মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং, রাত ১:৫৬
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ মে, ১৫, ২০২০, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
  • 309 বার দেখা হয়েছে

হাজী শেখ আব্দুস সালাম-

আমরা সকলেই জানি রমজান মাস বছরের আর সব মাস গুলোর মধ্যে উত্তম মাস। এ মাসে আমাদের জন্য অনেক ইবাদতের সাথে একটি বিশেষ ইবাদত রয়েছে৷ তা হলো যাকাত।, ইসলামের মূল পাঁচটি খুঁটির একটি হলো যাকাত। নামায, রোযা ও হজ্বের ন্যায় এটিও একটি ফরয ইবাদত। নির্ধারিত নিসাবের মালিক মুসলমানদের উপর এর বিধান সম্পূর্ণরূপে আরোপিত। যাকাত কে অস্বীকার কিংবা অবহেলা করা যায় না।

প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর কিছু লোক ইসলামের মৌলিক আহকাম যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানালো। যাকাত ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে বসতে শুরু করলো অথচ যাকাত ফরয হওয়া অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।

আল্লাহর হুকুম এই মৌলিক বিধির অস্বীকারকারীদের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর যুদ্ধের মনস্থির করেন।
সিদ্দীকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বললেন, “আল্লাহর শপথ! যদি কোনো ব্যক্তি একটি রশি কিংবা কোনো বকরীর বাচ্চা যাকাত হিসেবে দিতে অস্বীকার করে, যা সে হুযুর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দিত, তাহলে আমি তার সাথে যুদ্ধ করব।” [তারিখুল খোলাফা, আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রহ.), পৃ.৫১।]

প্রিয় ভাইয়েরা,
যাকাত মানে সমৃদ্ধি, ক্রমবৃদ্ধি ও পবিত্রতা। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। কুরআন মাজিদের বত্রিশ জায়গায় যাকাতের আলোচনা করেছে। তন্মধ্যে আটাশ জায়গায় নামায এবং যাকাতের সমন্বিত আলোচনার কথা এসেছে।

মহা বিশ্বের, মহা বিস্ময়, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “যাকাত তো সেসব লোকেরই জন্য, যারা অভাবগ্রস্ত, নিতান্ত নিঃস্ব, যারা তা সংগ্রহ করে আনে, যাদের অন্তরসমূহকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়, ক্রীতদাস মুক্তির ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আর আল্লাহ পাক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [আল-কুরআন, সুরা তাওবা, আয়াত : ৬০।]

সম্মানিত, ঈমানদার মুসলিম ভাইয়েরা,

যাকাত নিয়ে আমি দু চারটি কথা বলতে চাইঃ

১. মনে রাখবেন যাকাত কোনো করুণা নয়। এটা আমার আপনার সম্পদের উপরে গরীবের হক।

২. সঠিক নিয়মে যাকাত হিসাব ও তা আদায় করুন।যাকাত অনাদায় সম্পত্তিকে কিয়ামতের ময়দানে বিষধর সাপে রূপ দিয়ে কৃপণ ধনবানদের গলায় জড়িয়ে দেয়া হবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং-১১১, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৩৪৩।]

৩. যাকাত দিতে যাকাত গ্রহীতা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে দিন। আমার অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধান থেকে বলছি এমন কিছু লোক সমাজের মধ্যে আছে যারা মিথ্যা বলে বা যে কোনো উপায়ে যাকাত নিয়ে, উক্ত যাকাতের অর্থ সুদে খাটায়৷ আল্লাহ ব্যবসা কে হালাল করেছেন আর সুদ কে করেছেন হারাম। যাকাত দাতা গণ এ বিষয়ে লক্ষ রাখবেন। যেনো উপযুক্ত ব্যক্তি যাকাত পায়।

৪. আমার ব্যক্তিগত আরেকটা পর্যবেক্ষণ হলো আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত আবার অভাবী। তারা চক্ষুলজ্জায় আপনার কাছে চাইতেও পারবেন না।কিন্ত এই মহামারীর সময়ে তারা অভাবে আছেন। এদের মধ্যে বেসরকারি হাই স্কুল, মাদ্রাসা, ইয়াতীমখানার, সম্মানিত শিক্ষক গণ, বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোর সম্মানিত শিক্ষক গণও আছেন। আমরা সবাই এ দিকেও লক্ষ রাখবো।

৫. যাকাত দিতে গিয়ে ঢোল পিটিয়ে মানুষ জড়ো করবেন না। মনে রাখবেন আল্লাহ গোপন দান পছন্দ করেন।

৬.যাকাত গ্রহীতা ব্যক্তিদেরকে গরীব বলে অবহেলা করবেন না, তাদের সম্মানের চোখে দেখুন।

৭. নিকট আত্নীয় ও পাড়া প্রতিবেশী নিজ মহল্লা, নিজ সমাজের ভিতরে আগে যাকাতের অর্থ বন্টন করুন।

৮. গরীব, মিসকিন, ইয়াতিমদের যাকাত দিন। ইয়াতিম খানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, রুগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে দ্বীনের শিক্ষা দেয়া হয়, যেখানে গরীব অসহায় এতিমেরা লেখাপড়া করে সেখানে যাকাত দিন।

সুপ্রিয় ঈমানদার ভাইয়েরা,
দেশের এই সংকটাপন্ন এ দুরবস্থায় আমার এবং আপনার যাকাত আদায়ের মোক্ষম সুযোগ। অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে যাকাতের যথাযথ বণ্টনব্যবস্থা এ ক্রান্তিলগ্নে সুফল বয়ে আনবে। সম্পদের অট্টালিকা না গড়ে দিনমজুর, শ্রমিক ও ফকির-মিসকিনদের প্রতি তাদের প্রাপ্য হিসেবে যাকাত প্রদান করে নিজেদেরকে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হওয়া থেকে বিরত রাখতে এখনই যেন আমরা উদ্যোগী হই। মহান আল্লাহ আমাদের যাদের উপরে যাকাত ফর‍জ হয়েছে, তাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে যাকাত আদায় করার তৌফিক দিন। আমীন।

লেখক-

ব্যবস্থাপনা পরিচালক -টেক্সজেন গ্রুপ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৫,৫৮৫
সুস্থ
৭,৩৩৪
মৃত্যু
৫০১

বিশ্বে

আক্রান্ত
৫,৫৬৩,২৬০
সুস্থ
২,৩৩৪,৭৯০
মৃত্যু
৩৪৬,৬৮০