শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং, বিকাল ৩:৪৬
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ মার্চ, ৮, ২০২০, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
  • 62 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জন্ম হয় অভাবী সংসারে। অভাবের কারণে যেখানে দু’বেলা দুই মুঠো ভাত জোটে না সেখানে আবার পড়াশোনা! পাঁচ বোন চার ভাইয়ের মধ্যে মোনোয়ারা খাতুন ছিল তৃতীয়। তাই অল্প বয়সেই প্রায় ২০ বছর পূর্বে বাবা বিয়ে দিয়ে দেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার দত্তকুশা গোয়ালপাড়া গ্রামের দিনমজুর শামীম সরকারের সঙ্গে।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারেও অভাব ও কষ্ট লেগেই ছিল। দিনমজুর স্বামীর উপার্জনে দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকাটাই বড় কষ্টের ছিল। এরই মধ্যে সংসারে একে একে ২টা সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও চরকায় সুতা তোলার কাজ শুরু করেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ আর হলো না। বিয়ের ১০ বছর পরেই স্বামী শামীম হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

স্বামীর মারা যাবার পর কৃষি জমিতে শ্রমিকের কাজে অত্যন্ত পরিশ্রম তাই কৃষি জমিতে কাজ না করে তাঁত বুনাতে শেখেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে তাঁত শ্রমিকের কাজ করছেন।

মোনোয়ারা খাতুন (৩৩) এভাবেই দ্য পিপলস্ নিউজ ২৪ডট কমের কাছে মেলে ধরেন নিজের সংগ্রামী জীবনের গল্প।

তিনি বলেন, স্বামী মারা যাবার পর থেকে প্রথম তিন বছর অনেক কষ্টে ২ ছেলে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। পরে তাঁত শ্রমিকের কাজ শুরু করি। তাঁত শ্রমিকের কাজ করে প্রতি দিন গড়ে ১শ থেকে ১৫০ টাকা পাই তা দিয়েই চলছে সংসার।

মোনোয়ারা খাতুন আরও বলেন, তাঁত শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা পয়সা পাই তা দিয়ে এখন সংসার চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ২ ছেলে পড়া লেখা করছে। বড় ছেলে মোক্তার হোসেন মুসা ৭ম শ্রেণি ও ছোট ছেলে সাদিক হোসেন ২য় শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেদের পড়া লেখা খরচ আর দিন দিন পণ্যের যে দাম বাড়ছে তা দিয়ে এখন সংসার চলাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকতার হোসেন বলেন, মোনোয়ারা খাতুন আমার তাঁতে তাঁত শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। মোনোয়ারা খাতুনের স্বামী শামীম হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর সংসারে কষ্ট লেগেই থাকত। কৃষি শ্রমিকের কাজ অনেক কষ্টের তাই শ্রমিকের কাজ করতে পারত না। অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে থাকত। পরে আমার তাঁতে কাজ শুরু করে। এখন প্রায় ৭ বছর হল তাঁত শ্রমিকের কাজ করে এখান থেকে যে টাকা পায় তা দিয়েই চলে মোনোয়ার সংসার।

রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার সরকার জানান, মোনোয়ারা খাতুনের খোঁজ খবর নিয়ে বিধবার ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে অন্য যে কোনো সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন