আজ ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঝামেলায় পড়ে গেছেন নতুন চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও মাউশি

খবরটি নিচের যেকোন মাধ্যমে শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কৌশলে শাস্তি থেকে বেচে গেলেন এস এম আশফাক হুসেন এবং ঝামেলায় ফেলে গেছেন নতুন চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও মাউশিকে। এ বিষয়ে এস এম আমজাদ হোসেন বলেন,এনটিআরসিএ এর জন্ম হয় ২০০৫ সালের আইনের ২১ ধারার ক্ষমতার বলে। এনটিআরসিএ গঠিত হবার পর নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ যোগ্য সনদ ইস্যু ও প্রত্যয়ন করেন এবং নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য বাধ্যতামুলক করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানের কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা কেড়ে নেন, নিয়োগের সকল ক্ষমতা এনটিআরসিএ এর হাতে নেওয়ার পর নানাবিধ হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এনটিআরসিএ সংবিধানের ২৭,২৮,২৯ ধারাকে লঙ্ঘন করে উপজেলা কোটা স্থাপন করে ২০১৬ সালে ৯ অক্টোবরে নিয়োগ দেন ১২০০০ জন শিক্ষককে আর উপজেলা কোটার মাধ্যমে গলাটিপে হত্যা করেন মেধাবী সনদধারীদেরকে। উচ্চ নম্বর পেয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হয় হাজার হাজার শিক্ষক উপজেলা কোটার ছোবলে। বঞ্চিত হয়ে আন্দোলনের ডাক দেন নিবন্ধিত শিক্ষকদের অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক ও সমন্বয়কারী জনাব এস এম আমজাদ হোসেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে একে একে ১৬৬টি রিট হয়, তখন এনটিআরসিএ এর চেয়ারম্যান ছিলেন জনাব আজহার সাহেব। আজহার সাহেব মামলাগুলোকে মোকাবেলা করেন এবং ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাতটি পয়েন্টে মহামান্য হাইকোর্ট রায় প্রধান করেন। রায়ে উপজেলা কোটা বাতিল হয় এবং সনদের মেয়াদ সনদধারীদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমানের রায় দেন মহামান্য হাইকোর্ট।। জনাব আজহার সাহেব রায় বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি, চলে গেলেন অবসরে। নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে যোগদান করেন এস এম আশফাক হুসেন সাহেব। তিনি যোগদান করে ১৬৬ টি রিটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি নীতিমালা ২০১৮ করেন। তাছাড়া সনদের মেয়াদ সনদধারীদের নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত থাকলেও তা অপব্যাখ্যা করে নিজের ক্ষমতা বলে এন্ট্রিলেভেলে বয়স ৩৫ বছর লিমিট করেন জনাব এস এম আশফাক হুসেন সাহেব। তাছাড়া মহিলা কোটা গোপন রেখে যতখুশি তত আবেদনের মাধ্যমে ৫৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তাছাড়া নিয়োগ না দিয়ে শুধু পরীক্ষা নিয়ে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করেন। ১৪তম, ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে আয় করেন প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। সর্বমোট প্রায় ২১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যান এস এম আশফাক হুসেন সাহেব আর মাত্র নিয়োগ দেন ৩০০০০ শিক্ষক যা সাবেক চেয়ারম্যান আজহার সাহেবই প্রক্রিয়া করে অবসরে গিয়েছিলেন।

এস এম আশফাক হুসেন সাহেবের সাফল্য হলো প্রায় ২১০ কোটি টাকা আর আইন ও কোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধন ধারীগণকে বঞ্চিত করা।

এন্ট্রি লেভেলে বয়স লিমিট করলে ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধন ধারীগণও বসে থাকেন নি, তারা এস এম আমজাদ হোসেন সাহেবের নেতৃত্বে গঠন করেন ৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক কেন্দ্রীয় ফোরাম এবং ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে মহামান্য হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনে উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধিত পিটিশনারদের আবেদন গ্রহণ করে নিয়োগদানের ডিরেকশন দেন। কিন্তু এস এম আশফাক হুসেন সাহেব উক্ত রায় বাস্তবায়ন না করে গোপনে আপিল করে চেম্বার কোর্ট থেকে স্ট্রে নেন। পক্ষান্তরে ৩৫ প্লাস নিবন্ধনধারীদের সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন মহামান্য প্রধানবিচারপতির কোর্টে স্ট্রে ভ্যাকেট করেন।

মহামান্য প্রধানবিচারপতি সহ ছয় জন বিচারপতি ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধন ধারীগণের আবেদন গ্রহণ করে নিয়োগ দেবার নির্দেশ দিলেও এনটিআরসিএ এর চেয়ারম্যান উক্ত রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়োগ বঞ্চিত করেছেন ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধন ধারীগণকে।

এত অপকর্ম করে যখন বুঝতে পেরেছেন তার সামনে বিপদ আছে কারণ উনি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অবমাননা করেছেন তখনই কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করেন সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আশফাক সাহেব । সর্বশেষে ২২মে২০১৯ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট ৩৫ প্লাস দের পক্ষে আবারো রায় দেন, উক্ত রায়কে চ্যালেন্জ করে আপিল করেন এনটিআরসিএ এর চেয়ারম্যান জনাব এস এম আশফাক হুসেন এবং চেম্বার কোর্টে শুনানির শেষে ৩৫ প্লাস দের আপিল মামলাটি টপে সিরিয়াল দেবার নির্দেশ দিলেও সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সিরিয়াল দিয়েছিলেন ২৪২, যাতে শুনানি বিলম্বিত হয় এবং এর ফাঁকে এস এম আশফাক হুসেন সাহেব অবসর নিতে পারেন।

তাছাড়া তিনি জানতে পেরেছিলেন ৩৫ প্লাস দের আপিলে আগের রায় রেফারেন্স টানা হবে যা সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন প্রধান পিটিশনার হয়ে মহামান্য হাইকোর্টের ২৫নং কোর্ট থেকে সাপ্লিমেন্টারী রায় এনেছিলেন গত ২০১৯জানু ২ তারিখে। এস এম আশফাক হুসেন সাহেব বুঝতে পেরেছিলেন মহামান্য প্রধান বিচারপতি সহ ৬জন বিচারপতি ৩৫ প্লাস পিটিশনারদের আবেদন গ্রহন করে নিয়োগ দেবার জন্য যে নির্দেশ দিয়ে আপিল ডিসমিস করেছিলেন তা যদি রেফারেন্স টানা হয় তবে সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন এস এম আশফাক হুসেন সাহেব কারণ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধানবিচার রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩৫ প্লাস দের বঞ্চিত করেছেন যা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধানবিচারপতির কোর্ট লঙ্ঘন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন এস এম আশফাক হুসেন সাহেব । আর সে শাস্তি থেকে বাঁচতেই কৌশলে সিরিয়ালটা পিছিয়ে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছেন তিনি, নতুবা তার জেলও হতে পারতো ।

তিনি বিপদ বুঝতে পেরেই কৌশলে সিরিয়াল পিছিয়ে দিয়ে বিদেশ পলায়ন করেছেন ।

পক্ষান্তরে নতুন চেয়ারম্যান এ দায় নিতে অপারগ হয়ে ভয়ে আছেন বলেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জয়েন করছেন না।।
এতে করে বিপাকে এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়।।
এস এম আশফাক হুসেন সাহেবের সাফল্য হলো
১) তিনি আজহার সাহেবের প্রস্তুত করা ৩০০০০ হাজার নিবন্ধন ধারীদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন।
২) নারীকোটা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না করে নারীদের কোটায় পুরুষের আবেদন ও যতখুশি তত আবেদনের মাধ্যমে ৫৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজের পকেটকে তাজা করেছিলেন।
৩) নিয়োগ না দিয়ে ১৪তম, ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম সার্কোলার দিয়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
৪) ১৬৬ টি রিটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর কারণে এস এম আশফাক হুসেন সাহেবের নামে ১৯টা কন্টেম্পট হয়েছে।
৫) রায়কে অমান্য করে এন্ট্রি লেবেলে বয়স লিমিট করে নিবন্ধন ধারীগণকে বঞ্চিত করেছেন।।
৬) গণ শুনানির নামে কোটি কোটি টাকার ভাউচার তার পকেট তাজা করেছেন।
৭) মহামান্য প্রধানবিচারপতির রায় অমান্য করে ৩৫+দের বঞ্চিত করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
৮) আপিল চলমান অবস্থায় লাইভে এসে কোর্ট অবমাননা করেছেন।
৯) বিবিধ

এখন যদি ৩৫ প্লাস দের আপিল শুনানি বিলম্ব হয় তাহলেও গণ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, কারণ গণ বিজ্ঞপ্তি দেবার আগেই তা স্ট্রে হয়ে যাবে বলে আশাবাদী সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন।।
৩৫+দের সর্বপরিস্থি বিবেচনা করে বলা যাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যদি ৩৫ প্লাস গণ আপিল মোকাবেলা করতে না পারে তবে উনাদের মত হতভাগা এ জগতে আর কেউ নাই।। কারণ একটা চাকুরি পাবার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে খরচ করতে রাজি অনেকেই থাকেন কিন্তু বৈধভাবে কোর্টের মাধ্যমে চাকুরী আদায় করতে টাকা খরচ করতে রাজি না হওয়া বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।।

৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক কেন্দ্রীয় ফোরামের সভাপতি সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সফল হবেন বলে আশাবাদী ৩৫প্লাস নিবন্ধিত শিক্ষকগণ কারণ আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলেই নিয়োগ পেতে পারেন ৩৫প্লাস নিবন্ধন ধারীগণ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আর নিউজ দেখুন