মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং, রাত ৪:০০
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি, ১৭, ২০২০, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
  • 147 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শীত মৌসুমে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জের গাছিরা। আঁখের চাষ দিন দিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে খেজুর রসের তৈরি গুড়ের। তাই দিন দিন গাছিরাও ঝুঁকছেন খেজুরের গুড় তৈরিতে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জের বিভিন্ন রাস্তা ও পুকুর ধারে শোভা পাচ্ছে শত শত খেজুর গাছ। বছরের শুরুতেই রাজশাহী অঞ্চলের গাছিরা এসব খেজুরের গাছ স্বল্পমূল্যে লিজ নেয়। শীতের শুরুতেই গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যা করে থাকেন। শীত শুরু হলে মাটির হাড়ি দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে গাছীরা রস সংগ্রহ করে। ফজরের নামাজের আগে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে কড়াই জাল দিয়ে তৈরি করেন গুড়। এসব গুড় স্বাদে ও গুনে ভাল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

রাজশাহীর চারঘাট এলাকার গাছি খায়রুল হোসেন ও জোবাইদুল ইসলাম জানান, ৪-৫ জনের একটি গ্রুপ রাজশাহী থেকে এসে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৩ শতাধিক গাছ লিজ নিয়েছে। এসব গাছ থেকে পাওয়া রস দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই মণ গুড় তৈরি করা হয়। কেমিকেল ব্যবহার না করায় গুড়ের মান যেমন ভাল তেমনি সুস্বাদু। প্রতি কেজি সুস্বাদু গুড় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে এসব গুড় কিনে নিয়ে যায়। তারা আরো জানান, তাড়াশ-রায়গঞ্জ অঞ্চলটি খেজুর গাছ চাষের জন্য উপযোগী। সরকারিভাবে বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো হলে আরো বেশি গুড় উৎপাদন সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় ইসমাইল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম, বেল্লাল হোসেন জানান, খেজুরের গুড়ের পাশাপাশি রস দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরি করলে খুবই সুস্বাদু লাগে। একারণে এ অঞ্চলে খেজুরের গুড়ের চাহিদা বেশি। এছাড়াও সকাল বেলায় খেজুরের রস থেকে খেতে খুবই মজা। শিশু থেকে সব বয়সীর মানুষ রস খেয়ে থাকে।

রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল হক জানান, জেলায় আখের চাষ কমে যাওয়ায় খেজুরের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ জন্য স্থানীয় কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে রাস্তার ধারে ও সরকারী খাস জমিতে খেজুর গাছ রোপণ করা হচ্ছে। আশা করছি দুই-তিন বছরের মধ্যেই গাছীরা এর সুফল পাবে। এ জন্য খেজুর গাছ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে খেজুর গুড় চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন