সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং, রাত ১২:৫৭
রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর, ৩১, ২০১৯, ৬:২১ অপরাহ্ণ
  • 345 বার দেখা হয়েছে

রফিক মোল্লা:
পেশাজীবি প্রত্যেক মানুষেরই নিদিষ্ট একটি কর্মঘন্টা থাকে। তবে শুধু ব্যতিক্রম গণমাধ্যম কর্মীদের বেলায়। এদের নেই কোন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা। রাত কিংবা দিন, যখন ঘটনা তখনই সংবাদের পেছনে ছুটতে হয়। এর মধ্যে বর্তমান ডিজিটাল যুগেতো আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা সংবাদকর্মীদের তারা করে ফেরে। একদিকে অফিসের এ্যাসাইনমেন্ট অন্য দিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যায়ে কে কার আগে নির্ভুল তথ্যের সমন্বয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে অফিসে প্রেরণ ও জনগনকে জানাবে এই আগ্রহ একজন পেশাদার সাংবাদিককে সব সময় চোখ কান খোলা রাখতে বাধ্য করে। এরমধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পরিশ্রমের অন্তনেই। আর দুষ্ট প্রভাবশালীদের হুমকী ধমকী ও চ্যালেঞ্জতো নিত্যসঙ্গী। কারন একদম তৃণমূল থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা খুব সহজ ব্যাপার না। তারপর আবার সেই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বাড়ি কিংবা কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে নির্ভূল সংবাদ লিখে অফিসে পাঠাতে গিয়ে আমার মাত্র এক যুগের সাংবাদিকতা জীবনে অহরহ পারিবারিক, সামাজিক বহু প্রয়োজনীয় কাজে সময় দিতে পারিনি। সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারনে কখন কি কি হারিয়েছি তা আজ আর বিস্তারিত নাই বললাম, অন্য লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। এদিকে এতো পরিশ্রমের পরও শিক্ষা, চিকিৎসা ও তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ জনপদ এনায়েতপুরের সাংবাদিকদের বসার জন্য ছিলনা একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা। বসতে হতো কোন মনোহারী অথবা চায়ের দোকানে। যদিও বনের পাখিও দিন শেষে নিড়ে ফিরে যায়। প্রতিটি কাজের শেষে বুকভরা নিশ্বাস ফেলার জন্য সবারই আপন ঘর থাকে, ঠিক তেমনি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সারা দিনের পেশাদারিত্ব শেষে একটু প্রশান্তি বা উন্নয়ন চিন্তার জন্য প্রেসক্লাব একটি নিরাপদ ঠিকানা বলে আমি মনে করি। এছাড়া প্রকৃত সাংবাদিকদের সেকেন্ড হোম হচ্ছে প্রেসক্লাব। এই চিন্তা থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরের তৃনমূলের সাংবাদিকরা একটি প্রেসক্লাব ভবন নির্মানের স্বপ্ন দীর্ঘ সময় ধরে লালন করে এসেছি। তবে নানা সংকট বিশেষ করে উপজেলা না থাকায় ভৌগলিক সীমারেখা সংক্রান্ত মারপ্যাচে এই অঞ্চলের সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় জটিলতায় পড়েছে। সেখানে প্রেসক্লাব ভবন নির্মান আকাশ কুসুম চিন্তার মত ছিল। তারপরও থেমে থাকেনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওলিয়ে কামেল হযরত খাজা শাহ্ ইউনুস আলী (রহ:) পূর্ণভূমি এনায়েতপুর থানা এলাকার উন্নয়নে গনমাধ্যম কর্মীদের কর্মতৎপরতা। এলাকার সাংবাদিক ও সমাজ উন্নয়নে একটি নিরপেক্ষ প্লাটফর্ম হিসেবে ২০১১ সালে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের সমন্বয়ে এনায়েতপুর-চৌহালী প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ আব্দুস ছামাদ খান। প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা কমিটিতে- সভাপতি মোক্তার হোসেন, সাধারন সম্পাদক রফিক মোল্লা ও অর্থ সম্পাদক পদে মুক্তার হাসান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে একটি জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী প্রেসক্লাব ভবন নির্মানের লালিত স্বপ্নে কাজ করে আসছি ক্লাবের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে। তারপর অবশ্য দু-একজন ষড়যন্ত্র, মিথ্যচার, নানা হুমকি ধমকি এসেছে। তবে সকলের ভালবাসা নিয়ে সত্য ও সুন্দরের সাথে পথচলা কলম সৈনিকেরা থেমে থাকেনি, দামিয়েও রাখতে পারেনি। তারপরও সারাদেশের সাংবাদিকদের মত এনায়েতপুরের সাংবাদিকরাও দেশ-মাটি ও জনতার কল্যাণে কাজ করে আসছে অবিরত। চেষ্টা করেছি প্রেসক্লাবের সদস্যদের পক্ষ থেকে বন্যা, শীত সহ দুর্যোগময় মুর্হুতে মানবিকতার টানে সাধ্যমত কাজ করে যাবার। তবে সেই সাথে আমাদের রয়েছে বিরাট সীমাবদ্ধতা। তারপরও একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ এনায়েতপুর গড়তে নানা রকম ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এ অঞ্চলের সাংবাদিকরা। সকল প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও দুর্ভোগে সর্বাগ্রে ক্যামেরা হাতে এদের দেখা মেলে জাতিকে একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ট ম্যাসেজ পৌছে দেবার জন্য। কিন্তু দিন-রাত রোদ-বৃষ্টি ঝঁরের মাঝে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে একটু প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলার যায়গা ছিল না। এক দশক আগেও ফ্যাক্স ও কম্পিউটারের দোকানে ভিড় ঠেলে কখনও দাড়িয়ে আবার কখনও বসে সংবাদ লিখে পাঠাতে হত। সংবাদ সংগ্রহের চাইতে পাঠাতেও কম বিরম্বনায় পড়তে হতো না। যদিও এনায়েতপুরে সে সময় হাতে গোনা দু-একটি কম্পিউটারের দোকান ছিল। তবুও তাদের সহযোগিতা ভুলবার নয়। এখন সাংবাদিকদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ ডিজিটাল ক্যামেরা সহ প্রযুক্তির কল্যাণে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রেরণ আগের মত জটিল বিষয় না। যেখানে ঘটনা সেখান থেকেই লাইভ সম্প্রচার করা সহ সংবাদ লিখে পাঠাতে আর তেমন বেগ পেতে হয়না। তারপরও পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে সহকর্মীদের নিয়ে বসতে হতো চা, মিষ্টি অথবা অন্য কোন দোকান অথবা অফিসে। এটা দেখতে যেমন বেমানান ছিল তার চেয়ে নিজেদের পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে এটা ছিল বড় লজ্জাজনক। তারপরও পেশাগত দায়িত্বপালন থেমে নেই। ভিতরে ভিতরে চলছে একটি আধুনিক সুবিদা সম্পন্ন প্রেসক্লাব ভবন নির্মানের স্বপ্ন। যেখানে এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্ত চিন্তা ও উন্নয়নের কথা বলার সুযোগ হবে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে মাঝখানে কতিপয় নোংড়া মানুষদের ষড়যন্ত্রে সময়ক্ষেপন হলেও ২০১৪ সালের জুন মাসের দিকে চলে নতুন উদ্যোমে কর্মপরিকল্পনা। সেই মোতাবেক এনায়েতপুর থানার প্রাণকেন্দ্র কেজি মোড়ে প্রেসক্লাব ভবন নির্মানের জন্য মাটি ভরাট শুরু হয়। তারপর একটি অপশক্তির ঝড়যন্ত্রের কবলে পড়ে প্রাণের প্রেসক্লাব। এরপর দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। পরে ২০১৯ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে আবার নতুন উদ্যোমে এলাকার কল্যাণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মানবতাবাদি ও সুন্দর সমাজচিন্তকদের পরামর্শে প্রেসক্লাব ভবন নির্মান কাজ শুরু করা হয়। এ কাজে ক্লাবের সকল সাংবাদিকদের প্রগাঢ় ও ভালবাসার সংমিশ্রন ছিল। জরুরী সাধারন সভা শেষে গুগল থেকে ডিজাইন পছন্দ ও মিস্ত্রি ঠিক করে চলে কর্মযজ্ঞ। সে কারনে মাত্র ৭ মাস চেষ্টা ও কর্মযজ্ঞ শেষে দৃশ্যমান হয় এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের দৃষ্টিনন্দন ভবন। এই প্রেসক্লাবের সফলতার পিছনে কিছু হৃদয়বানদের কথা কখনোই ভুলবার নয়। সারাজীবন এদের ভালবাসার দেনা শোধ হবে না। প্রেসক্লাব ভবন নির্মান করতে গিয়ে আমি সহ অনেক সহকর্মীই জীবনের ঝুঁকি এসেছে বারবার কেউ কেউ চাকরি হাড়ানোর মত অবস্থা। অফিসে দিতে হয়েছে নানা জবাবদিহি। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ভাল থাকায় মহান রবের অসীম কৃপায় সকল ষড়যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে বারবার। হয়নি তেমন কোন বড় ধরনের সমস্যা। শেষে আমাদের ভাল চিন্তারই সফলতা হয়েছে এ স্মৃতিও মনে থাকবে সারা জীবন। যাই হোক সকলের মতামতের ভিত্তিতে ১৭ ডিসেম্বর প্রেসক্লাব ভবন উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। চলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বর্ণিল করার অক্লান্ত পরিশ্রম। দাওয়াত করা হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, সম্পাদক, বিএফইউজের সভাপতি ও মহাসচিব, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। বহুল আকাংখিত অনুষ্ঠানটি প্রায় ২৫ হাজার লোকের উপস্থিতিতে একটি প্রাণবন্ত মিলন মেলায় পরিনত হয়। সকলের মধ্যে এনায়েতপুরকে এগিয়ে নেবার প্রত্যায়, উচ্ছাস ও ভালবাসা লক্ষ করা গেছে। ওই দিন প্রথম প্রহরে জাতীয় ও প্রেসক্লাবের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে প্রেসক্লাব উদ্বোধণ করেন স্থানীয় ও জাতীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। পরে বিশেষ মোনাজাত করেন এনায়েতপুর দরকার শরীফের পেশ ইমাম। সকলের মধ্যে একটি উৎসব মুখর পরিবেশ দেখে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি। এদিকে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ এনায়েতপুর প্রেসক্লাব ভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি আমরা কয়েকজন সহকর্মী। সেদিন দৃপ্ত শপথ নিয়েছিলাম সত্য ও সুন্দরের সাথে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেবার। সেই স্মৃতিও আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

পরিশেষে- অনেক ত্যাগে ও পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্লাটফর্ম থেকেই তাঁত শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা পল্লীখ্যাত যমুনার কোলঘেষা ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর থানাকে উপজেলা বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া নদী ভাঙনরোধ, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে, যৌতুক বিরোধী সহ এনায়েতপুর থানার গণমানুষের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল নিরাপদ উন্নয়নমূখী মঞ্চ হবে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে একঝাঁক মেধাবী তরুণ সাংবাদিকরা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করেছে। এই শুভ কাজের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে প্রেসক্লাব ভবন নির্মানের সাথে যুক্ত হয় এলাকার জনকল্যাণে ভূমিকা রাখা রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবক সহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। এনায়েতপুর প্রেসক্লাব ভবন নির্মানে আপনাদের ভালবাসা আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা। সকলের ভালবাসা, সহযোগিতার কথা মনে থাকবে, স্বরণ রাখবে প্রেসক্লাব যুগের পর যুগ। নতুনদের হাত ধরে এক সময় বহুতল ভবন নির্মান সহ উচ্চতায় পৌছে যাবে প্রেসক্লাব, দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে যাবে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। এটা আমার স্বপ্ন ও দোয়া। তবে এই শিকড়ের কথা ভুলবে না কেও এই প্রত্যাশা রইলো।

লেখক
সাংবাদিক,
সাধারন সম্পাদক
এনায়েতপুর প্রেসক্লাব

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৭,১৫৩
সুস্থ
৯,৭৮১
মৃত্যু
৬৫০

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,২২১,৩৪৬
সুস্থ
২,৭৭৭,৪৫৩
মৃত্যু
৩৭২,৪২৬