মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের রোগ : পারকিনসন্স ডিজিজ

০৯ জানুয়ারী, ২০১৯   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত

  মাহমুদা আক্তার রোজী, ফিজিওথেরাপিস্ট

 

জালাল উদ্দিন কিছুতেই তার হাতের কাঁপুনি বন্ধ করতে পারছেন না। কথা বলার সময় কাঁপুনি আরও বেড়ে যায়। অবাক চোখে হাতের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, এ কার হাত! আমার হাত আমার কথা শুনছে না কেন? ইদানিং হাত পায়েও শক্তিও কম পান। ভয়াবহ বিষন্নতা নিয়ে একদিন গেলেন চিকিৎসকের কাছে। জানলেন তিনি পারকিনসন্স ডিজিজে আক্রান্ত- 

পারকিনসন্স ডিজিজ কী? 

পারকিনসন্স ডিজিজ হচ্ছে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থের নাম ডোপামিন। যখন কোনো কারণে এই ডোপামিন সৃষ্টি না হয় বা যদি এর কার্যক্ষমতা নষ্ট যায় তখন আমাদের শরীর তার স্বাভাবিক নড়াচড়ার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।

উপসর্গ : 

পারকিনসন্স রোগের উপসর্গ অনেক। ব্যক্তি ভেদে উপসর্গ আলাদা হতে পারে। 

১। শরীরে অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনি। বিশেষ করে হাত বা আঙ্গুল কাঁপার কারণে হাতের লেখার পরিবর্তন হতে দেখা যায়, হাতের লেখায় জড়তা দেখা দেয় অথবা সিগনেচার বা স্বাক্ষর করতে হাত কাঁপে। বড় বড় অক্ষরে লেখা শুরু করে লেখাগুলো ছোট হতে শুরু করে। 

২। শরীরের কোনো কোনো জয়েন্টে নড়াচড়া করার ক্ষমতা কমে যাওয়া। হাত পায়ের জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং চলাফেরায় সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যায় হাঁটা-চলা, দাঁত ব্রাশ করা, শার্টের বোতাম লাগানোর সমস্যা, এমনকি ফল ও তরকারি কাটার সময় জড়তা অনুভূত হয়।

৩। ঘাড়, হাঁটু এবং বিভিন্ন মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভব করা, শক্তি কমে যাওয়া।

৪। ঘ্রাণ শক্তি হ্রাস পাওয়া অর্থাৎ খাবার বা ফুলের ঘ্রাণ কম অনুভব করা।

৫। কথা বলার ক্ষমতা হারানো, হঠাৎ করে কথা বলার ধরন পরিবর্তন, একই শব্দ একাধিকবার বলা।

৬। অতিরিক্ত মানসিক অবসাদ অথবা আনন্দঘন মুহূর্তে বা অধিক এক্সাইটমেন্ট- এর সময় হাত কাঁপার সমস্যা বেশি হওয়া।

৭। ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ। এছাড়াও কিছু মানসিক কিছু সমস্যা দেখা যায়, যেমন- ভুলে যাওয়া, একই ঘটনাকে এক এক জনের সাথে বিভিন্নভাবে বলা ইত্যাদি।

৮। অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য।

৯। খাবার গিলতে সমস্যা।

১০। ঘুম কমে যাওয়া। 

১১। যৌন ক্ষমতা হারানো ইত্যাদি।

কারণ : 

আসলে ঠিক কী কারণে পারকিনসন্স রোগটি হয় তা এখনো ভালভাবে জানা যায়নি। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন এটি আসলে জিনগত এবং রাসায়নিক পদার্থের সমষ্টিগত প্রভাবে হয়। যদি কোনো কারণে কলখারকানার রাসায়নিক পদার্থ বা ফসলের মাঠে ব্যবহৃত কীটনাশক বা বালাইনাশক আমাদের শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে তা হলেও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাদের হয়? 

যে কারোই এই রোগটি হতে পারে তবে কিছু কারণে কারও কারও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে- 

১। যদি কারও নিকট আত্মীয়ের এই রোগ থাকে তাহলে তার এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- বাবা, মা, দাদা-দাদির থাকলে এ রোগ হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

২। নারীদের চেয়ে পুরুষদের এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৩। পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ব্যক্তি।

৪। যারা অনেক দিন যাবত নিয়মিত নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে কাজ করেন। যেমন-কলখারকানার শ্রমিক, কৃষক।

চিকিৎসা : 

পারকিনসন্স ডিজিজ সম্পূর্ণভাবে ভালো হবার সম্ভাবনা কম। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়। 

এ রোগের চিকিৎসায় বেশি জরুরি হলো, রোগীর মাংসপেশির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা এবং অস্থিসন্ধিগুলো যাতে শক্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। কিছু মেডিসিনের মাধ্যমে মস্তিকের ডোপামিন লেভেল ঠিক রাখা যায়। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিতে হবে।

 






নামাজের সময়সূচি

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩