1. admin@thepeoplesnews24.com : admin :
  2. shohel.jugantor@gmail.com : alamin hosen : alamin hosen
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

স্বতন্ত্র প্রার্থী কে দমাতে তাড়াশে নৌকা প্রার্থীর মামলা হামলা অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৬৮৭ বার দেখা হয়েছে


সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জানুয়ারি। এ নির্বাচন কে ঘিরে ৮ নং দেশীগ্রাম ইউনিয়ন হামলা মামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম নৌকার প্রার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত বিএনপি দিয়ে তিনি একের পর এক মামলা হামলা করে তাদের নিশ্চিহ্ণ করার চেষ্টা করছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে নৌকার পার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচন করছেন।

সূত্র জানায়, ৮ নং দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো:আব্দুল কুদ্দুস দ্বিতীয় বারের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক। তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় শারীরিক ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ৬ ডিসেম্বর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামেন। এ কারণে ওই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয়ভাবে কেউ নৌকার প্রার্থীর সমর্থনে আবার কেউবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অবস্থান নেন।
এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নৌকার প্রার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকার। ২২ ডিসেম্বর বিকেলে তার দুই ছেলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো: আব্দুল আজিজ ওরফে আজিবর (৭০) উপর। এ সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে তার মাথায় মারাত্মক জখম হয়। তাকে দ্রæত উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ও পরে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকারের সমর্থক, হত্যা মামলার আসামী মো: শরিফুল ইসলাম (৩৬) কে দিয়ে তাড়াশ থানায় বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা ৩৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশী অভিযান শুরু হলে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
এ মামলা কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

২৮ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কুমাল্লু গ্রামে স¦তন্ত্র প্রার্থীর পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা কে কেন্দ্র আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামের লোকজনের অভিযোগ, আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী মোশারফ হোসেন, আব্দুল মতিন, আবু মুছা ও জিয়াউর রহমানের নেত্বতে ১৫/১৬ জনের একটি বাহিনী রাতে লোহার রড় ও হাসুয়া নিয়ে কুমাল্লু গ্রামে পোষ্টার ছেঁড়ে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সর্মথকেরা প্রতিবাদ করায় তারা তফিজ উদ্দিনের চায়ের দোকান ভাংচুর করে ও মারধর করে। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তিনজনকে আটক করেন। এতে ৫জন আহত হয়।
খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। কিন্তু প্রশাসন আটককৃতদের গ্রেফতার না করে ছেড়ে দেয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দেওরা বাজারে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলামের উপর নৌকার সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। এতে নজরুল সহ ৭ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ তাড়াশ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সুলতান মাহমুদ নামের এক এজাহারভূক্ত আসামী কে আটক করে। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নৌকার প্রার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকার এখন জনবিছিন্ন। হামলা মামলার কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে পরিত্যাগ করেছেন। এখন তিনি বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ ধ্বংসের কাজে লেগেছেন। তিনি জনগণের উপর আস্থা না রেখে বিশেষ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে জেতার চেষ্টা করছেন।

নৌকার পার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুস সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা দল করবে , অথচ দলীয় প্রার্থীর সাথে কাজ করবেনা এটা ঠিক না। আমি নিরীহ মানুষ। দ্ব›দ্ব সংঘাত পছন্দ করি না। শুধু আমার পক্ষেই মামলা হয়নি, তারাও আমার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফজলে আশিক বলেন, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দেশীগ্রামেই সংঘাত বেশি হচ্ছে। আমরা শান্তি পূর্ণ পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছি। উভয় পক্ষ কে আইন মান্য করতে বলা হয়েছে।

দয়া করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
©২০১৫ ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized BY Limon Kabir