গাজীপুরের নির্বাচন নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থগিত হয়েছে

০৭ মে, ২০১৮   |   thepeoplesnews24


সরকারি দলের হেরে যাওয়ার আশঙ্কার পটভূমিতে তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নাটকীয়ভাবে স্থগিত হয়েছিল। চার মাসের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। উভয় ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে রিট চ্যালেঞ্জে শিথিল মনোভাব প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।

খুলনায় যদিও নির্বাচনী প্রচারণা জমজমাট, কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে পর্যবেক্ষকদের অনেকে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রস্তাবিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচনের ওপর একটা কালো ছায়া হিসেবে দেখতে পারেন।

রিট আবেদনকারী এ বি এম আজহারুল ইসলাম পারিবারিক ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। গত রাতে মুঠোফোনে দুই দফা আলোচনায় তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে গাজীপুরের সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হোক, সেটা তাঁর চাওয়া ছিল না। মুখে এ কথা বললেও রিট আবেদনে তিনি ঠিকই নির্বাচন স্থগিতই চেয়েছেন। আর গতকালই তিনি এই রিটটি করেন। তবে এ নিয়ে তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, ‘দরখাস্তে কোথায় কী যে আইনি লেখা হয়েছে!’

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সাভার ও গাজীপুরের প্রশাসন ওই রিট আবেদনকারীর তোলা প্রশ্ন সুরাহা করতে সব রকম প্রশাসনিক পদক্ষেপই নিয়েছিল। সাভার ও গাজীপুরের জেলা ও সদর থানা প্রশাসনকে দিয়ে গণশুনানি করেও এর নিষ্পত্তি করে দেয়। এমনকি তফসিল ঘোষণার এক মাস আগেও স্থানীয় সরকার বিভাগ আদালতে রিটের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে সন্তুষ্টিও দেখিয়েছে।

আজহারুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনি নির্বাচন বন্ধ না চাইলে তাহলে কী চাচ্ছেন? ৫৮ বছর (ভোটার তালিকা অনুযায়ী) বয়সী আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার একটিই দাবি, দক্ষিণ বাড়ইবাড়ি, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, দক্ষিণ পানিশাইল ও ডোমনাগ-এই ছয়টি মৌজা গাজীপুরে নয়, সাভারে থাকুক।’

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, নিষ্পত্তি হওয়া একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্থগিত হয়ে গেছে গাজীপুর সিটি নির্বাচন। যদিও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ফেলেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের নিজস্ব মূল্যায়নও হচ্ছে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা কম। আর এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতিবাচক কোনো ফলাফল দেখতে চায় না ক্ষমতাসীন দল। ফলে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের ফল নিয়ে ঝুঁকির মধ্যেও সরকারকে আপাতত থাকতে হচ্ছে না।