এমন হতভাগ্য আর লজ্জিত পিতা হতে চাই কি কেউ? নিশ্চয়ই চাই না। তাই আসুন নিজের জিম্মাদারী পুরা করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

ধন্যবাদান্তে- হাজী শেখ আবদুস সালাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ টেক্সজেন গ্রুপ।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন
© All rights reserved 2015- 2020 thepeoplesnews24

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়ম মেনে নিবন্ধনের আবেদন কৃত।

Design & Developed By: Limon Kabir
freelancerzone