মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কে হবে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী

০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

ছবি নিজস্ব


এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ :
 আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুকসুদপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তোরজোর। সবাই মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য। শুরু হয়েছে বিভিন্ন পদের লভিং।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রবিউল আলম শিকদার, মো: কাবির মিয়া ও মহিউদ্দিন আহম্মেদ মুক্ত মুন্সি আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন।
সাধারন ভোটাররা জানান, এবার নির্বাচনে তারা তাদের মনের মত প্রার্থীকে বেছে নিবেন এবং তারা বিগত দিনের হিসাব নিকাশ কষে ভোট দিবেন। বিগত দিনের হিসাব নিকাশ বলতে ভোটাররা বলেন, যারা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন তারা গরীব ও সাধারন ভোটারদের জন্য কতটুক আন্তরিক ছিলেন বা নতুন যিনি হবেন তিনিইবা  কতটুকু আন্তরিক থাকবেন।
২০১০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মো: রবিউল আলম শিকদার মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই সময় তিনি তার হলফ নামায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার অর্থ সম্পদ দেখান। কিন্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার অর্থের পরিমান বেড়ে দাড়ায় বিপুল পরিমানে। ২০১৭ সালের মধ্যে মো: রবিউল শিকদারের অর্থের পরিমান শতকোটি টাকায় পৌছেছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।
মো: রবিউল শিকদার রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ায় মো: শাজাহান তালুকদার নিজে বাদী হয়ে মো: রবিউল শিকদারের দূর্নীতির বিষদ বর্ননা সহকারে বাংলাদেশ দূনীতি দমন কমিশনে গত ১৪ নভেম্বর২০১৭ তারিখ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর মো: রবিউল আলম শিকদার ঢাকায় জায়গা ক্রয় করে একাধিক বাড়ি নির্মান করেছেন, মুকসুদপুরে নতুন নতুন বাড়ি নির্মান করেছেন, নিজ গ্রাম ভাবড়াশুরে নতুন বাড়ি নির্মান করেছেন, ক্রয় করেছেন একাধিক মাইক্রোবাস, ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য নতুন নতুন দোকান তৈরী করেছেন এ ছাড়াও নগদ কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি নিয়ম বর্হিভূত ভাবে আয় করে এসব অবৈধ সম্পদের পাড়ার গড়ে মালিক হয়েছেন।
মুকসুদপুর উপজেলার সকল স্কুলে নিয়োগ দিতেন তিনি নিজেই। এছাড়াও তার হকুম ছাড়া কোন নিয়োগ হলে বিপদে পড়তেন ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ। নিজে নিয়োগ দিয়ে চাহিদা মত টাকা হাতিয়ে নিতেন রবিউল আলম শিকদার। উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিওন নিয়োগেও তিনি লাভবান হয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।
এছাড়া অভিযোগে আরো জানা যায়, তিনি মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ার পর তার ছেলে রিফাতুল আলম মুছাকে ভাবড়াশুর ইউপি চেয়ারম্যান বানান এবং রিফাতুল আলম মূছাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বানান কিন্ত রিফাতুল আলম মূছা ভাবড়াশুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। সাধারন জনগনের বাধার মূখে মূছা সভাপতির পদ হারান।
গত ৩০ জানুয়ারী ৯৮ তারিখে ভাবড়াশুর গ্রামের মৃতঃ রুস্তম শেখের ছেলে কামরুল শেখ নিহত হন এ ব্যাপারে তবিউর রহমান ফাকের বাদীহয়ে ৩১ জানুয়ারী ৯৮ তারিখ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো: রবিঊল আলম শিকদারকে ১নম্বর আসামী করা হয়। শুধু মাত্র উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ার কারনে তার সকল অপকর্ম ধামা চাপা পড়ে যায়।
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী মো: রবিউল আলম শিকদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য মো: শাহজাহান তালুকদার আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবরে তার সকল দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পর্কেও হিসাব দিয়ে তাকে আসন্ন উপজেলা নির্ভাচনে দলীয় প্রার্থী না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাধারন মানুষের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, সময় এসেছে সঠিক ব্যাক্তিকে ভোট দেওয়ার। তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাচনে এমন একজনকে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক যাকে সাধারন জনগন চায়। যিনি সাধারন মানুষের সুখ দু:খে পাশে থেকে কাজ করে যাবেন। 
সরেজমীন সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে মো: রবিউল আলম শিকদার আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী না হয়ে দলীয় প্রার্থী মো: কাবির মিয়া অথবা মহিউদ্দিন আহম্মেদ মুক্ত মুন্সি দলীয় প্রার্থী হলে মুকসুদপুরে আওয়ামীলীগের ভোট বিপ্লব ঘটবে। অনথ্যায় মো: রবিউল আলম শিকদার আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হলে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবির আশংকা থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন সাধারন মানুষ।
এ ছাড়াও সাধারন মানুষ অনেকেই আরো মন্তব্য করেন আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে মুকসুদপুর উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য মো: কাবির মিয়া আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হলে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হবেন। কারন হিসাবে তারা উল্লেখ করেন মো: কাবির মিয়া উপজেলা বাসীর বিপদে আপদে সব সময় পাশে থেকে তাদেরকে বিভিন্ন সময় সহযোগীতা করে থাকেন।
মুকসুদপুর উপজেলা বাসী চেয়ে আছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের দিকে শেষ পর্যন্ত কে হবেন নৌকার মাঝি সেটা দেখার জন্য। কে পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দলীয় মনোনয়ন।

 






নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩