উল্লাপাড়ায় ক্ষিরার বাম্পার ফলনেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না চাষীরা

০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

ছবি নিজস্ব প্রতিবেদক

 

জয়নাল আবেদীন জয়ঃ
ক্ষিরার বাম্পার ফলনেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না  চাষীরা। ক্ষিরা বিক্রি করে পরিবহন ভাড়াও না জোটায় এ উপজেলার দূর্গম এলাকার অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমিতেই ক্ষিরা পঁচিয়ে ফেলছেন।


লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে চাষাবাদ ও বাজারে দাম না থাকায়  সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে হাজার হাজার ক্ষিরা চাষী এবার চরম ক্ষতিগ্রস্থ।

 

উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রতি বছর কম বেশি বিপুল পরিমান জমিতে ক্ষিরা চাষাবাদ হয়। উপজেলার মাঠে মাঠে চাষ হওয়া দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির এই ক্ষিরার চাহিদা দেশ জুড়ে। উর্বর পলি মাটিতে অন্য ফসলের পাশাপাশি এখানকার কৃষকরা আগাম ক্ষিরা চাষাবাদ করে বাড়তি আয় করে থাকে প্রতি বছর। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই কৃষকরা আগাম ক্ষিরার চাষাবাদ করে। প্রথম দিকে সপ্তাহ খানেক কৃষকরা ক্ষিরার ভাল দাম পেলেও এখন তা পাচ্ছে না। এর কারন হিসাবে জানা গেছে,এবার উপজেলায় অধিক পরিমান জমিতে ক্ষিরার চাষাবাদ হয়েছে। ফলও বেশি। তাই চাহিদার বিপরীতে বিপুল আমদানিতে আড়তে ক্ষিরার দাম কম। উল্লাপাড়া কৃষি বিভাগও একই তথ্য দিলেন। উল্লাপাড়া কৃষি অফিসের উপ-উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোঃ আজমল হক জানান,এবার উপজেলায় ক্ষিরা চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ১৮০হেক্টর। বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে ২শ'হেক্টর জমিতে। অধিক চাষাবাদ ও ভাল ফলনে বাজারে ক্ষিরার দাম কম বলে তিনি মনে করেন।


শুক্রবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার চর বদ্ধনগাছা ও চাকশা করম আলী ক্ষিরার আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে বিপুল পরিমান ক্ষিরার আমদানি। কৃষকরা ক্ষেত থেকে ক্ষিরা তুলে ভ্যান-রিকসা,নসিমন-করিমন,অটো রিকসা,মিনি ট্রাক,ট্রলি,ভরে আড়তে এনেছেন। আড়তে এক মন প্রতি বস্তা ক্ষিরা জাত ভেদে ১৮০ টাকা থেকে ২শ' টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল আকৃতির অধিক ভাল ক্ষিরা গুলো একটু চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। উল্লাপাড়ার এই দুটি বৃহৎ ক্ষিরার আড়ৎ থেকে প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক ট্রাক ক্ষিরা কিনে নিয়ে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করছে। 

 

চাকশা করম আলী ক্ষিরার আড়তে কথা হলো উপজেলার বলতৈল গ্রামের চাষী নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি ১৫ বস্তা ক্ষিরা বিক্রি করতে এসেছেন এই আড়তে। ২শ'টাকা বস্তা দরে ক্ষিরা বিক্রি হয়েছে তার। জমি থেকে এই ক্ষিরা তুলে আড়তে আনতে তার প্রতি বস্তায় ৬০ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি জানান,আড়াই বিঘা জমিতে শাহজাদী,আলফা,আলব্রিড জাতের হাইব্রিড ক্ষিরা চাষাবাদ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মত। এর বাইরে সে এবং তার সন্তানদের বিনাশ্রমও রয়েছে। এ পর্যন্ত জমি থেকে ৪ হাজার টাকা ক্ষিরা বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষ পর্যন্ত তার জমির সব ক্ষিরা বিক্রি করে খরচের অর্ধেক টাকা জমানো নিয়ে তিনি চিন্তিত। অথচ তিনি গত বছর এক বিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষাবাদ করে ১৮হাজার টাকা লাভ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

একই কথা জানালেন বলতৈল গ্রামের আরেক কৃষক সোলাইমান সরদার। তিনিও আড়াই বিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষাবাদ করে একই রকম ক্ষতির আশংকায় রয়েছেন। তাদের মত ভাল ফলনে দাম না পেয়ে ক্ষিরা চাষাবাদে ক্ষতির সন্মুখিন উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ক্ষিরা চাষী।


উপজেলার চরবদ্ধনগাছা ক্ষিরা আড়তের পাইকার  মজনু মিয়া জানান,তিনি এই আড়ৎ থেকে প্রতিদিন ৩ ট্রাক ক্ষিরা কিনে ঢাকার মিরপুর,যাত্রাবাড়ি,কাওরান বাজারে বিক্রি করেন। বাজারে ক্ষিরার দাম কম প্রসঙ্গে তিনি জানান,প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বাজারে ক্ষিরা ওঠে। এবার সারা দেশে একই সময়ে ক্ষিরা ওঠা,ফলন ও চাষাবাদ বেশি হয়েছে। তাই আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম।

 






নামাজের সময়সূচি

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩