শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বিকাল ৩:২৯
সর্বশেষ :
সংবাদ শিরোনামঃ
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি, ৯, ২০২০, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
  • 128 বার দেখা হয়েছে

ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

করোনাভাইরাস মানব শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় হাঁচি ও শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। ফুসফুসে সংক্রমণ যত বাড়ে শ্বাসকষ্টও ততই বাড়তে থাকে। বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকের ব্যথার ধরন একেবারে আলাদা। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। মূলত ফুসফুসে সংক্রমণজনিত প্রদাহের ফলে এই ব্যথা হয়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের জ্বর না-ও থাকতে পারে। যেমন- যারা বৃদ্ধ, যারা ধূমপান করেন, যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, যারা ফুসফুসে কোনো আঘাত পেয়েছেন, যাদের কেমোথেরাপি (ক্যান্সারের চিকিৎসা) অথবা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।

লক্ষণ : করোনাভাইরাস বিস্ফোরণ ঘটায় আচমকাই। শুরুটা হয় সর্দি-কাশি ও জ্বর দিয়ে। শ্বাসকষ্ট বাড়ে ধীরে ধীরে। কাবু করে নিউমোনিয়া। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা দেয় সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম। ছড়িয়ে পড়ে গোটা শরীরে। পরিণামে অর্গ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে (প্রথম কিডনি বিকল হয়) মৃত্যু হতে পারে।

চিকিৎসা : এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে অনেকটাই বাঁচা সম্ভব। সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। চোখ, নাক ও মুখ থেকে হাত সরিয়ে রাখা। যাদের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে তাদের খুব কাছাকাছি না যাওয়া। অসুস্থ জীবজন্তু থেকে দূরে থাকা।
খামার, গোয়ালঘর কিংবা বাজারের মতো যেসব জায়গায় জন্তু রাখা থাকে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা।

কোনো পশু স্পর্শ করার পর ভালোভাবে হাত ধোয়া।

ক্ষুধা কিংবা যেসব বিষয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলা।

কিছু পরামর্শ : ঘরের বাইরে যখনই বের হবেন, মাস্ক ব্যবহার করতে ভুলবেন না। প্রচুর ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নিন। কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।

ডিম কিংবা মাংস রান্নার সময় ভালো করে সিদ্ধ করুন। ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। উচ্চ তাপমাত্রায় ভালোভাবে ব্যবহারের পর কাপড় শুকিয়ে নিন। যতটা পারেন গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

লেখক: বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন