নির্বাচনের আগে আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

০৭ মে, ২০১৮   |   thepeoplesnews24

নির্বাচনের আগে আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ দিন ধরে আবাসিক গ্রাহকদের নতুন গ্যাস-সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে সরকার। বিকল্প হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার বাড়াতে নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়। তবে নির্বাচনের বছরে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আবাসিক খাতে আবারও গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই শুরু হবে গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার কাজ।

অবশ্য জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে গ্যাসের ‘রাজনৈতিক সংযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনতুষ্টির জন্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কিছুদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও সেখানে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া শুরু করা হয়েছিল। দুটি ক্ষেত্রেই নির্বাচনের পরে আবার সংযোগ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যেসব গ্রাহকের অনুকূলে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড নোট) পাস হয়ে আছে, তাঁরাই নতুন গ্যাস-সংযোগ পাবেন। এ ছাড়া যেসব বহুতল ভবনে বৈধ সংযোগ রয়েছে এবং সেখানে ফ্ল্যাটের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন চুলা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, তাদেরও গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে। বারবার সিদ্ধান্ত ও নীতি পরিবর্তনের অভিযোগ এড়ানোর জন্য সরকার এটিকে একেবারে নতুন গ্যাস-সংযোগ বলছে না।

দেশে গ্যাসের সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন যুক্তিতে ২০১০ সালের মধ্য ভাগ থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস-সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখে সরকার। তবে মাঝে দুইবার সেই সিদ্ধান্ত শিথিল করে আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দিয়েছে সরকার। একইভাবে ২০১০ সাল থেকে শিল্পে নতুন গ্যাস-সংযোগ এবং ব্যবহার (লোড) বৃদ্ধি বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তে জরুরি ক্ষেত্রে হাজারখানেক শিল্পে নতুন সংযোগ ও লোড (গ্যাসের চাপ) বাড়ানো হয়।

গ্যাসের সংকট এখনো আছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে এই সংকট মোকাবিলার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেও আবাসিক খাতকে রাখা হয়নি।

তাহলে এখন কেন আবার এমন সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, যে গ্রাহকেরা সংযোগ পাওয়ার জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টাকাপয়সা জমা দিয়ে চাহিদাপত্র পেয়েছেন, তাঁদের সংযোগ না দেওয়া এক প্রকার অবিচার। সরকার কোনো নাগরিকের ওপর এ রকম অবিচার করতে পারে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে, তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে তাঁদের সংযোগ দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আবাসিকে সংযোগ চালুর এই সুযোগে অসংখ্য অবৈধ সংযোগও বৈধ তালিকায় ঢুকে যেতে পারে। সরকার সিদ্ধান্ত পাল্টাবে এটি আঁচ করতে পরে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়েছেন। অবৈধ সংযোগ দিয়ে যেমন তাঁরা টাকা কামিয়েছেন, তেমনি সেগুলো বৈধ করে দিয়েও তাঁরা উপার্জনের ধান্ধায় আছেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে বৈধ আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ। এর মধ্যে ২৭ লাখ তিতাসের বিতরণ এলাকায়। বৈধ চাহিদাপত্র নিয়ে সংযোগের অপেক্ষায় আছেন প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার তিতাসের এলাকায়। অবৈধ গ্রাহক/সংযোগ আছে ৩ লাখের বেশি। এই গ্রাহকেরা গ্যাস ব্যবহার করছেন। কিন্তু সরকার বিল পাচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লিখিত আদেশ এখনো তাঁরা পাননি। তবে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিশেষ কমিটি সম্প্রতি প্রায় ৪ হাজার শিল্পকারখানায় নতুন গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এলএলজি আমদানি শুরু হওয়ার পর শিল্পে গ্যাস-সংযোগ চালু করার সরকারি যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা বাস্তবায়নের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৪ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে ৩ হাজার শিল্পই তিতাস এলাকায়।