শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং, দুপুর ২:২৬
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ মার্চ, ৬, ২০২০, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
  • 69 বার দেখা হয়েছে

মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির:
প্রায় সবকিছুরই মধ্যবর্তী অংশটুকু হয় বেশি শক্তিশালী, বেশি উপযুক্ত। মধ্যাহ্নের সূর্যটা হয় অত্যন্ত প্রখর। মানবজীবনে যৌবনকাল হলো মধ্যবর্তী সময়। শিশুকালে মানুষ থাকে দুর্বল, পরনির্ভরশীল। বৃদ্ধকালেও ঠিক তাই। মাঝের সময়টুকুই শক্তি ও বুদ্ধিমত্তার সময়। প্রখরতার সময়।
কুরআন এদিকে ইঙ্গিত করেছে :

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ

‘আল্লাহ, তিনি দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন। দুর্বলতার পর শক্তিদান করেন, শক্তিমত্তার পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ [সুরা রুম, ৩০ : ৫৪]

এখন যৌবনের এই উদ্যমতা ও শক্তিমত্তাকে যদি সঠিক পন্থায়, সঠিক কাজে ব্যয় করা হয়, তাহলেই গড়ে ওঠে সুষ্ঠু সমাজ, উন্নত জাতি। কারণ এই যুবকরাই জাতির মেরুদন্ড। এরা সুসংহত হলে গোটা জাতি সুসংহত হয়। এরা পথ হারালে গোটা জাতিই পথ হারায়। প্রত্যেক যুগে, প্রত্যেক শতাব্দিতে যত বড় বড় বিপ্লব বা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সবই এসেছে এই যুবকদের হাত ধরে।

এ জন্য ইসলাম যৌবনকালের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছে। জাতি ও সমাজের প্রতি অনেক দায়িত্ব অর্পণ করেছে তাদের ওপর। ইসলামের প্রথম যুগে, নিদারুণ কষ্টের সেই দিনগুলোতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন যুবক। দারুল আরকামের সেই বিদ্যালয়ে যারা নবিজির কাছে শিক্ষা ও দীক্ষা লাভ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন যুবক। ইমাম ইবনু কাসির (রহ.) বলেছেন,

كان أكثر المستجيبين لله تعالى ولرسوله صلى الله عليه وسلم شباباً ، وأما الشيوخ من قريش فعامتهم بقوا على دينهم ، ولم يسلم منهم إلا القليل

‘আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আহ্বানে সাড়া দানকারীরা বেশিরভাগই ছিল যুবক। আর কুরাইশদের বুড়োরা তো তাদের বাপ-দাদার ধর্মেই অটল ছিল। এদের খুব অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল।’

আবু বকর আস-সিদ্দিক ঈমান এনেছিলেন ৩৭ বছর বয়সে, উমর ইবনুল খাত্তাব ২৭ বছর, উসমান ইবনু আফফান ৩৪ বছর, আলি ইবনু আবি তালিব মাত্র ১০ বছর, তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ ১৪ বছর, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ১৬ বছর, সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস ১৭ বছর, সাঈদ ইবনু যায়িদ ১৫ বছর, আবু উবাইদাহ ২৭ বছর এবং আবদুর রহমান ইবনু আউফ ৩০ বছর বয়সের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। যদিও বয়সের ব্যাপারটা ঐতিহাসিকদের মতে কম-বেশ হতে পারে, কিন্তু এরা প্রত্যেকেই ছিলেন তারুণ্যদীপ্ত।
নবিজির কণ্ঠে এধরনের যুবকদেরই মহিমা ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেছেন,

إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَعْجَبُ مِنْ الشَّابِّ لَيْسَتْ لَهُ صَبْوَةٌ

‘নিশ্চয় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আশ্চর্য হন ওই যুবকের প্রতি, যার মাঝে নেই চিন্তার বিক্ষিপ্ততা ও বিচ্যুতি।’ [আহমাদ, আলমুসনাদ]

যে যুবক তার যৌবনকালকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করবে, কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ তাদেরকে তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে :

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ الله في ظِلِّهِ يومَ لا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ… وشابٌّ نَشَأَ في عِبادة الله

সাতশ্রেণির মানুষকে হাশরের মাঠে আল্লাহ তায়ালা তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে অন্যতম হলো ওই যুবক, যার যৌবন কেটেছে আল্লাহর ইবাদতে। [বুখারি, আসসাহিহ : ৬৬০]

পুরো জীবনকালের ব্যাপারেই যদিও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, কিন্তু যৌবনকালের ব্যাপারে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হাদিসে এসেছে :

عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَا فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ

আবু বারযাহ আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামত দিবসে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে সরতে পারবে না—তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে; তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কী কাজে তা ব্যয় করেছে; তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে এবং তা কোন্ কোন্ খাতে খরচ করেছে এবং কতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল, সে মোতাবেক কতটুকু আমল করেছে।’ [তিরমিজি, আসসুনান : ২৪১৭]

اغْتَنِمْ خَمْساً قَبْلَ خَمْسٍ: حَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَشَبَابَكَ قَبْلَ هَرمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ

‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে সুবর্ণ সুযোগ মনে করো। তোমার যৌবনকে কাজে লাগাও বার্ধক্য আসার পূর্বে, তোমার সুস্থতাকে কাজে লাগাও তোমার অসুস্থতার পূর্বে, তোমার সচ্ছলতাকে কাজে লাগাও অসচ্ছলতার পূর্বে, তোমার অবসরতাকে কাজে লাগাও তোমার ব্যস্ততার পূর্বে, আর তোমার হায়াতকে কাজে লাগাও তোমার মৃত্যু আসার পূর্বে।’ [হাকিম, আলমুসতাদরাক : ৭৮৪৬]

সাইয়িদুনা ইবনু আব্বাস (রা.) বলেছেন,

ما بعث الله نبيناً إلا شاباً ، ولا أوتى العلم عالم إلا وهو شاب

‘আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবিদেরকে যৌবনকালে নবুয়ত দান করেছেন, যৌবনকালেই আলেমদেরকে ইলম প্রদান করা হয়।’

আল-কুরআনে বর্ণিত যুবকেরা

চলুন, আমরা ঘুরে আসি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বাগান থেকে, যে বাগানে ঈমানদীপ্ত যুবকেরা জ্বলজ্বল করে জ্বলছেন। যাদের আলোচনা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার পবিত্র কালামে করেছেন।

আসহাবুল কাহফ : সম্রাট দাকিয়ানুসের শাসনামল। চারিদিকে শিরকের সয়লাব। মানুষ মানুষের পূজায় লিপ্ত। নবিদের শিক্ষা ভুলে পৌত্তলিকতায় নিমজ্জিত পুরো জাতি। গর্জে ওঠলেন সাত যুবক। অস্বীকার করলেন মানুষের উপাসনা। প্রশ্ন তুললেন সম্রাটের মিথ্যে সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে। গ্রেফতার করা হলো তাদের। ঈমান বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে হিজরত করলেন তারা। আশ্রয় নিলেন এক পাহাড়ি গুহায়। ঘুমালেন ৩০০ বছর। আল্লাহর রাহে হিজরতকারী সেই সাত যুবকের ব্যাপারটা আল্লাহ খুব পছন্দ করলেন। সমস্ত ঈমানদার যুবকদের শিক্ষার নিমিত্তে আলোচনা করলেন তার পবিত্র কালামে। সুরা কাহফে আল্লাহ তাদের ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,

إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى

‘নিশ্চয় তারা ছিল তাদের রবের প্রতি ঈমান আনয়নকারী কতিপয় যুবক। (যখন তারা হিজরতের ব্যাপারে মনস্থ করল) আমি তাদের ঈমানকে আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম।’ [সুরা কাহফ, ১৮ : ১৩]

সাইয়িদুনা ইবরাহিম (আ.) : মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। আকন্ঠ শিরকে নিমজ্জিত একটা সমাজে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও ছোটবেলায়ই লাভ করেন তাওহিদের পরিচয়। যৌবনে ছোট্ট এক ঘটনার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন পুরো ব্যবিলনে। পৌত্তলিক জাতি হঠাৎ টের পেল মূর্তিঘরে তাদের পরম যতনে রাখা দেবতাগুলো টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে মাটিতে। এ তো শুধু মূর্তি ভাঙাই নয়, পুরো পৌত্তলিক সমাজব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ। আওয়াজ ওঠল, কে করেছে এই কাজ, কার এত বড় সাহস? কিছু লোক বলল,

سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ
‘আমরা এক যুবককে দেবতাদের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করতে শুনেছি; তার নাম ইবরাহিম।’ [সুরা আম্বিয়া, ২১ : ৬০]

সাইয়িদুনা ইউসুফ (আ.) : কুরআনে বর্ণিত যুবকদের অন্যতম হলেন সাইয়িদুনা ইউসুফ আলাইহিস সালাম। প্রত্যেক যুগ ও শতাব্দির যুবকদের জন্য উত্তম নমুনা রয়েছে ইউসুফ আলাইহিস সালামের মাঝে। সৌন্দর্যতার জন্য এখনও পর্যন্ত তিনি পৃথিবীবাসীর কাছে অনুপম। যার সৌন্দর্যে মাতোয়ারা ছিল স্বয়ং বাদশার স্ত্রী পর্যন্ত। কুরআন সেই ঘটনা তোলে ধরেছে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে :

আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল। মহিলা বলল, শোনো! তোমাকে বলছি, এদিকে আসো।’ সে বলল, ‘আল্লাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লঙ্ঘনকারীরা সফল হয় না।’
অবশ্যই মহিলা তার বিষয়ে (খারাপ) চিন্তা করেছিল, সে-ও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত, যদি না সে তার পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিভাবে, আমি তার কাছ থেকে মন্দ ও নির্লজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন।
তারা উভয়ে দরজার দিকে ছুটে গেল। মহিলা ইউসুফের জামা পিছন দিক থেকে টেনে ধরল। উভয়ে মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বলল, ‘যে ব্যক্তি তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে, তাকে কারাগারে পাঠানো অথবা কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কি শাস্তি হতে পারে?’
ইউসুফ (আ.) বলল, ‘সে-ই আমাকে আত্মসংবরণ না করতে পেরে ফুসলিয়েছে।’
মহিলার পরিবারের জনৈক ব্যক্তি সাক্ষী দিল যে, যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা সত্যবাদী, সে মিথ্যাবাদী। আর যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে, তবে মহিলা মিথ্যাবাদী এবং সে সত্যবাদী।
এরপর গৃহস্বামী যখন দেখলেন, তার জামা পেছন দিক থেকে ছেঁড়া, তখন তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় এটা তোমাদের ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্মক। ইউসুফ, এ প্রসঙ্গ ছাড়ো। আর হে নারী, এ পাপের জন্য তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিঃসন্দেহে তুমিই পাপাচারিনী।
নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, বাদশার স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উন্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি।
যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্যে একটি ভোজসভার আয়োজন করল। সে তাদের প্রত্যেককে একটি ছুরি দিয়ে বলল, ‘ইউসুফ! এদের সামনে দিয়ে যাও।’ যখন তারা তাকে দেখল, হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে ফেলল। তারা বলল, ‘অসম্ভব! এ ব্যক্তি কোন মানব নয়। এ তো কোন মহান ফেরেশতা!’
মহিলা বলল, ‘এ-ই তো সেই ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে।’
ইউসুফ বলল, ‘হে আমার রব! তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব।’
এরপর তার রব তার দুয়া কবুল করে নিলেন। তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। [সুরা ইউসুফ, ১২ : ২৩-৩৪]

এভাবে যারা নিজেকে নিবৃত্ত রাখবে যৌবনের বাঁধভাঙা জোয়ারে ভেসে যাওয়া থেকে, তাদের জন্য সুসংবাদ ঘোষিত হয়েছে রাসুলের জবানিতে :

…وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ

(সাতশ্রেণির মানুষকে হাশরের মাঠে আল্লাহ তায়ালা তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে অন্যতম হলো ওই ব্যক্তি) যাকে উচ্চবংশীয়া রূপসী কোনো নারী অসৎকর্মের জন্য আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৬৬০]

আজকে মুসলিম যুবকরা অশ্লীলতার চোরাগলিতে হারিয়ে গেছে। অবৈধ প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে জীবন-যৌবন সব নষ্ট করার পথ ধরেছে। যেই যুবকরা ছিল উম্মাহর মা-বোনের ইজ্জতের প্রহরী, আজকে তারাই ধর্ষকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। যে যুবকেরা ছিল উম্মাহর বিজয়ের অগ্রসৈনিক, আজকে তারা নিজেদের সোনালি অতীত ভুলে গেছে। আজকে ভুলে গেছে তারা তাদের পূর্বপূরুষ মুহাম্মাদ বিন কাসিমদের ইতিহাস, মাত্র আঠার বছর বয়সে এক মুসলিম বোনের ইজ্জত রক্ষার্থে এসে যিনি জয় করেছিলেন সিন্ধু এবং পুরো ভারত উপ-মহাদেশ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন