জঙ্গিবাদ ও বিশৃঙ্খলার মিশনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাক কূটনীতিককে গ্রহণে অস্বীকৃতি বাংলাদেশের

১১ অক্টোবর, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত ছবি

নিউজ ডেস্ক: 

ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত সাকলাইন সাঈদাকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের দুইটি পত্রিকা। গত ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি টাইমস ও পাকিস্তান টুডের প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। মূলত জঙ্গি সম্পৃক্ততা এবং জঙ্গিবাদকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের নারী কূটনীতিককে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ।

সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের কূটনীতিককে গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না বাংলাদেশ। পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তারেক রহমানের হিংসাত্মক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সাকলাইন সাঈদার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেনে বাংলাদেশ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের এ যৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিষয়টিকে বিতর্কিত করতে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে পাকিস্তান সরকার দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার তারেক আহসানকে বরখাস্ত করেছে বলে জানা যায়। পাকিস্তানের এমন প্রতিহিংসার কূটনৈতিক আচরণে দেশ দুটির সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা।

ডেইলি টাইমস ও পাকিস্তান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়। এরপর ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নারী কূটনীতিক সাকলাইন সাঈদাকে এই পদে মনোনীত করে পাকিস্তান। এ বিষয়ে ঢাকায় কাগজপত্র পাঠিয়ে দিলে বাংলাদেশ সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে ঢাকা থেকে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকী ডেইলি টাইমসকে বলেছেন, ‘কোনো দেশে হাইকমিশনার নিয়োগে সর্বোচ্চ একমাস সময় লাগতে পারে। এতদিন সময় লাগা মানে বুঝতে হবে সাকলাইন সাঈদাকে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে।’ অথচ প্রকৃত সত্য হলো, পাকিস্তানি কূটনীতিক সাকলাইন সাঈদা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কার্যক্রমে লিপ্ত হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বদনাম ছড়িয়েছেন। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে জঙ্গিবাদকে উসকে দিয়েছেন। যেটি একজন কূটনীতিকের কাছে কাঙ্খিত নয়। আইএসআই ও তারেক রহমানের বিশৃঙ্খলার মিশনে যুক্ত হয়ে সাকলাইন সাঈদা অপেশাদার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রুখে দেওয়ার অংশ হিসেবেই সাকলাইন সাঈদাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা কূটনৈতিকদের বিনা কারণে প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণে অস্বীকৃতির রেওয়াজ নেই। এর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। সূত্র মতে, পাকিস্তানের মনোনীত নারী রাষ্ট্রদূতকে এখনো গ্রহণ না করার পেছনেও কারণ রয়েছে। মনোনীত নতুন নারী কূটনৈতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেই তাকে নিয়োগের জন্য আপত্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে কটুক্তি করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের বিরুদ্ধেও নানান ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত সাকলাইন সাঈদা। এমন অপপ্রচারে যুক্ত থাকা কাউকে প্রত্যাখ্যান করা খুবই স্বাভাবিক বিষয় বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. জমির।

তার মতে, একজন কূটনীতিকের কাজ হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করা। অপপ্রচার বা কটুক্তি করা নয়। সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা না করে সম্পর্ক বিনষ্ট করার কাজে লিপ্ত সাঈদাকে বাংলাদেশ অস্বীকৃতি জানানো দোষের কিছু নয়। তার বিরুদ্ধে মোটা দাগে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ পাওয়ার কারণেই বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রহণে বিলম্ব করছে বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। খোদ পাকিস্তানও তো তার দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেওয়া বিদেশে কোনো রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণ করবে না। বাংলাদেশ যা করেছে সেটি আইনসিদ্ধ এবং বৈধ। জেনে শুনে আপনি তো সাপকে ঘরে ঢুকতে দিতে পারেন না! এর আগেও পাকিস্তানের কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সুতরাং বাংলাদেশ সরকার জেনে শুনে জঙ্গিবাদ ও তারেক রহমানের মতো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্ধান পেয়েই পাকিস্তানের কূটনীতিককে গ্রহণ করতে অনীহা দেখিয়েছে। দেশের স্বার্থে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার যা করেছে সেটি গ্রহণযোগ্য এবং যৌক্তিক।

এদিকে যৌক্তিক কারণে পাক কূটনীতিককে বাংলাদেশ গ্রহণ না করলেও অযৌক্তিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারের হাইকমিশনার তারেক আহসানকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক বিবৃতিতে ওই কূটনীতিককে ১১ অক্টোবরের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক ও বাণিজ্য যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু নাগরিক। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার কূটনৈতিক দিক নিয়েও আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে পাকিস্তানের উপ-রাষ্ট্রদূত ইরফানুর রাজাকে বাংলাদেশ অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বহিষ্কার করে। ঢাকার একটি সেমিনারে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালে জঙ্গি কানেকশনের অভিযোগ ওঠার পর ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি। জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত সন্দেহে একই বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা মাযহার খানকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের প্ররোচণায় পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটানোর ষড়যন্ত্র করতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা।