শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বিকাল ৪:২৪
সর্বশেষ :
সংবাদ শিরোনামঃ
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি, ৯, ২০২০, ৮:১১ অপরাহ্ণ
  • 20 বার দেখা হয়েছে

মিজানুর রহমান,ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় চাইনিজদের তরমুজ চাষ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মধ্য সিংহেশ্বর গ্রামে প্রায় ৪ মাস আগে চীন দেশের তিন সদ্যস্যের একটি দল এসে ১২ একর জমি ২ বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে উন্নতমানের তরমুজ চাষ শুরু করেন। এতে পলিথিনে ঘেরাও দিয়ে ১৬৮ টি বড় সেড নির্মাণ করা হয়। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপন করে পরিচর্যা করছেন। যা দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আসছেন। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল মুঈদ, উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ, অতিরিক্ত পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ এ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন।জমি দাতা রমজান আলী জানান, চীনারা এ দেশে মূলত থ্রী-হুইলার গাড়ীর ব্যবসা করেন। গত বোরো ধানের দাম কম পেয়ে কৃষকদের মাঝে হতাশা ও ধান পুড়িয়ে দেয়ার খবর জানতে পারেন। পরে বিকল্প হিসেবে কৃষকদের তরমুজ চাষে লাভবান হওয়ার জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে এ প্রকল্প শুরু করেন। এতে তাদের বছরে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা লাভ হবে।পরিচর্যাকারী শ্রমিক আঃ আলিম জানান, চীন দেশের মি. ডিং জাং, লেহে কিং ও মি. সান জং এ প্রকল্প করেছেন। আমরা মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে স্থানীয় ১২ জন এখানে কাজ করছি। অপর শ্রমিক মহর আলী জানান, আমরা চাইনিজদের সাথে কাজ করার পাশাপাশি উন্নতমানের তরমুজ চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, চাইনিজরা প্রতি গাছে মাত্র ২ টি করে তরমুজের কড়া রেখে বাকি কড়াগুলো তুলে ফেলে দিচ্ছেন। যাতে তরমুজগুলো অনেক বড় হয় এবং বেশি দামে বিক্রি করা যায়। বিষয়টি আমাদের শিক্ষনীয়।বাংলাদেশে এই প্রথম চাইনিজদের তরমুজ চাষ বাংলাদেশে এই প্রথম চাইনিজদের তরমুজ চাষ।

ফুলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। চাইনিজ জাতের তরমুজ বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে। যার বাজার মূল্য চায়নাতেও বেশি এবং বাংলাদেশে যদি ইমপোর্ট করে বাজারজাত করে উচ্চমূল্য পাওয়া যাবে। যদি এখানে সার্থক হয় এবং আবহাওয়া উপযোগী হয় তাহলে তরমুজ উৎপাদনে অর্থাৎ উচ্চমূলক ফসল উৎপাদনে একটা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এ ফলনে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চিতসহ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ জানান, চাইনিজরা তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি এই প্রথম বাংলাদেশে তরমুজ চাষ করছে। এখানে চীন দেশের তিনজন নাগরিক নিজেই ৩০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করেছে। তারা পলিথিন সীট দিয়ে গ্রিন হাউজ সিস্টেম করে চাষ করছে। কিছু কিছু গাছে ফল ধরা শুরু হয়েছে। তাদের এই চাষে ইতিমধ্যে প্রায় ৭২ লক্ষ টাকার উপর খরচ হয়েছে। তবে চাইনিজরা আশাবাদী যদি মোটামুটি ফলন হয় খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা লাভ হবে। তিনি আরও জানান, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় তাদের যেকোনো পরামর্শে পাশে আছি। চাইনিজরা যদি সফল হয় তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে এই চাষের জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং বিভিন্ন এলাকায় এই চাষ শুরু হতে পারে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন