শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২০ ইং, বিকাল ৩:৪৪
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি, ২৭, ২০২০, ১:১৫ অপরাহ্ণ
  • 50 বার দেখা হয়েছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগম বার্তা। এখানকার বাতাস এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে সর্বত্র আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরুপ সাজে। সরেজমিনে উপজেলা, তাড়াশ ঘুরে দেখা গেছে, মুকুলে মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ। তবে এবারও আমের ফলন নিভ্রর করছে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন এই উপজেলার বাসিন্দা।

আম বলতে এক সময় উত্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীকেই বোঝাত। কিন্তু এবার তাড়াশ ছোট-বড় ও মাঝারি গাছগুলোর অবস্থা অনেকটা ভিন্ন। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এখানে তা বিরাজমান। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পুর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। কিছু গাছের মুকুলে পাথরদানা দেখা গেলেও এতে ক্ষতির কিছু নেই। এবার গাছে যে পরিমাণে মুকুল এসেছে পাথরদানার কারণে আমের ফলন তেমন ব্যাহত হবে না।

আরও জানা যায়, আমের ফলন বাড়াতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। সংশ্লিষ্টরা একটু সতর্ক হলেই শতভাগ ফলন পাওয়া সম্ভব। সাধারণত আমের মুকুল আসার পর হোপার পোকার আক্রমণ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হয়ে থাকে। এজন্য আমের গুটি মটর দানার মতো হওয়ার পর দুইবার গাছে কীটনাশক স্প্রে করতে অনেককে পরামর্শ দেয়া হয়। প্রতি লিটার পানিতে মেশাতে হবে ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের তরল কীটনাশক ০.২৫ গ্রাম। আর দানাদার কীটনাশক হলে ০.২ গ্রাম। এর সাথে ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক ০.২ গ্রাম। এই নিয়মে আম গাছে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে আম গাছ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে এবং ভালো ফলন হবে।
উপজেলার নওগাঁ এলাকার মিঠু সরকার সহ আরো কয়েক ব্যক্তি জানান, বাড়ির আশ-পাশে বিভিন্ন জাতের শতাধিক আম গাছ লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরো কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে তিনি জানান। তারা আরোও জানান, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন