আসেন মারেন আমাদের; কাম হেয়ার…!

৩১ জানুয়ারী, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

ফাইল ছবি

মতামত: ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ শতভাগ চেষ্টা করেছে। সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিল। তবে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেস এত কাহিনী তৈরি করেছে যে, পুলিশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তারা আর সাহস পায়নি মামলার তদন্ত কাজ এগিয়ে নিতে। পরে এটি র‌্যাবকে হস্তান্তর করা হয়। ’ গেল বছরের মে মাসে এমন বক্তব্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক। এটি সংবাদকর্মী নির্যাতনের স্বীকারে গণমাধ্যমের ভূমিকার একটি স্বরব উদাহারণ।

 

বিভিন্ন সময়ে পেশাদার সাংবাদিকদের নানা ভাবে নির্যাতনের ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমগুলোর নড়া চড়া একেবারে কমও ছিলোনা। তবুও খবরের ভিড় ঠেলে প্রায়ই উঠে আসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা। আইনের গ্যাঁড়াকলে সাংবাদিকদের চাপা খাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে,প্রতিবাদও কম হয়নি।

আহত,নিহতসহ নানা ভাবে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটনার মৌসুমে সব সমাজেই থাকে আলোচনার শীর্ষে। কিন্তু সমাজের অন্যান্য ঘটনাগুলোকে গণমাধ্যম আঁকড়ে ধরে যেভাবে পৌঁছে দেয় শেষ অবধি সমাধানে,সংবাদকর্মীদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ততটায় যেন চলে যায় খবরের স্রোতে ভেসে!

 

পরিসংখ্যানের পাতা খুললে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আর্টিকল ১৯-এর এক প্রতিবেদনে এসেছে–  ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের হার ছিল ১২.৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে এই হার বেড়ে দাড়ায় ৩৩.৬৯ শতাংশে।

 

হয়রানির মধ্যে মানহানির দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও রয়েছে সাংবাদিকদের নাম,আছে সাংবাদিকতায় অন্তরায় ঘটাতে উদ্দেশ্যমূলক আক্রমণও। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক।

 

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে– ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পেশাগত কারণে ২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কেবলমাত্র সমকাল পত্রিকার ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান গৌতম দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় ঘটনার প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ২০১৩ সালের ২৬ জুন ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের হাতে চারজন খুন ও দু,জন অপহরণসহ ৩০১ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ওই সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০১৪ সালে দুজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, ২৩৯ জন সংবাদকর্মী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

 

আরেকদিকে, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টারের (এমএমসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে ২১২টি ঘটনায় ৫১২ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতিসহ খুন হয়েছেন পাঁচ সাংবাদিক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের ২০১৩ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিচারে বিশ্বের ১৯৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫ অর্থাৎ প্রায় শেষের বেঞ্চে।

 

শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংবাদ কাভারে যাওয়া দৈনিক প্রথম আলোর কর্মী বন্ধু দীপ্ত’র আর্তনাদ আর হতাশা নিয়ে বিছানায় থাকার দৃশ্য আমাদের প্রজন্মকে বেশ খানেকটাই অনুৎসাহিত করেছে ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে। একটি দুটি উদাহারণ টেনে পুরো অবস্থাটার রেশ টানা এই আরকি!

চলতি সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে পেশাগত কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া আরটিভি’র নিজস্ব প্রতিবেদক সোহেল রানা ও ক্যামেরাপারসন নাজমুল ভাইয়ের ভিডিও চিত্র। যেখানে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বুম হাতে থাকা একজন প্রথম শ্রেণীর সংবাদকর্মীকে স্পট থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন এক অদ্ভুৎ আগন্তুক। যদিও নিরাপত্তারক্ষী বলে তার পরিচয় পাওয়া গেছে প্রাথমিক ভাবে। ঘটনার এক পর্যায়ে রানা ভাই বলেই ফেলেছেন—“মারেন আপনি আমাকে কাম হেয়ার”। ধৈর্য্যের এক বিশাল পরিচয় তুলে ধরার পরই ভারী গলায় এ যেন ছিলো পুরো সাংবাদিক গোষ্ঠির এক আর্তনাদ। এ ঘটনায় ঝড়ও উঠেছে নিন্দার। লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে প্রতিবাদও জানাচ্ছি আমরা। কিন্তু এসব কি কেবলই আত্ম তুষ্টির আনুষ্ঠানিকতা!

নির্যাতনকারীদের ভিডিওসহ প্রকাশ পাওয়া ঘটনাগুলোর দোষীদের কতটা বিচার হয়েছে! আর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কতটুকু ফলোআপ করেছি আমরা! নাকি শাক ঢেকেছে মাছে!

সংবাদকর্মী নির্যাতনের ঘটনাগুলো হয়তো সুশীল সামজে আহা’র বস্তু হয় পাক্ষিক তবে নির্যাতনের ভার বয়ে বেড়াতে হয় গণমাধ্যম আর গণমাধ্যমকর্মীদেরই। দেশ কেন!! বিশ্ব মিডিয়ায় নজর দেন, এই তো—২০১৫ সালেই নির্যাতিত হয়ে মরেছে ১১০ জন। আর, ২০১৬ তে হয়েছে ১৪১জন। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে– অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগের কারণে রাজনৈতিক নেতা বা রাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও আইন অমান্য করার সাহস দেখান।

জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হওয়ায় ২০১২ সালে জাতিসংঘ প্রণীত সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নেওয়া পরিকল্পনা কার্যকর করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও পেশাগত কাজে নিরাপত্তায় আইনও পাস হয়েছে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। কার্যকরের হিসাব রাখছে কে! একবার নিরিবিলি ভেবে দেখবেন কি! রাজনীতিক,শিল্পপতী,প্রশাসন ইত্যাদি-ইত্যাদিসহ সাধারণ মানুষেরা অসহায় বোধ করলে ঠিক কাদের কাছে আশ্রয় পেতে সাহস পান!!

মতামত: লেখক ও সাংবাদিক তাশরিক সঞ্চয়






নামাজের সময়সূচি

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩