সোয়া ৭ লাখ কৃষক পাবেন ৮০ কোটি টাকার প্রণোদনা

০৭ অক্টোবর, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

সংগৃহীত ছবি

নিউজ ডেস্ক:

 উৎপাদন বাড়াতে ১২টি ফসলে দেশের সাত লাখ ২২ হাজার ৪৭০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকার প্রণোদনা দেবে সরকার।

প্রণোদনা হিসেবে কৃষকরা চলতি অর্থবছরে খরিপ-২ মৌসুমে মাষকলাই ও রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ এবং পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদনে বীজ ও রাসায়নিক সার (ডিএপি ও এমওপি) পাবেন।

ফসল উৎপাদনের সময়কে তিনভাগে ভাগ করা হয়। মধ্য মার্চ থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত খরিপ-১, মধ্য জুলাই থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত খরিপ-২ এবং মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলা হয়। গ্রীষ্মের প্রথমাংশে খরিপ-১, শেষাংশে খরিপ-২ ও শীতকালে রবি শস্য ফলানো হয়।

খরিপ-২ মৌসুমে মাষকলাই ও রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ এবং পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ৬৪ জেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে পরিবার প্রতি সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হবে।

প্রণোদনা-সংক্রান্ত আদেশ ও চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রণোদনার মাধ্যমে এ ১২টি ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা, চাষ এলাকা বৃদ্ধি ও ফসলগুলোর হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ প্রণোদনা কার্যক্রমের অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ থেকে সংকুলান করা হবে। এ জন্য সরকারের কোনো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। প্রণোদনার কারণে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

রোববার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে প্রণোদনা কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে। তবে মন্ত্রী যেহেতু এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন তাই বিস্তারিত কিছু বলছি না। কিছু জানার থাকলে প্রেস ব্রিফিংয়ের পর আসতে পারেন।’

কোন ফসলে কতজন কৃষককে প্রণোদনা

গমের ক্ষেত্রে উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৭০০, ভুট্টার ক্ষেত্রে দুই লাখ ২১ হাজার ৫০০, সরিষার ক্ষেত্রে দুই লাখ ১০ হাজার ২০০, চিনাবাদামের ক্ষেত্রে ১০ হাজার ১০০, গ্রীষ্মকালীন তিলের ক্ষেত্রে ১৮ হাজার, গ্রীষ্মকালীন মুগের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৪০০, শীতকালীন মুগের ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৩০০, খেসারীর ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৬০০, মাষকলাইয়ের ক্ষেত্রে ৩১ হাজার ৫০০, ফেলনের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ৪০০, বিটি বেগুনের ক্ষেত্রে দুই হাজার ৭০ ও বোরোতে উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা ৭১ হাজার ৭০০ জন।

কোন ক্ষেত্রে কী পরিমাণ প্রণোদনা

এক বিঘা জমির জন্য গমের ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ২০ কেজি বীজ, পাঁচ কেজি ধান বীজ, ভুট্টার ক্ষেত্রে দুই কেজি বীজ ও সরিষার ক্ষেত্রে এক কেজি বীজ, চীনাবাদামের ক্ষেত্রে ১০ কেজি বীজ, গ্রীষ্মকালীন তিলের ক্ষেত্রে এক কেজি বীজ, গ্রীষ্মকালীন মুগের ক্ষেত্রে পাঁচ কেজি বীজ, খেসারীর ক্ষেত্রে আট কেজি বীজ, মাষকলাইয়ের ক্ষেত্রে পাঁচ কেজি বীজ, ফেলনের ক্ষেত্রে সাত কেজি বীজ ও বিটি বেগুনের ক্ষেত্রে ২০ গ্রাম বীজ কৃষককে দেয়া হবে।

ধান, গম, ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন তিল, সরিষা ও বিটি বেগুনের ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন।

চীনাবাদাম, গ্রীষ্মকালীন মুগ, শীতকালীন মুগ, খেসারী, মাষকলাই ও ফেলনে প্রত্যেক কৃষক ১০ কেজি ডিএপি ও পাঁচ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।

যে প্রক্রিয়ায় প্রণোদনা পাবেন কৃষকরা

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির মনোনীত উপজেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট মেম্বারের উপস্থিতিতে নির্বাচিত কৃষকের তালিকা উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন হবে। এরপর উপজেলা সদর থেকে সংশ্লিষ্ট কৃষকের ছবি সংবলিত মাস্টার রোলের মাধ্যমে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা বাবদ পাওয়া উপকরণ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।

মাস্টার রোলে উপকরণ গ্রহণকারী কৃষক স্বাক্ষর বা টিপসই দেবেন। ইউপি চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট মেম্বার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি মনোনীত কর্মকর্তা এতে প্রতি স্বাক্ষর করবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কৃষি সহায়তা উপকরণ বিতরণের জন্য ব্লক বা ইউনিয়নভিত্তিক বিতরণ রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট কৃষকের তালিকাসহ যাবতীয় হিসাব ও কাগজপত্র সংরক্ষণ করবেন। কৃষকের তালিকার এক কপি সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে পাঠাবেন। উপ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা থেকে পাওয়া কৃষকের তালিকার এক কপি সংরক্ষণ করবেন এবং এক কপি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠাবেন।