অর্থ-পদের লোভে তারেক রহমানের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সব হারালেন বাবর-পিন্টু

১১ অক্টোবর, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক:

দেশ ও জাতিকে নতুন বাংলাদেশ দেওয়া এবং আওয়ামী লীগ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারেক রহমানের প্ররোচনায় পড়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জন। প্রলোভনে পড়ে ভাল-মন্দ না বিবেচনা করে তারেক রহমানের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তারেক রহমান যে গভীর জলের মাছ সেটি হয়ত ভুলে গিয়েছিলেন বাবর। তাই বিচারের বেলায় বিদেশে পালিয়ে তারেক নিজেকে সাময়িক রক্ষা করতে পারলেও বাবরকে ঠিকই তার কৃতকর্মের জন্য সাজা ভোগ করতে হবে। তারেক রহমানের কূটবুদ্ধির কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন গ্রেনেড হামলায় জড়িত তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তারা।

নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে এবং দেশকে পাকিস্তানের আদর্শে কট্টর ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর জন্য তারেক রহমানের সরাসরি সহায়তায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দদের হত্যা করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের সরাসরি সহযোগিতায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। তারেক রহমানের নির্দেশে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাকিস্তান থেকে আগত জঙ্গিদের সহায়তায় মুফতি হান্নানরা সমাবেশস্থলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়।

গ্রেনেড হামলা ব্যর্থ হলে তার প্রায়শ্চিত্ত সম্পর্কে না ভেবেই ষড়যন্ত্রকারীরা তারেকের পাতানো ফাঁদে পা দেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তার মতে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর, উপমন্ত্রী পিন্টু, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জঙ্গিরা তারেক রহমানের কৌশল সম্পর্কে অবগত না হয়েই শুধুমাত্র টাকা ও পদের লোভে নৃশংস এই ঘটনা ঘটান। তারেক নিশ্চিতভাবে এসব পথভ্রষ্ট নেতা ও কর্মকর্তাদের অর্থ-বিত্ত, পদ-পজিশনের লোভ দেখিয়ে ইসলামের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করতে প্ররোচিত করেন। কিন্তু মূল টার্গেট বিফল হলে দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। পরবর্তীতে ১/১১ পর তারেক রহমান ঠিকই অসুস্থতার অজুহাতে লন্ডনে চলে যান। অথচ তারেকের ছায়াকে অনুসরণ করা ব্যক্তিরা ঠিকই কৃতকর্মের জন্য আইনের হাতে ধরা পড়ে জেলে রয়েছেন।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা অসিম কুমার উকিল বলেন, তারেক রহমান বিএনপি যে কতবড় ক্ষতি করেছেন সেটি টের পাচ্ছেন দলটির কর্মীরা। তারা তারেক রহমানের পাপের ভাগিদার হয়ে কারাগারের অন্ধকারে দিন পার করছেন। পদ-পদবির মোহে অন্ধ হয়ে তারেক রহমানের কথায় সায় দিয়ে নিজেদের সর্বনাশ করেছেন তারা। অথচ তারেক সময়মতো দেশ থেকে পালিয়ে বেঁচে গেলেও বাবর-পিন্টুদের শেষ রক্ষা হয়নি। অন্যের কথায় বুদ্ধিহীন আচরণ করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে তাদের। কিছু বিএনপি কর্মী তারেক রহমানের জন্য মিছিল করলেও বাবর, পিন্টুর জন্য কোনদিন মিছিল করবেন না। এটাই বাস্তবতা। পাপের বাতাসে কাচের মহল যেকোন সময় ধ্বংস হয়ে যায় সেটি ভুলে গিয়েছিলেন বাবর ও পিন্টু। বিএনপির রাজনীতি কতটা ভয়ংকর এবং একই সঙ্গে প্রতারণামূলক সেটি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা। বাবর ও পিন্টু যে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়- সেটি তারেক নিজেই প্রমাণ করেছেন।