বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ডাঃ জাফরুল্লাহর মিথ্যাচারের নেপথ্যে

১২ অক্টোবর, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক:

সম্প্রতি সময় টেলিভিশন চ্যানেলের ‘সম্পাদকীয়’ নামে নিয়মিত অনুষ্ঠানে একটি টকশো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সেনা প্রধানকে নিয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়া চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বেশ আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ডাঃ জাফরুল্লাহ।

সময় টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সেই বক্তব্য এখানে হুবুহ তুলে ধরা হল: “দ্যাখেন আরজেএস গ্রেনেড, আমি জানি না সময়টি মিলে কি না – আমাদের বর্তমান চীফ অব আর্মি আজিজ সাহেব চট্টগ্রামের কমান্ড্যান্ট ছিলেন, জিওসি ছিলেন, কমান্ড্যান্ট ছিলেন। তাঁর ওখান থেকে একটা ব্যাপক সংখ্যক সমরাস্ত্র, গোলাগুলি চুরি হয়ে গেছিলো, হারিয়ে গেছিলো, বিক্রী হয়ে গেছিলো এবং এজন্য একটা কোর্ট মার্শালও হয়েছিল, আজিজের নামে, জেনারেল আজিজের নামে কোর্ট মার্শালও হয়েছিলো। আজকে উনি……… কিন্তু উনার কেন এসেছে, উনি হলেন ওভারঅল, উনি নিশ্চয়ই এখনতো ওখানে থেকে, এবং আমরা আরো দেখছি মিরপুরে সম্প্রতি কয়েক বাক্স পুকুরের মধ্যে পাওয়া গেছে, এ সবগুলি আমাদের ব্যর্থতা”।

অথচ প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকুরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। তিনি সেপ্টেম্বর ২০১০ হতে জুন ২০১১ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ আর্টিলারি বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার, জুন ২০১১ হতে মে ২০১২ পর্যন্ত ঢাকায় মিরপুরে ৬ স্বতন্ত্র এডিএ বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার এবং মে ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণিত সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোন সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক চাকুরি জীবনে কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখ্খীন হননি’।

বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের অধিকারী চাকুরীরত একজন সেনাপ্রধান সম্পর্কে ন্যূনতম কোন তথ্য, উপাত্ত, প্রমাণ ছাড়া ডাঃ জাফরুল্লাহর মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির এরূপ দায়িত্বজ্ঞানহীন অসত্য বক্তব্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সেনা প্রধান তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেশবাসীর সামনে বিতর্কিত করে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন বিএনপি পন্থী তথাকথিত এই বুদ্ধিজীবী।

একজন সেনাপ্রধান সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এমন মিথ্যে তথ্য প্রকাশ করে তাঁকে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা স্পষ্ট প্রতীয়মান। ডাঃ জাফরুল্লাহর দায়িত্বজ্ঞানহীন এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেনা প্রধানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের সম্মানকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে, পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত সকল সদস্যদের এক ধরণের বিভ্রান্তিতে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী সম্পর্কে এমন মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, ড. জাফরুল্লাহর এমন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবারই প্রথম নয়। এর আগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের সাথে এক হয়ে দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিলেন জাফরুল্লাহ। শহিদুল আলমের সাথে তার ব্যাংকিং লেনদেন এবং যোগাযোগের সকল প্রমাণ শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে।

এছাড়া গত ২২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার সাথে ডা: জাফরুল্লাহর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ফোনালাপ ইউটিউবে প্রকাশ হয়ে পড়ে। তারও আগে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার দায়ে করা জরিমানার পাঁচ হাজার টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেখানে তিনি কাঠগড়ায় উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে এজলাসে বাকবিতণ্ডা, ট্রাইব্যুনাল ও বিচারপতিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলকও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তবে কি কোন অশুভ শক্তির বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নে একের পর এক দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন বিএনপি পন্থী এই বুদ্ধিজীবী ডাঃ জাফরুল্লাহ?